আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
35 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু,

আমি ২৯ বছর বয়সী একজন মহিলা। আমার বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু সিহরের (যাদুর) কারণে আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে যায় এবং এরপর থেকে তার সাথে আমার আর কোনো যোগাযোগ নেই। বিষয়টির কারণ খুঁজে না পেয়ে পরে রুকইয়াহ করার মাধ্যমে জানতে পারি যে আমার ওপর সিহর করা হয়েছিল। এই ঘটনা প্রায় দেড় বছর আগের। এখনো আমার কিছু জিনজাত সমস্যা রয়েছে, এবং আমি নিজে নিয়মিত সেলফ রুকইয়াহ করছি।

এই সময়ের মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ একটি সবচেয়ে বড় নিয়ামত আমি পেয়েছি—হিদায়াত। যা আমি আগে কখনো পাইনি। এখন বুঝতে পারছি, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা ছিল। আমার স্বামী নামেমাত্র মুসলিম হলেও এমন কিছু গুনাহে লিপ্ত, যা একজন মুসলিম কল্পনাও করতে পারে না। সে অশ্লীলতাকে খুব স্বাভাবিক মনে করে, কিন্তু দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার ভয়ে বিয়েতে আগ্রহী নয় এবং তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা উপলব্ধি নেই। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ তাআলা হয়তো এই কারণেই তাকে আমার জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছেন—আলহামদুলিল্লাহ।

বর্তমানে আমি যুক্তরাষ্ট্রে একটি টিচিং পজিশনে চাকরি করি। আমার কাজের পরিবেশ আংশিকভাবে ফ্রি-মিক্সড হলেও আমার দায়িত্ব মূলত ক্লাস নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হয় না; ক্লাস ছাড়া বাকি সময় আমি বাসায় থাকি। ক্লাস নেওয়ার সময় আমি পূর্ণ পর্দা মেনে চলি—হাত মোজা, পা মোজা ও নিকাব পরিধান করি। আমাকে কখনো পর্দা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুব সামান্যই ফিতনার সম্মুখীন হয়েছি এবং পর্দা বজায় রাখতে কোনো সমস্যায় পড়িনি। আগে আমি পর্দা করতাম না, এখন নিয়মিত করি—এবং এতে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হইনি।

তারপরও আমার অন্তরে অনেক দ্বিধা কাজ করে। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাই এবং বর্তমানে একটি আলিম প্রিপারেটরি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত আছি।

আমি আল্লাহর কাছ থেকে এক বিন্দু পরিমাণও দূরে সরে যেতে চাই না। আল্লাহকে আমি পেয়েছি—এই নিয়ামত হারানোর ভয় আমার অন্তরে গভীরভাবে কাজ করে। বিয়ে নিয়ে আমার ভেতরে ভয় রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে বিবাহিত; তালাক নিয়ে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারি, কিন্তু আমার ইচ্ছা নেই এবং ভয় কাজ করে। আমি কোনো হারাম সম্পর্ক রাখি না, প্রয়োজন ছাড়া কোনো নন-মাহরাম পুরুষের সাথে কথা বলি না এবং কঠোরভাবে মাহরাম-নন মাহরাম সীমা বজায় রাখি।

আমার প্রশ্ন হলো—আমি যদি নিজের চরিত্র ও দ্বীন ঠিকভাবে রক্ষা করতে পারি, তাহলে পুনরায় বিয়ে না করলে কি আমার গুনাহ হবে? আমার বর্তমান আয় কি হালাল? নাকি আমাকে এই চাকরি ছেড়ে দিতে হবে?

আমি যদি বাংলাদেশে ফিরে যাই, তাহলে আমি গুরুতর সমস্যার মধ্যে পড়ে যাব। আমার পরিবার ইসলামি শরিয়াহ সম্পর্কে সচেতন নয়। তারা আমাকে এমন লোকদের সাথে বিয়ে দিতে চায়, যাদের ইসলামি জ্ঞান নেই এবং যারা সমাজের রীতি অনুসরণ করে—যেখানে ইসলামের চিহ্নমাত্রও নেই, শুধু নামেমাত্র ইসলাম। আল্লাহ আমাকে এক বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন; আমি আবার অন্য কোনো বিপদে পড়তে চাই না।

