আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
25 views
in পবিত্রতা (Purity) by (43 points)
আসসালামু আলাইকুম
১।একবার অযু করে নামাজ পড়ে তারপর সেই অযু ধরে রেখে পরের ওয়াক্তের নামাজ পড়ে যদি মাসিকের রাস্তা চেক করে দেখি যে কোনো সাদা স্রাব বের হয়েছে কিনা। এটা চেক করি কারণ একই অযুতে যেহেতু ২ ওয়াক্ত নামাজ পড়েছি তাই নামাজ হয়েছে কিনা সিওর হওয়ার জন্য। চেক করতে গিয়ে দেখি যে একদম মাসিকের রাস্তার বাহিরে কিছু নেই কোনো পিচ্ছিল টাইপ কোনো কিছুই নেই কিন্তু চামড়ার আবরণ এক্টু ভেদ করে ভিতরে চেক করলে দেখি যে সামান্য পিচ্ছিলতা অনুভুত হয়।প্রশ্ন হচ্ছে-

ক) সাদা স্রাব বের হয়েছে কিনা এবং নামাজ হয়েছে কিনা এক্ষেত্রে কত টুকু জায়গা চেক করা উচিৎ??
খ) আমি চেক করে একদম বাহিরের দিকে কিছু পাই নি কিন্তু একটু চামড়া ভেদ করে পিচ্ছিলতা অনুভুত হয়েছে কিন্তু হাতে কিছু দৃশ্যমান পদার্থ পাই নি।এক্ষেত্রে আগের ওয়াক্তের অযু দিয়ে পরের ওয়াক্তের নামাজ কি হয়েছে?

গ)মাসিকের রাস্তার বাহিরে কোনো পিচ্ছিলতা না থাকলেও ভিতরে পিচ্ছিলতা অনুভুত হওয়া কি মহিলাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যাপার নাকি অসুস্থতা??শারীয়াহ কি বলে এ বিষয়ে?

২।ফরজ নামাজে ২ রাকাত পড়ে ৩য় রাকাতে দাঁড়িয়ে সুরা ফাতিহা পড়ে অন্য সুরার জন্য বিসমিল্লাহ বলার সাথে সাথে যদি মনে পড়ে যে এখন অন্য সুরা না তখন সজ্ঞে সজ্ঞে রুকুতে চলে গেলে কি সিজদা সাহু লাগবে?

1 Answer

0 votes
by (714,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
যদি স্রাব লজ্জাস্থানের ভিতরে থাকে, তাহলে সেই স্রাব দ্বারা নামায ভঙ্গ হবে না। এবং অজুও ভঙ্গ হবে না।  তবে লজ্জাস্থানের বাহিরে চলে আসলে অজু ভঙ্গ হবে । 

ثم المراد بالخروج من السبيلين مجرد الظهور وفي غيرهما عين السيلان ولو بالقوة، لما قالوا: لو مسح الدم كلما خرج ولو تركه لسال نقض وإلا لا

https://www.ifatwa.info/50নং ফাতাওয়ায় আমরা উল্লেখ করেছি যে,
লিকুরিয়া রোগ যা মহিলাদের জরায়ুতে হয়।
যার অর্থ হল জরায়ু থেকে সাদাস্রাব নির্গত হওয়া।
সাদাস্রাব নাপাক।যা নির্গত হলে অজু চলে যায়।কাপড়ের যে অংশে লাগবে সেটুকু ধৌত করতে হবে।তা নাজাসতে গলিজা।এক দিরহামের বেশী হলে নামায হবে না।

এই সাদাস্রাব নির্গত হওয়া দুই প্রকার।
ক/
সাদাস্রাব মাঝেমধ্যে নির্গত হয়।অর্থাৎ হঠাৎ জরায়ুতে চলে আসে।
এমতাবস্থায় যদি হঠাৎ নামাযের মধ্যে বা নামাযের পূর্বে নির্গত হয়, তখন কাপড় পাল্টিয়ে লজ্জাস্থান ধৌত করা পূর্বক নতুন করে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।তারপর পূনরায় নামায পড়তে হবে।

খ/
যদি কোনো এক নামাযের পূর্ণ ওয়াক্ত ধারাবাহিক সাদাস্রাব নির্গত হতে থাকে।যেমন মাগরিবের নামাযের পূর্ণ ওয়াক্ত তথা ১ঘন্টা৩০মিনিট ধারাবাহিক সাদাস্রাব নির্গত হতে থাকে। তাহলে এমতাবস্থায় উনাকে মা'যুর গণ্য করে মা'যুরের হুকুম উনার উপর আরোপ করা হবে।

মা'যুরের হুকুম হল,
মা'যুর ব্যক্তি এক ওয়াক্তের জন্য এক অজু করবেন।
তারপর উক্ত অজু দ্বারা উক্ত ওয়াক্তের ভিতর যতসম্ভব উনি ফরয নফল ইত্যাদি ইবাদত করতে পারবেন।যখন ওয়াক্ত চলে যাবে তখন অজুও শেষ হয়ে যাবে।পূনরায় ভিন্ন ওয়াক্তের জন্য ভিন্ন অজু করতে হবে।ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যা-৫/২২৩/২২৪

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم فَذَكَرَ خَبَرَهَا وَقَالَ " ثُمَّ اغْتَسِلِي ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ وَصَلِّي "

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তারপর গোসল করবে এবং প্রত্যেক সলাতের জন্য অযু করে সলাত আদায় করবে।
(আবু দাউদ ২৯৮.ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ ঋতুবতী নারীর হায়িযের ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত নির্গত হওয়া প্রসঙ্গে, হাঃ ৬২৪), আহমাদ (৬/৪২, ২৬২)

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ، اسْتُحِيضَتْ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم أَنْ تَنْتَظِرَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي فَإِنْ رَأَتْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ

‘ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশের ইস্তিহাযা হলো। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হায়িযের দিনসমূহে (সলাত ইত্যাদির জন্য) অপেক্ষা করার পর গোসল করে সলাত আদায় করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর অযু করে এক ওয়াক্ত সলাত আদায়ের পর রক্ত দেখা গেলে পরের ওয়াক্তের জন্য পুনরায় অযু করে সলাত আদায় করতে বললেন।
(আবু দাউদ ৩০৫)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার নামাজ আদায় হয়ে গিয়েছে। কোন সমস্যা নেই।

ক, এক্ষেত্রে দেখতে হবে যে লজ্জাস্থানের বাহিরে সাদাস্রাব আসে কিনা! তখন সাদা স্রাব বের হয়েছে বলে ধরতে হবে।

তবে যদি শুধুমাত্র লজ্জাস্থানের অভ্যন্তরেই সাদাস্রাব থাকে, তাহলে এটা নির্গত হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে না।

খ, এক্ষেত্রে আগের ওয়াক্তের অযু দিয়ে পরের ওয়াক্তের নামাজ হয়েছে।

গ, এটি যদি সর্বদা হয়,তাহলে অসুস্থতা। 

মাঝে মাঝে বা কোন ক্ষেত্রে অথবা উত্তেজনা বশত এমনটি হয়ে থাকলে তাহলে এটি স্বাভাবিক।

(০২)
না,এক্ষেত্রে সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবেনা। 
আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 47 views
0 votes
1 answer 143 views
...