আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
26 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

১)পায়জামা টাখনু থেকে সরে গেলে আমি যদি তা ঢেকে দেই এবং ঢেকে দিতে" তিনবার সুবহানা রব্বিয়াল আলা" সমপরিমাণ সময় লাগে তাহলে নামাজ ভেঙে যাবে শাইখ?


২)সকাল সন্ধ্যায় ১০০ বার করে সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ পড়ি। ‌‌কিন্তু অনেক জায়গায় দেখলাম "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ, সুবহানাল্লাহিল আজিম" এইরকম পড়তে হয়।কোনটা ঠিক হুজুর?'

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
নামাজের ভিতর নড়াচড়া করা যাবেনা।
এক রুকন সমপরিমাণ এমনটি করলে নামাজ ভেঙ্গে যাবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ    
সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের নবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সাতটি (অঙ্গের) ওপর সিজদা করে এবং নামাজে চুল বা কাপড় না গুটায়। -সুনানে আবু দাউদ: ২/১৪

নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ (রহ.) বলেন, হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন তখন মনে হত একটি কাঠ মাটিতে গেড়ে দেওয়া হয়েছে। -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৭৩২২

প্রখ্যাত তাবেয়ি আমাশ (রহ.) থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন তাকে দেখে মনে হত যেন একটি পড়ে থাকা কাপড়। -মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক: ৩৩০৩।

আমলে কাসির নিয়ে বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার নামাজ ভেঙ্গে যাবে।

তবে যদি এমনটি না হয়,তাহলে যদিও নামাজ ভেঙ্গে যাবেনা।
তবে আমলে কলিল হওয়ার কারনে নামাজ মাকরুহ হবে।  

(০২)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ مِائَةَ مَرَّةٍ حِينَ يُصْبِحُ، وَحِينَ يُمْسِي، لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ، إِلَّا أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ، أَوْ زَادَ عَلَيْهِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে ১০০ বার এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার বলে “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি”,
কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে কেউ উপস্থিত হবে না, তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যে একই রকম বলেছে অথবা তার চেয়েও বেশি বলেছে।
(সহিহ মুসলিম: হাদীস নং ২৬৯২)

এটি সকাল–সন্ধ্যার আমল হিসেবে সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০ বার
“সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ, সুবহানাল্লাহিল আজিম” এই বাক্যটি ১০০ বার সকাল–সন্ধ্যায় পড়ার ব্যাপারে কোনো হাদীস নির্দিষ্টভাবে পাইনি।

তবে এই যিকিরের ফজিলত সম্পর্কে সহিহ হাদীস আছে (কিন্তু সংখ্যা/সময় নির্দিষ্ট নয়)

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 

كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ، حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ:
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা,মিজানে ভারী, এবং রহমান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়—
“সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম”।
(সহিহ বুখারি: ৬৬৮২,সহিহ মুসলিম: ২৬৯৪)

তাই এই যিকির যেকোনো সময়, যতবার ইচ্ছা পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, কিন্তু “সকাল–সন্ধ্যায় ১০০ বার” বলে নির্দিষ্ট করা হাদীসে পাইনি। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...