আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
38 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম হুজুর।

নিম্নের হাদিসটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

আমি যখন নাজরানে গিয়েছিলাম, তখন সেখানকার খ্রিস্টানরা আমাকে জিজ্ঞাসা করল:
“তোমরা কুরআনে পড় না কি: ‘হে হারুনের বোন!’ (অর্থাৎ হযরত মরিয়মকে সম্বোধন করে), অথচ মূসা তো ঈসার জন্মের অনেক আগে হয়েছে?”
যখন আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফিরে এসে এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন:
“ইন্নাহুম কানূ ইউসাম্মূনা বিআসমাইন নাবিয়্যীনা ওয়াস সালিহীনাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম”
বাংলা অনুবাদ: “নিশ্চয়ই তারা (প্রাচীনকালের লোকেরা) তাদের সন্তানদের নাম রাখতো পূর্ববর্তী নবীগণের এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের নামে।”
হাদিসের মান: সহিহ (অথেনটিক)।
এই হাদিসটি সূরা মরিয়ম (১৯:২৮)-এর “হে হারুনের বোন!” সম্বোধনের ব্যাখ্যা করে। নবী (সা.) বলেছেন যে, প্রাচীনকালে লোকেরা ধার্মিক ব্যক্তি বা নবীদের নামে সন্তানের নাম রাখতো এবং সম্মানসূচকভাবে তাদের সাথে যুক্ত করে সম্বোধন করতো।
★ তাহলে ঈসা (আ) এর মাতা মরিয়মকে হারুনের বোন বলার কারণ বুঝতে পারলাম।

★ কিন্তু মূসা (আ) এবং হারুন (আ) এর পিতার নাম ছিলো ইমরান। অথচ কুরআনে ঈসা (আ) এর মাতা মরিয়মকে ও ইমরানের কন্যা বলে সম্বোধন করা হয়েছে।

যখন ইমরানের স্ত্রী বলল, “হে আমার প্রতিপালক! আমার গর্ভে যা আছে তা আমি তোমার জন্য উৎসর্গ করলাম, মুক্ত (তোমার ইবাদতের জন্য)। অতএব তুমি আমার থেকে কবুল কর। নিশ্চয় তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
সূরা ইমরান, আয়াত ৩৫

বাইবেল এবং খ্রিষ্টান সূএ দাবি করে বলছে মরিয়মের পিতার নাম জোয়াকিম।

প্রশ্নঃ ৩/ মূসা (আ) - হারুন (আ) এর পিতার নামের মতো মরিয়মের পিতার নাম ও কি ইমরান ছিলো?

প্রশ্ন ৪/ নাকি ইমরানের কণ্যা মরিয়ম বলতে মরিয়মকে ইমরানের বংশের কণ্যা বুঝানো হয়েছে?

1 Answer

0 votes
by (714,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(১-২)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

یٰۤاُخۡتَ ہٰرُوۡنَ مَا کَانَ اَبُوۡکِ امۡرَ اَ سَوۡءٍ وَّ مَا کَانَتۡ اُمُّکِ بَغِیًّا ﴿ۖۚ۲۸﴾ 

হে হারূনের বোন! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না এবং তোমার মাও ছিল না ব্যভিচারিণী।
(সুরা মারইয়াম ২৮)

মুসা আলাইহিস সালাম-এর ভাই ও সহচর হারূন আলাইহিস সালাম মারইয়ামের আমলের শত শত বছর পুর্বে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। এখানে মারইয়ামকে হারুন-ভগ্নি বলা বাহ্যিক অর্থের দিক দিয়ে শুদ্ধ হতে পারে না। মুগীরা ইবনে শো'বা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানবাসীদের কাছে প্রেরণ করেন, তখন তারা প্রশ্ন করে যে, তোমাদের কুরআনে মারইয়ামকে হারূন-ভগিনী বলা হয়েছে। অথচ মুগীরা এ প্রশ্নের উত্তর জানতেন না। ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ঘটনা ব্যক্ত করলে তিনি বললেনঃ তুমি বলে দিলে না কেন যে, বনী ইসরাঈলগণ নবীদের নামে নাম রাখা পছন্দ করতেন” [মুসলিমঃ ২১৩৫, তিরমিযীঃ ৩১৫৫] এই হাদীসের উদ্দেশ্য দু'রকম হতে পারে।

(এক) মারইয়াম হারূন আলাইহিস সালাম এর বংশধর ছিলেন বলেই তাঁর সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে- যদিও তাদের মধ্যে সময়ের অনেক ব্যবধান রয়েছে; যেমন আরবদের রীতি রয়েছে। যেমন তারা তামীম গোত্রের ব্যক্তিকে أخا تميم এবং আরবের লোককে أخا العرب বলে অভিহিত করে। [ইবন কাসীর]

(দুই) এখানে হারূন বলে মুসা আলাইহিস সালাম এর সহচর হারূন নবীকে বোঝানো হয়নি বরং মারইয়ামের কোন এক জ্ঞাতি ভ্রাতার নামও ছিল হারূন যিনি তৎকালিন সময়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং এ নাম হারূন নবীর নামানুসারে রাখা হয়েছিল। এভাবে মারইয়াম হারুন-ভগিনী বলা সত্যিকার অর্থেই শুদ্ধ। [দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]

(০৩)
মূসা (আ) ও হারুন (আ)-এর পিতার নাম যেমন ইমরান ছিল, মরিয়ম (আ)-এর পিতার নামও ইমরান ছিল।

কিন্তু তিনি মূসা (আ)-এর পিতা ইমরান নন।
অর্থাৎ:
মূসা (আ)-এর পিতা: ইমরান ইবন কাহিস (বনী ইসরাঈলের প্রাচীন যুগ)

মরিয়ম (আ)-এর পিতা: ইমরান (যাকারিয়া (আ)-এর যুগ, বহু শতাব্দী পরে)

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহিমের পরিবার ও ইমরানের পরিবারকে মনোনীত করেছেন।”
(সূরা আলে ইমরান: ৩৩)

এখানে “আলে ইমরান” বলতে মরিয়ম (আ)-এর পরিবার বোঝানো হয়েছে।

(০৪)
এটা বংশ/সম্মানসূচক সম্বোধন, রক্তের ভাই নয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...