আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
19 views
in সালাত(Prayer) by (4 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ শাইখ।


যতটুকু জানি নামাজ পড়া অবস্থায় ওজু ভেঙে গেলে ওজু করে এসে যেখানে ওজু ভেঙেছে সেখান থেকেই পড়া শুরু করা যাবে।
আমি চারটা অবস্থার কথা বলছি। আলাদাভাবে প্রতি অবস্থায় ওজু ভেঙে গেলে কোথা থেকে নামাজ শুরু করবো একটু বলবেন দয়া করে।


১) দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা পড়ছি অথবা সূরা ফাতিহা শেষ করে অন্য সূরা পড়ছি অথবা রুকু, সিজদা/বসে আত্তাহিয়াতু পড়া অবস্থায় আছি এমন সময় ওজু ভেঙে গেলে কি আবার প্রথম থেকে পড়া শুরু করবো? (সূরা ফাতিহা পড়ছি ওজু করে এসে এটাই আবার প্রথম থেকে শুরু করবো,অন্য কোনো সূরা পড়ছি ঐ সূরাই আবার প্রথম থেকে শুরু করবো, আত্তাহিয়াতু পড়ছি আবার প্রথম থেকে আত্তাহিয়াতু পড়া শুরু করবো ব্যাপারটা এমন শাইখ?নাকি যতটুকু পড়েছিলাম তারপর থেকেই পড়তে পারবো?

২) দাঁড়িয়ে সূরা পড়া অবস্থায় ওজু ভাঙলে আবার ওজু করে এসে "আল্লাহু আকবার" বলে হাত বেঁধে তারপর সূরা পড়া শুরু করবো নাকি সরাসরি হাত বেঁধে সূরা পড়া শুরু করে দিবো?


৩) অনেক সময় দেখা যায় নামাযের মাঝখানে সাদা স্রাব বের হয়েছে বুঝতে পারছি। তো এইসময় নামাজ ভেঙে বাথরুমে গিয়ে পরিস্কার হয়ে পায়জামা পাল্টে ওজু করে এসে নামাজ একদম প্রথম থেকে "আল্লাহু আকবার" বলে শুরু করবো নাকি যে অবস্থায় ছিলাম ওখান থেকেই পড়বো? যেমন ধরুন "সূরা কুরাইশের" মাঝখানে ছিলাম।এখন কোথা থেকে পড়বো?


৪) রোজা অবস্থায় ধরুন দাঁড়িয়ে "সূরা কুরাইশ" পড়ছি।এই সময় ওজু ভেঙে গেলে আবার ওজু করে এসে কারো সাথে কথা না বলে মুখ গামছা দিয়ে মুছে কিছুক্ষণ থুথু ফেলে "সূরা কুরাইশ" যতটুকু পর্যন্ত পড়েছিলাম তারপর থেকে পড়তে পারবো নাকি পুরো নামাজটাই আবার "আল্লাহু আকবার" বলে প্রথম থেকে শুরু করবো? যেহেতু রোজা রেখেছি মুখ তো মুছতে হবে আবার থুথু‌ও কিছুক্ষণ ফেলতে হয়।

1 Answer

0 votes
by (714,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো নামাজের মধ্যে অজু ভেঙে যায়,তাহলে সে সাথে সাথে অজু করার জন্য যাবে,

(জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করলে কাতার ভেঙ্গে দিয়ে সে পিছনের কাতার ফাকা করে মসজিদ থেকে বের হবে,চাইলে নাকের উপর হাত রেখেও বের হতে পারে।) 

এক্ষেত্রে নামাজ ভঙ্গকারী কোনো কাজ যেনো তার থেকে প্রকাশ না পায়, (যেমন কাহারো সাথে কথা বলা,ইত্যাদি)   অজু করে এসে তার ছুটে যাওয়া আগে আদায় করবে,এক্ষেত্রে তাকে কিরাআত পড়তে হবেনা,  তারপর ইমামের সাথে শরীক হয়ে তার সাথেই সালাম ফিরাইবে,আর যদি ইতিমধ্যে ইমাম সালাম ফিরিয়ে দেয়,তাহলে তার নামাজ পুরো করে সে নিজেই সালাম ফিরিয়ে দিয়ে নামাজ শেষ করবে।

★ উল্লেখ্য যে কাতার ফাকা করে অজু করতে যাওয়ার সময় সে যদি চায়,নাকে হাত দিতে পারে। যাতে করে মুছল্লিরা বুঝে নিবে যে তার অজু ভেঙ্গে গিয়েছে,তাতে সকলেই দ্রুত তার  যাওয়ার জন্য  জায়গা ফাকা করে দিবে। 

সুনানে ইবনে মাজা তে আছেঃ

عن عائشۃ رضي اللّٰہ عنہا قالت: قال رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم: من أصابہ قيء أو رعاف
أو قلس أو مذي، فلنصرف فلیتوضأ، ثم لیبن علی صلاتہ وہو في ذٰلک لایتکلم۔ (سنن ابن ماجۃ ۱؍۸۵ رقم: ۱۲۲۱)
যার নামাজের মধ্যে বমি ইত্যাদি আসে,তাহলে সে সেখান থেকে চলে যাবে। অজু করবে,এই অবস্থায় সে কোনো ভাবেই কথা বলবেনা। তারপর তার বাকি নামাজ আদায় করে নিবে।
,
আরো জানুনঃ 

হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত
عن عائشة، قالت: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا أحدث أحدكم في صلاته فليأخذ بأنفه، ثم لينصرف»
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যদি তোমাদের কারো নামাযে অজু চলে যায়,তাহলে সে যেন নিজ নাকে ধরে নামায ভেঙ্গে অজুর জন্য চলে যায়।(সুনানু আবি দাউদ-১১১৪)

নামাযে যদি কারো অজু ভঙ্গ হয়ে যায়,এবং ঐ ব্যক্তি যদি প্রথম কাতারে থাকে,তাহলে তিনি প্রত্যেক দুই ব্যক্তির মধ্যখানে ফাক সৃষ্টি করে তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে অজু করতে চলে যাবেন।কিংবা যদি সামন দিক দিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে,তাহলে তিনি সামন দিক দিয়ে যাবেন।এক্ষেত্রে অনেককে ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার রুখসত রয়েছে।এতে কোনো সমস্যা হবে না।কেননা এগুলো নিজের নামাযকে সংশোধন করার নিমিত্তেই করা হচ্ছে।যদি নামাযের কাতার থেকে বাহির হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে,বা কাতার সংখ্যায় অনেক থাকে,তাহলে এমতাবস্থায় বিধান হল,ঐ ব্যক্তি নামাযকে পরিত্যাগ করে আপন স্থানে বসে থাকবে।
(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-৬/৫৭৯)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
ওযু করে এসে আবার প্রথম থেকে এগুলো পড়া শুরু করবেন।

(০২)
এক্ষেত্রে তাকবির বলতে হবে না।

(০৩)
যেই রুকনে ছিলেন,সেই রুকন হতেই পড়বেন। যেমন "সূরা কুরাইশের" মাঝখানে ছিলেন,এখন সুরার শুরু থেকে পড়বেন।

(০৪)
সুরা শুরু থেকে পড়বেন। 

এক্ষেত্রে নামাজটি শুরু থেকে নতুন ভাবে আদায় করা উত্তম।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...