আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
42 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
closed by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ,

আমি বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্রী। আমার পরিবার ওতো ধার্মিক নয়, আম্মু নামায - কুরআন পড়েন, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আব্বু নামায পড়েন না মাঝেমধ্যে জুম্মার নামাজ পড়েন । আমাদের যৌথ পরিবার আমার চাচা , ফুফু এমনকি আব্বুর খালার এবং চাচার পরিবারও সবাই একসাথে থাকি আমরা। আমার পরিবার এর কেউই তেমন ধার্মিক না, তারা পর্দাও বুঝে না। আমি আগে নরমাল হিজাব পড়তাম,২০২১ এর দিক থেকে পরিপূর্ণ পর্দা করার চেষ্টা করি,  আলহামদুলিল্লাহ।নামায -কুরআন সবদিক থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পরিপূর্ণ চেষ্টা করছি। এটা নিয়েও পরিবার থেকে কথা শুনতে হচ্ছে।

এখন আমার জন্য বাসা থেকে পাত্র দেখছে। তারা দীনদারিতাকে প্রাধান্য না দিয়ে টাকা-পয়সা চাকরি এগুলো প্রাধান্য দিচ্ছেন। আমি আমার পরিবারকে বারবার বোঝানোর পরেও তারা ঐ বিষয়ে বুঝতে রাজি নন। সবাই মিলে জোরপূর্বক চেষ্টা করছে বিয়ের ব্যাপারে ছবি দেওয়া নিয়ে আরো এমন বিয়েতে আমাকে রাজি করানো নিয়ে। তারা বলছে এতো কড়াকড়ি আরোপ করলে আমার নাকি বিয়ে হবে না। আরোও বলছে বিয়ে করে তোমার স্বামীর নামাজ কুরআন তুমি ঠিক করে নিও, বিয়ের আগে এসব বেদ্বীনী স্বভাব নাকি স্বাভাবিক।
আমি কোনো অবস্থাতেই এমন একজন জীবনসঙ্গী চাই না। অনেক হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি, আমার এখন কি করা উচিত? আমার পরিবার এর পরিচিতও এমন কেউ ধার্মিক নেই। কোনো ধার্মিক পরিবারও তো একটা ধার্মিক পরিবারের মেয়ে আশা করে , এদিক দিয়ে আমার পরিবার ওতো ধার্মিক না। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি কিন্তু দিনশেষে অনেক হতাশা কাজ করছে। অনুগ্রহ করে পরামর্শ/উপদেশ দিবেন।
জাযাকুমুল্লাহ খইরন।
closed

1 Answer

+1 vote
by (720,840 points)
selected by
 
Best answer
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

বিবাহের ক্ষেত্রে রাসুল সাঃ কুফু মিলাইতে বলেছেন।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ  
 
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ : لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدَّيْنِ تَرِبَتْ يَدَاكَ»

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মূলত) চারটি গুণের কারণে নারীকে বিবাহ করা হয়- নারীর ধন-সম্পদ, অথবা বংশ-মর্যাদা, অথবা রূপ-সৌন্দর্য, অথবা তার ধর্মভীরুর কারণে। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) সুতরাং ধর্মভীরুকে প্রাধান্য দিয়ে বিবাহ করে সফল হও। আর যদি এরূপ না কর তাহলে তোমার দু’ হাত ধূলায় ধূসরিত হোক (ধর্মভীরু মহিলাকে প্রাধান্য না দিলে ধ্বংস অবধারিত)!
(সহীহ বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬, নাসায়ী ৩২৩০, আবূ দাঊদ ২০৪৭, ইবনু মাজাহ ১৮৫৮, আহমাদ ৯৫২১, ইরওয়া ১৭৮৩, সহীহ আল জামি‘ ৩০০৩।)

কুফু সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ  https://www.ifatwa.info/4541/

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
রাসুলুল্লাহ সাঃ উক্ত হাদীসে বলেছেনঃ
তোমরা ধর্মভীরুকে প্রাধান্য দিয়ে বিবাহ করে সফল হও। আর যদি এরূপ না কর তাহলে তোমার দু’ হাত ধূলায় ধূসরিত হোক (ধর্মভীরু মহিলাকে প্রাধান্য না দিলে ধ্বংস অবধারিত)।
,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি দ্বীনদার পাত্রের সাথে বিবাহের জন্য আপনার বাবা মাকে এবং আপনার মুরব্বিদেরকে বুঝানো অব্যাহত রাখবেন, পাশাপাশি আল্লাহতালার দরবারে দোয়া চালিয়ে যাবেন,তদুপরি যদি বেদ্বীন পাত্রের সাথেই বিবাহের আলো হয়,সেক্ষেত্রে বিবাহের আগেই তার সাথে আলোচনা করে নিবেন, তার পরিবারে গিয়ে সে যদি আপনাকে পূর্ণ পর্দা ও পূর্ণ দ্বীন মানার পরিবেশ তৈরীর ওয়াদা দিতে পারলে সেই বিবাহে রাজী হতে পারেন।

তাহলে ইনশাআল্লাহ বিবাহের পর আপাতত আপনার দ্বীন মানতে সমস্যা হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...