আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
খাবারের ই কোড গুলো যেগুলো দ্বারা খাবারে হারাম কোন উপাদান আছে বোঝায় এই বিষয়টি জানার পর থেকে আমি নিজে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছি এবং এখন যেসকল খাবারে হারাম খাবারের ই কোড উল্লেখ থাকে সেগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি কিন্তু এড়িয়ে চলে গিয়ে অভিজ্ঞতা এমন হচ্ছে যে প্রতিদিনের জীবনে আমরা যেসকল খাবারই খাইনা কেন তার প্রায় সবকিছুতেই হারাম কোন না কোন উপাদানের উপস্থিতি আছেই। শুধুমাত্র ভাত,তরকারি,ফল ছাড়া বাকি সকল ধরনের খাবারে হারাম উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে।আমার বাচ্চাকে বাহিরের প্যাকেটজাত কোন জিনিসই খেতে দেইনা,পাউরুটি কিনে আনার পর দেখি সেখানেও হারাম ই কোড রয়েছে,এভাবে সকল হারাম খাবার এড়িয়ে চলতে গিয়ে দেখি কারো বাসার তরকারির মধ্যেও হারাম খাবারের উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন,টমেটো সস এর মধ্যে হারাম উপাদান আছে যেটা ছাড়া টমেটো সস বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব না,সেই সস দিয়ে যখন নুডলস,পাস্তা,মুরগীর চাপ,রোস্ট,রেজালা,বিরিয়ানি রান্না করা হয় তখন কি এসব খাবার হারাম হয়ে যায় না???
বলতে গেলে বর্তমান যামানার সকল খাবারেই ৯৯% হারাম যেকোনো উপাদান থাকবেই, গত কয়েকমাসে এই বিষয় খুবই তিক্ত ও বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। সবদিক সচেতনভাবে বেছে এড়িয়ে চলতে গিয়েও হারাম উপাদানের খাবার খেয়ে ফেলা হচ্ছে। IOM এর গেট টুগেদারে বাচ্চাদেরকে প্রান কোম্পানির ডিভাইনো চকলেট দেয়া হয়েছিল,হারাম খাবার কোড গুলো জানার পর থেকে আমার বাচ্চাকে এই চকলেট খেতে দেইনি,কিন্তু IOM থেকে যখন সব বাচ্চাদেরকে এই চকলেটটা দেয়া হলো তখন মা হিসেবে আবেগে পড়ে বাচ্চাকে চকলেটটা খেতে দিয়েছিলাম কিন্তু বারবার নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্নবানে জর্জরিত হচ্ছি কেন হারাম উপাদান আছে জানার পরও বাচ্চাকে খেতে দিলাম। কেন আল্লাহর রাস্তা অটল থাকতে পারলাম না,শত চেষ্টার পরও কেন পারিনা।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে.....
১.হারাম ই কোড এড়িয়ে চলার পরও যদি ভুলে এমন জিনিস কিনে ফেলা হয় যেটাতে হারাম ই কোড রয়েছে আর ফেরতযোগ্যও নয় তাহলে কি সেটা খাওয়া জায়েজ হবে?
২.মেহমান যদি বাচ্চার জন্য হারাম ই কোড রয়েছে এমন চিপস চকলেট পাউরুটি বিস্কুট নিয়ে আসে তখন এই খাবার গুলো যদি কাউকে দিয়ে দেয়ার অপশন না থাকে, শুধুমাত্র ফেলে দেয়া ছাড়া যদি আমার কাছে আর কোন অপশন না থাকে সেক্ষেত্রে কি করনীয়? আর এই খাবার গুলো ফেলে দিলে কি খাবার অপচয়ের গুনাহ হবে না?
৩.হারাম ই কোড গুলো এড়িয়ে চলতে গিয়ে সব ধরনের খারারই এড়িয়ে চলতে হচ্ছে এজন্য দেখা যায় অনেক সময় বাচ্চার ও স্বামীর হক নষ্ট করছি বা রিজিক নষ্ট করছি।যেমন,স্বামী কোন প্যাকেটজাত খাবার এনে বললেন এটা রান্না করে দাও কিন্তু ঐ খাবারে হারাম ই কোড থাকায় স্ত্রী সেটা রান্না না করে ফেরত দিয়ে দিলো।এটার জন্য কি স্ত্রীর গুনাহ হবে?
৪.এমন অনেক খাবার আছে যেগুলো নিজের রুহু খেতে চায় কিন্তু তাতে হারাম ই কোড রয়েছে সেই খাবার চোখে সামনে থাকার পরও যদি রুহুকে না দেই তাহলে সেটা কি রুহুকে কষ্ট দেয়া হয় বা আল্লাহর দেয়া রিযিকের অপমান করা হয়? এতে কি আমার গুনাহ হবে?
৫. এই হারাম ই কোডযুক্ত খাবারের মাঝে অবস্থানরত আমাদের করনীয় কি? কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে পারি?