আমার বাবা আমার দায়িত্ব নিতে রাজি নন। এমনকি আমি যদি তার বাড়িতে খুব সাধারণভাবে থেকেও খাই, তবুও তিনি আমার ওপর জুলুম করবেন। ছোটবেলা থেকেই আমি তাকে সবাইয়ের ওপর জুলুম করতে দেখেছি—তার বাড়িতে কেউ স্থায়ীভাবে থাকতে পারে না। তিনি অর্থ ছাড়া আর কিছু বোঝেন না। যদিও আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাকে সম্মান করি, তবুও তিনি আমার কোনো দায়িত্ব নেবেন না। বরং তিনি আমাকে এমন জায়গায় বিয়ে দিতে চান, যেখানে তার আর্থিক লাভ হবে—অর্থাৎ শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা পাওয়া যাবে। এক অর্থে আমাকে “বেচে দেওয়া”-র মতো আচরণ তিনি ইতোমধ্যেই এক বছর ধরে করেছেন।

তিনি নামেমাত্র মুসলিম হলেও তার রাগ ও আচরণ এত বেশি যে কুরআনে বর্ণিত মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল পাওয়া যায়।

আমি এত বিস্তারিত বললাম কারণ আপনারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, তাই আমার পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে বোঝানোর প্রয়োজন ছিল। বাস্তবে আমি চারদিক থেকে আটকে আছি। এই চাকরির কারণে হয়তো আমি ইবাদতের স্বাধীনতা পাচ্ছি। পরিবারের কারও কাছেই আমার কোনো নিরাপত্তা নেই। এই আয়ই আমাকে শুধু আল্লাহর ইবাদত করার সুযোগ, নিজের খাবার এবং মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত করছে। আমার যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই।

তাই আমি জানতে চাই—এই সব বিষয় বিবেচনা করে আমার জন্য কি এই চাকরি ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক, নাকি আপাতত এতে থাকা উত্তম? নাকি আমি ইসলামি শিক্ষায় অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে সেই পথে স্থানান্তরিত হওয়া উচিত? ইনশাআল্লাহ, আমি দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করতে চাই এবং এরপর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার নিয়ত আছে। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আমি ফ্রি-মিক্সড পরিবেশে চাকরি করতে চাই না। কিন্তু বর্তমানে আমার সামনে অন্য কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই।

এই প্রেক্ষিতে আমি নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর শরিয়াহভিত্তিক দিকনির্দেশনা জানতে চাই—

১. আমি যদি তালাক গ্রহণ করে পুনরায় বিয়ে না করি, তাহলে কি আমার কোনো গুনাহ হবে?
২. আমি যদি এখনই এই চাকরি ছেড়ে না দেই, তাহলে কি এতে আমার গুনাহ হবে?
৩. আমি যদি  বাংলাদেশ থেকে মহিলা কাফেলার সাথে মাঝে মাঝে হজ্জ বা উমরাহ করতে যাই—এটি কি শরিয়তসম্মতভাবে অনুমোদিত হবে?

আমি এটি করতে চাই মূলত আমার অন্তর পরিশুদ্ধ রাখার জন্য। আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ভয় আমার ভেতরে খুব গভীর। যে কোনো মূল্যে আমি আল্লাহর কাছেই থাকতে চাই—দুনিয়ার কিছুই আমার প্রয়োজন নেই। উমরাহতে যাওয়ার সময় (মহিলা কাফেলার সাথে একা গিয়ে) আমি হিদায়াত পেয়েছি। হজ্জ বা উমরাহর সওয়াব না পেলেও আমার জন্য তাতে আপত্তি নেই—আমি শুধু চাই আমার অন্তর আল্লাহর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ থাকুক।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
আপনি যদি বিবাহ না করেন, সেক্ষেত্রে যদি গুনাহ মুক্তভাবে জীবনযাপন করতে পারেন, তাহলে আপনার জন্য গুনাহ হবে না।

তবে এতে রাসুল ﷺ এর সুন্নাতের উপর আমল করা হবেনা।

এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

(০২)
কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে,আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ﻳَﺎ ﻧِﺴَﺎﺀ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻟَﺴْﺘُﻦَّ ﻛَﺄَﺣَﺪٍ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀ ﺇِﻥِ ﺍﺗَّﻘَﻴْﺘُﻦَّ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺨْﻀَﻌْﻦَ ﺑِﺎﻟْﻘَﻮْﻝِ ﻓَﻴَﻄْﻤَﻊَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣَﺮَﺽٌ ﻭَﻗُﻠْﻦَ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻣَّﻌْﺮُﻭﻓًﺎ

