আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
30 views
in খাদ্য ও পানীয় (Food & Drink) by (11 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
খাবারের ই কোড গুলো যেগুলো দ্বারা খাবারে হারাম কোন উপাদান আছে বোঝায় এই বিষয়টি জানার পর থেকে আমি নিজে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছি এবং এখন যেসকল খাবারে হারাম খাবারের ই কোড উল্লেখ থাকে সেগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি কিন্তু এড়িয়ে চলে গিয়ে অভিজ্ঞতা এমন হচ্ছে যে প্রতিদিনের জীবনে আমরা যেসকল খাবারই খাইনা কেন তার প্রায় সবকিছুতেই হারাম কোন না কোন উপাদানের উপস্থিতি আছেই। শুধুমাত্র ভাত,তরকারি,ফল ছাড়া বাকি সকল ধরনের খাবারে হারাম উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে।আমার বাচ্চাকে বাহিরের প্যাকেটজাত কোন জিনিসই খেতে দেইনা,পাউরুটি কিনে আনার পর দেখি সেখানেও হারাম ই কোড রয়েছে,এভাবে সকল হারাম খাবার এড়িয়ে চলতে গিয়ে দেখি কারো বাসার তরকারির মধ্যেও হারাম খাবারের উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন,টমেটো সস এর মধ্যে হারাম উপাদান আছে যেটা ছাড়া টমেটো সস বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব না,সেই সস দিয়ে যখন নুডলস,পাস্তা,মুরগীর চাপ,রোস্ট,রেজালা,বিরিয়ানি রান্না করা হয় তখন কি এসব খাবার হারাম হয়ে যায় না???

বলতে গেলে বর্তমান যামানার সকল খাবারেই  ৯৯% হারাম যেকোনো উপাদান থাকবেই, গত কয়েকমাসে এই বিষয় খুবই তিক্ত ও বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। সবদিক সচেতনভাবে বেছে এড়িয়ে চলতে গিয়েও হারাম উপাদানের খাবার খেয়ে ফেলা হচ্ছে। IOM এর গেট টুগেদারে বাচ্চাদেরকে প্রান কোম্পানির ডিভাইনো চকলেট দেয়া হয়েছিল,হারাম খাবার কোড গুলো জানার পর থেকে আমার বাচ্চাকে এই চকলেট খেতে দেইনি,কিন্তু IOM থেকে যখন সব বাচ্চাদেরকে এই চকলেটটা দেয়া হলো তখন মা হিসেবে আবেগে পড়ে বাচ্চাকে চকলেটটা খেতে দিয়েছিলাম কিন্তু বারবার নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্নবানে জর্জরিত হচ্ছি কেন হারাম উপাদান আছে জানার পরও বাচ্চাকে খেতে দিলাম। কেন আল্লাহর রাস্তা অটল থাকতে পারলাম না,শত চেষ্টার পরও কেন পারিনা।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে.....
১.হারাম ই কোড এড়িয়ে চলার পরও যদি ভুলে এমন জিনিস কিনে ফেলা হয় যেটাতে হারাম ই কোড রয়েছে আর ফেরতযোগ্যও নয় তাহলে কি সেটা খাওয়া জায়েজ হবে?
২.মেহমান যদি বাচ্চার জন্য হারাম ই কোড রয়েছে এমন চিপস চকলেট পাউরুটি বিস্কুট নিয়ে আসে তখন এই খাবার গুলো যদি কাউকে দিয়ে দেয়ার অপশন না থাকে, শুধুমাত্র ফেলে দেয়া ছাড়া যদি আমার কাছে আর কোন অপশন না থাকে সেক্ষেত্রে কি করনীয়? আর এই খাবার গুলো ফেলে দিলে কি খাবার অপচয়ের গুনাহ হবে না?
৩.হারাম ই কোড গুলো এড়িয়ে চলতে গিয়ে সব ধরনের খারারই এড়িয়ে চলতে হচ্ছে এজন্য দেখা যায় অনেক সময় বাচ্চার ও স্বামীর হক নষ্ট করছি বা রিজিক নষ্ট করছি।যেমন,স্বামী কোন প্যাকেটজাত খাবার এনে বললেন এটা রান্না করে দাও কিন্তু ঐ খাবারে হারাম ই কোড থাকায় স্ত্রী সেটা রান্না না করে ফেরত দিয়ে দিলো।এটার জন্য কি স্ত্রীর গুনাহ হবে?
৪.এমন অনেক খাবার আছে যেগুলো নিজের রুহু খেতে চায় কিন্তু তাতে হারাম ই কোড রয়েছে সেই খাবার চোখে সামনে থাকার পরও যদি রুহুকে না দেই তাহলে সেটা কি রুহুকে কষ্ট দেয়া হয় বা আল্লাহর দেয়া রিযিকের অপমান করা হয়? এতে কি আমার গুনাহ হবে?
৫. এই হারাম ই কোডযুক্ত খাবারের মাঝে অবস্থানরত আমাদের করনীয় কি? কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে পারি?

