আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
75 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ

আমার এক প্রতিবেশী ছোট বোন আছে ।ওর বয়স ১৬ বা ১৭ হবে। সম্ভবত ১ বছর আগে থেকে ঐ বোনের জিনগত সমস্যা। প্রথম এর দিকে বেশি সমস্যা হত না।তবে ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারি মাসে ও নামাজ এ অজ্ঞান হয়ে গেছিল।সুরা শুনলেই চিৎকার দিতো ।You tube এ রুকইয়ার আয়াত দিলেও চিৎকার করত।সুরা নাস ফালাক ভুলে গেছিল। তখন আমি ওর মাকে মোটামুটি জোর করেই রুকইয়া করাতে বলি।রুকইয়া করানোর পর তেমন কোনো কিছুই হয় নি। ঐ সময় ও সপ্নে দেখতো যে ওকে কোনো একটা আয়াত ১১ বার পড়তে বলা হয় যেইটা পড়লে ও ভ্যানিশ হয়ে যাবে ।ও ৭ বার পড়েছিল সপ্নে । আরো অনেক লক্ষ্যন ছিল যা দেখে রাকি বলেছিল যে আশিক জীনের প্রভাব। বাসায় নিয়ে আসার পর ওর মা অন্য এক রাকি কে আবার দেখায় তখন ঐ রাকি পারিবারিক শত্রুতার কথা বলে।রুকইয়া করানোর সময় ও দেখেছিল যে কালো বড় চোখ ওর দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর একটা পুতুলে অনেক গুলো পেরেক দেয়া।আরো দেখেছিল যে ওর চুল,নখ নিয়ে ওর চাচি কোনো একটা কবরে পুঁতে রাখে। তারপর মোটামুটি রাকির পরামর্শে ভালোই ছিল। কিন্তু আমল ঠিকমতো করতে পারতো না।তাই মাঝে মাঝেই সমস্যা হত।ওর মা আমাকে না জানিয়ে এর মধ্যই ৩ বার কবিরাজ নিয়ে আসছিল। ঐ বাচ্চা মেয়েটা আল্লাহ কে অনেক ভালোবাসে। ও মাশাআল্লাহ অনেক কঠোর পর্দা করতো। আমার সাথে দেখা হলেই বাচ্চাটা বলতো যে আপু আমাকে বলো কিভাবে আল্লাহকে পাবো। গত পরশু ওর মা হঠাৎ করে আমাদের বাসায় এসে বলে যে ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। পরে আমি ওদের বাসায় যাই। তখন দেখি যে ও কখনো কান্না করছে আবার কখনো হাসছে। কোনো হুশ ছিল না। এর মধ্যে বার বার বলতেছিল যে ও যেই যুগে আছে এইটা অতীত।ও এখানকার না ।ও টাইম ট্রাভেল করতেছে। আল্লাহ ওকে যা দেখাচ্ছে আমরা তাকে দেখতে পাচ্ছি না ।ও বলছিল যে ওর মা ,ওর ভাই ,ওর দাদি সবাই ইহুদি।ওর ভাই ওকে মেরে ফেলবে। আবার বলেছিল যে যারা আমার পর্দা নষ্ট করবে ওরা জাহান্নামী। ঐ অবস্থায় ওর মা আবারো কবিরাজ নিয়ে আসে।তখন ঐ বাচ্চা মেয়েটা বারবার বলছিল যে,"Nothing is impossible for Allah.Allah Will protect me ." বারবার বলতেছিল আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে নেবে।তারপর আরোও অনেক খাপছাড়া কথা।এর মধ্যে ওদের বাসায় দেয়ালে লিখছে শীঘ্রই আমাদের ফিরে যেতে হবে। এইটা শেষ জামানা। সময় খুব দ্রুতই যাচ্ছে। তারপর যখন কবিরাজ চলে যায় আমিও বাসায় আসি ।আর ওর মা ওকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুমায় দেয়। ওকে কয়েক মাস আগে নিউরোলজিস্ট কে দেখানো হয়েছে। কালকে রাতে আবার ওর বাসায় গিয়ে দেখি ও গানের তালে তালে নাচতেছিল ,গান শুনতেছিল ,নিকাবের মুখ খুলে বাইরে গেছিলো।ওর মাকে বলছে যে ওর নাকি শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।যা ও স্বাভাবিক থাকলে কখনোই করতো না ।ও অনেক দ্বীনদার ছিল। কালকেও ওর মায়ের হাতে ধরে রিকোয়েস্ট করলেও ওর মা কবিরাজ আনতে চাচ্ছে।ওর মা বলতেছে যে রুকইয়া ধীর পদ্ধতি।ঠিক হওয়ার আগেই ও মরে যাবে। মানতেই চাচ্ছে না।আমি শুধু ওনার পা ধরাই বাকী রাখছি সব ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছি । বোঝেনি ।এক মাস আগে ওকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কে দেখানো হয়েছে। ওখানে রিপোর্ট নরমাল ছিল।
প্রশ্ন ১: এখন আমি প্রতিবেশী হিসেবে আর কি করতে পারি ? আর ওর মাকে আর কিভাবে বোঝাতে পারি ?

প্রশ্ন ২ : ও যে এই রকম আচরণ করছে মানে নামাজ পরছে না, গান শুনছে এতে কি ওর পাপ হচ্ছে?
প্রশ্ন ৩: আমি যদি ওর খুব খুব করে দুআ করি ।এ থেকে কি পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব না?

দয়াকরে আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন।যাতে বাচ্চা মেয়েটাকে আল্লাহ সুস্থ করে দেন।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
সর্বপ্রথম পরামর্শ দিবো,ভালো কোনো বিশুদ্ধ আকিদার মুদাব্বিরের শরণাপন্ন হওয়ার।মুদাব্বির মানে যিনি কুরআন হাদীস থেকে সেহেরের চিকিৎসা করে থাকেন।যাকে রুকইয়ায়ে শরঈয়্যাহ বলা হয়।
তাছাড়া আপনাকে ঘরোয়া ভাবে কিছু রুকইয়ার পরমার্শ দিচ্ছি,
(১)সকল প্রকার ফরয ওয়াজিব ইবাদত যত্নসহকারে পালন করা।এবং সকল প্রকার হারাম ও নাজায়ে কাজ হতে বেঁচে থাকে।
(২) অধিক পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত করা।
(৩)দু'আ, জায়েয তাবীয ও যিকিরের মাধ্যমে নিজেকে হেফাজতের চেষ্টা করা।

নিম্নোক্ত দু'আকে সকাল সন্ধ্যা তিনবার করে পড়া।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ،
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/3469

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) আপনি তার জন্য দু'আ করেন। সাধ্যানুযাযী তার সুস্থতা কামনা করে দান সদকাহ করতে পারেন।
(২) সে যদি সজ্ঞানে এগুলো না করে থাকে, তাহলে তার কোনো গোনাহ হবে না।
(৩) জ্বী, আপনি দু'আ করে যান। অবশ্যই আল্লাহ শুনবেন।
আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ করে দেন।আমীন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...