আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
87 views
in পবিত্রতা (Purity) by (8 points)
edited by
১.হাত বা পায়ে অনেকসময় ভালোভাবে ধোঁয়ার পরও দেখা যায় নখের আশেপাশে কালো বালুর মতো থাকে(নখ পরিপূর্ণ কাটা থাকলেও)!আকারেও খুবই ছোট!এখন এই কালো বালু কি পানি পৌছাতে বাঁধা দেয়?আর ওজুর পরও এই কালো বালু লেগে থাকলে কি ওজু বা ফরজ গোসল হবেনা?

২.পায়ের আঙ্গুলের ক্ষেত্রে সামনের নখ কাটলেই তো হবে তাইনা?নখের দুইপাশে কি কাটতে হবে?মানে সেখানেও কি নখ কেটে পানি পৌছানো জরুরি? আবার অনেকসময় নখের কোনা মাংসের ভিতরে ঢুকে যায়,ব্যাথায়ও হয়।তখনও কি সেটা না কাটলে ওজু হবে?

৩.সাধারণ  গোসল (গোসলের ৩ ফরজ মেনে)করলে কি আর পুনরায় ওজু করতে হয়না?আর এজন্য  কি গোসলের আগেই ওজুরও নিয়ত করতে হবে?

৪.কারো যদি এমন হয় যে,অভুলেশনের সময় নামাজে দাড়ালে ব্যায়াম হবার ফলেই বেশিরভাগ সময় স্রাব চলে আসে,এমন অবস্থায় সে কিছুটা কুজো হয়,মেরুদন্ড টা একটু বাকিয়ে দাড়িয়ে নামাজ পড়ে তাহলে কি তার নামাজ হবে?আর এমতাবস্থায় কি কেউ মাজুর হয়?যেহেতু নামাজের বাহিরে স্রাবের সমস্যা তেমন হয়না বরং নামাজ পড়াকালীন হয়?

অথবা এই অবস্থায় কেউ বসে নামাজ পড়তে পারবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

পবিত্রতা (অযু/গোসল) ব্যতীত নামাজ কবুল হবে নাঃ

 عَنْ اَبِى الْمَلِيْحِ عَنْ اَبِيْهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم: لَا يَقْبَلُ اللهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُوْرٍ وَلَا صَدَقَةً مِنْ غُلُوْلٍ 

– অর্থঃ হযরত আবূ মালিহ তাঁর পিতা (উসামা রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:- আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্রতা ব্যতীত নামাজ কবুল করবেন না এবং অবৈধ সম্পদের সাদকাও কবুল করবেন না। (সুনানে নাসাঈ হাদীস নং-০৬)

অজুর ক্ষেত্রে অজুর অঙ্গগুলো এবং ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে পুরো শরীর পরিপূর্ণভাবে পানি দ্বারা ভেজানো আবশ্যক।
যদি কোনো অংশ না ভিজে,তাহলে অযু,গোসল হবেনা।

আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.) বলেন, ‘মানুষ যদি পবিত্রতা অর্জনের অঙ্গে তৈলাক্ত বস্তু (তেল, ক্রিম) ব্যবহার করে, তাহলে দেখতে হবে যদি উক্ত তৈলাক্ত বস্তুটি জমাট বাঁধা ও আবরণবিশিষ্ট হয়, তাহলে পবিত্রতা অর্জনের পূর্বে অবশ্যই তা দূর করতে হবে। যদি তৈলাক্ত বস্তু সেভাবেই জমাট বাঁধা অবস্থায় থেকে যায়, তাহলে তা চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছতে বাধা দেবে। এতে করে তখন পবিত্রতা শুদ্ধ হবে না।

কিন্তু যদি তৈলাক্ত বস্তুটির কোনো আবরণ না থাকে কিন্তু পবিত্রতার অঙ্গগুলোর ওপর সেগুলোর চিহ্ন অবশিষ্ট থেকে যায়, তাহলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু এ অবস্থায় ওই অঙ্গের ওপর হাত ফিরিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সাধারণত তৈলাক্ত বস্তু থেকে পানি আলাদা থাকে। সুতরাং হতে পারে, পবিত্রতার ক্ষেত্রে পুরো অঙ্গে পানি পৌঁছবে না।’ (ফাতাওয়াত তাহারাহ, পৃষ্ঠা : ১৭৪)

বিস্তারিত জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে এটি আপনার নখে পানি পৌছাতে বাঁধা দেয়না।

আর ওজুর পর এই কালো বালু লেগে থাকলেও ওজু বা ফরজ গোসল হবে।

(০২)
সামনের নখ কাটলেই হবে।

(০৩)
এক্ষেত্রে পুনরায় অযু করতে হয়না।

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০৪)
এক্ষেত্রে তার নামাজ হবে।

প্রশ্নের বিবরণ মতে সে মা'যুর নন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...