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো হারাম উপাদান দিয়ে প্রস্তুতকৃত কোনো খাওয়া, ব্যবহার করা জায়েজ নেই।
সুতরাং যে সমস্ত ই-কোড হারাম বস্তু মিশ্রণের ইঙ্গিত বহন করে,সে সমস্ত বস্তু ব্যবহার করা জায়েজ নেই।  

আল্লাহ তায়ালা বলেন
يا ايها  الذين امنوا  إنما الخمر والميسر  .. رجس  من  عمل الشيطان  فاجتنبوه لعلكم تفلحون 

হে ইমানদারগন নিশ্চয়ই মদ,,,,,, হারাম। এগুলো শয়তানের কাজ। তাই তোমরা ইহা থেকে হেফাজত থাকো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।

নু'মান ইবনে বশির রাযি থেকে বর্ণিত

 ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺤَﻠَﺎﻝَ ﺑَﻴِّﻦٌ ، ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡَ ﺑَﻴِّﻦٌ، ﻭَﺑَﻴْﻨَﻬُﻤَﺎ ﻣُﺸْﺘَﺒِﻬَﺎﺕٌ ﻟَﺎ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻬُﻦَّ ﻛَﺜِﻴﺮٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ، ﻓَﻤَﻦِ ﺍﺗَّﻘَﻰ ﺍﻟﺸُّﺒُﻬَﺎﺕِ ﺍﺳْﺘَﺒْﺮَﺃَ ﻟِﺪِﻳﻨِﻪِ ، ﻭَﻋِﺮْﺿِﻪِ ، ﻭَﻣَﻦْ ﻭَﻗَﻊَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺸُّﺒُﻬَﺎﺕِ ﻭَﻗَﻊَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡِ ، ﻛَﺎﻟﺮَّﺍﻋِﻲ ﻳَﺮْﻋَﻰ ﺣَﻮْﻝَ ﺍﻟْﺤِﻤَﻰ ، ﻳُﻮﺷِﻚُ ﺃَﻥْ ﻳَﺮْﺗَﻊَ ﻓِﻴﻪِ ، ﺃَﻟَﺎ ﻭَﺇِﻥَّ ﻟِﻜُﻞِّ ﻣَﻠِﻚٍ ﺣِﻤًﻰ ، ﺃَﻟَﺎ ﻭَﺇِﻥَّ ﺣِﻤَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ ﻣَﺤَﺎﺭِﻣُﻪُ

নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যেমন কোন রাখাল সংরক্ষিত চারণভূমির পাশে পশু চরায়, আশংকা রয়েছে সে পশু তার ভেতরে গিয়ে ঘাস খাবে। সাবধান! প্রত্যেক রাজারই সংরক্ষিত এলাকা থাকে, সাবধান আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তার হারামকৃত বিষয়গুলো। জেনে, রেখো, দেহের মধ্যে এক টুকরা গোশত আছে। যখন তা সুস্থ থাকে তখন সমস্ত দেহই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন সমস্ত দেহই নষ্ট হয়ে যায়। স্মরণ রেখো, তা হলো 'কালব' হৃদয়।(সহীহ মুসলিম-১৫৯৯)

ই কোড সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ 
,

https://www.ifatwa.info/13824 নং ফাতাওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,
বর্তমান সময়ে বাজারে পাওয়া যাওয়া এলকোহল কি হালাল না হারাম? এ সম্পর্কে বিশিষ্ট ফকিহ শাইখুল ইসলাম তাক্বী উসমানী (দাঃবা) লিখেন,
وان معظم الكحول التي تستعمل اليوم في الادوية والعطور وغيرها لا تتخذ من العنب او التمر انما تتخذ من الحبوب او القشور او البترول وغيره
ভাবার্থঃ এলকোহল যা আজ বিভিন্ন ঔষধ বা আতর/সেন্টে ব্যবহৃত হয়ে আসছে তার অধিকাংশই আঙ্গুর বা খেজুর থেকে তৈরী হচ্ছে না।
বরং তা বিভিন্ন প্রকার শস্যদানা,খোসা,এবং খনিজ পদার্থ ইত্যাদি থেকেই তৈরী করা হচ্ছে।(বিধায় সেগুলো হারাম হবে না যতক্ষণ না মদ হওয়ার পূর্ণবিশ্বাস হচ্ছে)(তাকমিলাতু ফাতহুল মুসলিম 3/608)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন-https://www.ifatwa.info/165

ই কোড খাবারে এলকোহল থাকলে, তা ব্যবহার করা বা খাওয়া নাজায়েয বা হারাম নয়, কেননা বাজারে পাওয়া যাওয়া এলকোহল হারাম নয়।হ্যা, কোনো জিনিষের ব্যাপারে হালাল হারামের সন্দেহ চলে আসলে উক্ত খাবারকে গ্রহণ না করাই উত্তম।তবে গ্রহণ করাও জায়েয।

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
উক্ত হাদীসের আলোকে আমাদের সতর্কতা মূলক হারাম ই কোড থেকে বেঁচে থাকতে হবে।  
(০১)
হারামের মিশ্রণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সে খাবার খাওয়া যদিও জায়েজ, তবে সতর্কতা শ্রেয়।

(০২)
হারামের মিশ্রণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সে খাবার খাওয়া যদিও জায়েজ।

ফেলে দিলে অপচয়ের গুনাহ হবে।

ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোন সুযোগ না থাকলে সেক্ষেত্রে আপনি কোন পশু পাখিকে তাহা খেতে দিতে পারেন।

(০৩)
এর জন্য স্ত্রীর গুনাহ হবে না।

(০৪)
না,গুনাহ হবে না।

(০৫)
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয় উপরে উল্লেখ রয়েছে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...