(তরজমা) তোমরা (পর পুরুষের সাথে) বাক্যালাপে কোমলতা অবলম্বন কর না। যাতে এরূপ লোকের অন্তরে আকাঙ্ক্ষা (সঞ্চার) হয়, যার অন্তরে কুপ্রবৃত্তি রয়েছে। (সূরা আহযাব : ৩২)

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﻟَﺎ ﺗَﺪْﺧُﻠُﻮﺍ ﺑُﻴُﻮﺕَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥ ﻳُﺆْﺫَﻥَ ﻟَﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﻃَﻌَﺎﻡٍ ﻏَﻴْﺮَ ﻧَﺎﻇِﺮِﻳﻦَ ﺇِﻧَﺎﻩُ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﺇِﺫَﺍ ﺩُﻋِﻴﺘُﻢْ ﻓَﺎﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻃَﻌِﻤْﺘُﻢْ ﻓَﺎﻧﺘَﺸِﺮُﻭﺍ ﻭَﻟَﺎ ﻣُﺴْﺘَﺄْﻧِﺴِﻴﻦَ ﻟِﺤَﺪِﻳﺚٍ ﺇِﻥَّ ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﺆْﺫِﻱ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﻓَﻴَﺴْﺘَﺤْﻴِﻲ ﻣِﻨﻜُﻢْ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﺴْﺘَﺤْﻴِﻲ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺤَﻖِّ ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﺄَﻟْﺘُﻤُﻮﻫُﻦَّ ﻣَﺘَﺎﻋًﺎ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﻫُﻦَّ ﻣِﻦ ﻭَﺭَﺍﺀ ﺣِﺠَﺎﺏٍ ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﺃَﻃْﻬَﺮُ ﻟِﻘُﻠُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻭَﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻦَّ ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻜُﻢْ ﺃَﻥ ﺗُﺆْﺫُﻭﺍ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﺃَﻥ ﺗَﻨﻜِﺤُﻮﺍ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟَﻪُ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪِﻩِ ﺃَﺑَﺪًﺍ ﺇِﻥَّ ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﻛَﺎﻥَ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻈِﻴﻤًﺎ

হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ।(সূরা আহযাব-৫৩)

উপরোক্ত আয়াতের ভিত্তিতে বলা যায় যে,
পুরুষের জন্য বিনা প্রয়োজনে কোনো বেগানা নারীর সাথে কথা বলা নিষেধ।তবে গায়রে মাহরাম আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পর্দার আড়ালে থেকে বলার অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।
সূরা আহযাব : ৩২; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৭৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২০৩৮; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৫৯; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৬; ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ২৬৯

প্রশ্ন হল নারীদের আওয়াজ কি সতরের অন্তর্ভুক্ত?
এ সম্পর্কে উলামাদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।এমনকি হানাফি মাযহাবের উলামাদের মধ্যেও মতবিরোধ রয়েছে-
হানাফি উলামাদের কিছুসংখ্যকের গবেষকদের বর্ণনামতে নারীদের আওয়াজ সতরের অন্তর্ভুক্ত।তবে এ রেওয়াত মারজুহ(অগ্রগণ্য নয়)।
অন্যদিকে কিছুসংখ্যক গবেষকদের বর্ণনামতে নারী আওয়াজ সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়।এ রেওয়াত-ই রাজেহ(অগ্রগণ্য) ।অর্থাৎ ফিৎনার অাশঙ্কা না থাকলে কোমলতা পরিহার করে প্রয়োজনে গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে নারী কথা বলতে পারবে।
.
বিস্তারিত জানুনঃ   
,
এ ব্যাপারে আরব বিশ্বের সর্বোচ্চ ফতোয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা উত্তর দিয়েছেন,

اختلاط الطلاب بالطالبات والمدرسين بالمدرسات في دور التعليم محرم لما يفضي إليه من الفتنة وإثارة الشهوة والوقوع في الفاحشة ، ويتضاعف الإثم وتعظم الجريمة إذا كشفت المدرسات أو التلميذات شيئاً من عوراتهن ، أو لبسن ملابس شفافة تشف عما وراءها ، أو لبسن ملابس ضيقة تحدد أعضاءهن ، أو داعبن الطلاب أو الأساتذة ومزحن معهم أو نحو ذلك مما يفضي إلى انتهاك الحرمات والفوضى في الأعراض

বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানকালীন ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকার সহাবস্থান হারাম। কেননা, এটি ফেতনা, অবাধ যৌনতা ও অশ্লীলতার দিকে ধাবিত করে। এক্ষেত্রে যখন শিক্ষিকারা কিংবা ছাত্রীরা নিজেদের সতরের কোনো অংশ খোলা রাখে কিংবা অন্যের সামনে পিনপিনে পোশাক, অঙ্গভঙ্গী প্রকাশক আঁটসাঁট জামা পরিধান করে কিংবা তারা যখন ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্রা ইত্যাদি করে তখন পাপাচার আরো বৃদ্ধি পায় এবং অপরাধ আরো বিশাল হয়ে ওঠে; যা সম্ভ্রমহানি ও ইজ্জত লুণ্ঠন পর্যন্ত গড়ায়। (ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা ১৭/৫৩)

ফাতাওয়াতুল লাজনাতিতদ্দায়িমা (১২/১৫৬)-তে এসেছে,

الاختلاط بين الرجال والنساء في المدارس أو غيرها من المنكرات العظيمة ، والمفاسد الكبيرة في الدين والدنيا ، فلا يجوز للمرأة أن تدرس أو تعمل في مكان مختلط بالرجال والنساء ، ولا يجوز لوليها أن يأذن لها بذلك

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ও অন্যান্য স্থানে নারী-পুরুষের সহাবস্থান ঘটলে দীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে বড় বড় ফেতনা-ফ্যাসাদ ও পাপাচার সংঘটিত হবে। সুতরাং নারীর জন্য জায়েয নয় নারী-পুরুষের মিশ্রিত পরিবেশে শিক্ষকতা কিংবা চাকুরি করা। আর অভিবাবকের জন্য জায়েয নয় তাকে এর অনুমতি দেয়া।

★ছেলেরা ছেলেদের প্রতিষ্ঠানে এবং মেয়েরা মেয়েদের প্রতিষ্ঠানে পড়বে এবং পড়াবে। বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে এর প্রতি সর্বোচ্চ লক্ষ রাখা ও গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। 

কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,

زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاء

মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী…। (সূরা আলি ইমরান ১৪)

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنْ النِّسَاءِ

আমি আমার পরে মানুষের মাঝে পুরুষদের জন্য নারীদের চাইতে অধিকতর ক্ষতিকর কোন ফিতনা রেখে যাই নি।(বুখারী ৪৮০৮ মুসলিম ২৭৪০)

ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমাতে এসেছে,

 فلا يجوز للمرأة أن تَدرس أو تعمل في مكان مختلط بالرجال والنساء ، ولا يجوز لوليها أن يأذن لها بذلك

সুতরাং মেয়েদের জন্য এমন প্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখা কিংবা চাকরি করা জায়েয হবে না যেখানে নারী-পুরুষের সহাবস্থান রয়েছে এবং অভিভাবকের জন্য জায়েয হবে না তাকে এর অনুমতি দেয়া। (ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা ১২/১৫৬)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
নারীদের কন্ঠ যেহেতু পর্দার অন্তর্ভুক্ত, তাই প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যাদের ক্লাস নেন তাদের মধ্যে যদি প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরাও থেকে থাকে, তাহলে এমতাবস্থায় আপনার ক্লাস নেওয়া জায়েজ হচ্ছে না।

এমতাবস্থায় আপনার প্রতি পরামর্শ হলো উক্ত চাকরি ছেড়ে দিয়ে যেখানে আপনি পরিপূর্ণভাবে পর্দা মেইনটেন করে চলতে পারবেন, সেখানে আপনি চাকরি করবেন।

প্রয়োজনে প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করতে পারেন, যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা থাকবে।

আর যদি আপনি যাদেরকে পড়ান,ছাত্ররা যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয়, বালেগ না হয়, সেক্ষেত্রে সেখানে চাকরি করতে কোন সমস্যা নেই।

তবে সর্বাবস্থায় আপনি যেহেতু পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করছেন। তাই আপনার ইনকাম হালাল হবে।

শরয়ী সীমারেখার আওতায় থেকে নারীরা যেকোনো চাকুরী করতে পারে।

আরো জানুনঃ

(০৩)
এটি শরীয়তে অনুমোদিত নয়।

আপনাকে অবশ্যই মাহরান পুরুষের সাথে হজ বা ওমরায় যেতে হবে।

আপনি চাইলে আপনার বাবা বা আপনার ভাই আপনার চাচা ইত্যাদি কোন মাহরাম পুরুষের সাথে যাবেন।

আপনি যদি এভাবে মহিলাদের সাথে হজ্ব বা উমরায় যান, সেক্ষেত্রে যদিও আপনার হজ্ব বা ওমরা আদায় হয়ে যাবে। তবে মাহরাম পুরুষ ছাড়া যাওয়ার দরুন আপনার গুনাহ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...