আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
23 views
in সালাত(Prayer) by (6 points)
আমার একজন private tutor বললেন, উনার নামাজটা পড়া দরকার। অর্থাৎ উনি নামাজ পড়তে আগ্রহী। তবে আমি চাচ্ছি যেন উনার দ্বীনের বুঝ আসে, সম্পূর্ণ দ্বীনের উপর উঠতে পারেন। উনাকে কী উপদেশ দিতে পারি?

উনি যুবক, দাড়ি ট্রিম করা থাকে, লেবাস দেখলে কিছুটা আধুনিক বাইকার(মোটরসাইকেল চালক) মনে হলেও উনি সম্ভবত (FB-তে অন্যান্য ফাহেশা জিনিসের মাঝে) ইসলামী কথাবার্তাও শুনে থাকেন।

সোজা ভাষায় ফাসেক(পাপী) বলতে পারেন, তবে অন্তরে ইসলামের প্রতি টান আছে ইনশা-আল্লাহ্।

উনি নাকি আগে মোটামুটি নামাজ পড়তেন। আর আমাকে বলার/জিজ্ঞাসা করার কারণ সম্ভবত উনি আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছেন, আমার দাড়ি আছে তাই। উনি সরাসরি উপদেশ চেয়েছেন কিনা জানি না, কিন্তু আমি সাহায্য করতে চাই, বিশেষত উনাকে সম্পূর্ণ দ্বীনের উপর উঠার জন্য।

আমি উনাকে তিনটি সহজ(আমার দৃষ্টিতে সহজ) উপদেশ দিতে চাচ্ছি।

1) দৈনিক অল্প কিছু(যেমন 10 টাকা) দান করা। যে নেককাজ regular করা হয় সেটা আল্লাহ্ পছন্দ করেন। আর এতে উনার। গোনাহ মাফ হবে ইনশা-আল্লাহ। পাশাপাশি অন্তর নরম/পরিষ্কার হবে, যাতে সেখানে ঈমান প্রবেশ করতে পারে।

2) প্রতিদিন কিছু সময় তালিমে বসা(5-10 মিনিট)। আশা করা যায়, কোন একটা কথা(আল্লাহ তা'য়ালার ইচ্ছায়)উনার অন্তরে প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি আমলের ফাজায়েল(লাভ) শুনে ইবাদতে আগ্রহ জাগবে। অথবা, ওলি-আওলিয়াদের জীবনী পড়ার কোথাও বলতে পারি। হয়তো কারো আমলের কথা পড়ে উনার আগ্রহ জাগলো। আর যেহেতু ঘটনাগুলো কিছুটা গল্পের স্ট্যাইলে লেখা হয়, আশা করি, (কিছুটা লম্বা হলেও) উনার পড়তে boring লাগবে না।

3) FB-তে ইসলামী পোস্ট দেখা(search দেওয়া বা এসব পোস্টে বেশি বেশি like দেওয়া)। এতে উনার feed-এ গান-বাজনা ইত্যাদি কমবে বলে আশা করা যায়। আবার (আল্লাহ তা'য়ালার ইচ্ছায়) কোন একটা কথার প্রভাব পড়ে যদি। তবে আমি উনাকে এখান থেকে জ্ঞান নেওয়ার বিষয়ে সাবধান করব। কারণ প্রায়ই এখানে মিথ্যা এমনভাবে থাকে, যা সত্যের মতো মনে হয়।

আর নামাজের তাকাদাতো থাকলোই। কারণ বড়দের কথা পড়েছি, যে যত পাপ-ই করুক, নামাজ যেন না ছাড়ে।

আর এরূপ উপদেশ দেওয়া ঠিক হবে কি না?

বা এরূপ ব্যক্তিকে/ব্যক্তিদেরকে কী উপদেশ দিতে পারি?

বড়দের জীবনী পড়ার ক্ষেত্রে কোন বই ভালো হতে পারে?

1 Answer

+1 vote
by (714,870 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

নামাজ ছেড়ে দেওয়া মারাত্মক গুনাহ। হাদিস শরিফে নামাজ বর্জনকারীর প্রতি কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। 

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা ও কুফরির মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ বর্জন করা।’ (তিরমিজি, মিশকাত, পৃষ্ঠা ৩৩২) 
.
তিনি আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করে না, দ্বিন ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত, পৃষ্ঠা ৪৫২) 
,
বেনামাজি কিয়ামতের দিন চরমভাবে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্মরণ করো সেই চরম সংকটের দিনের কথা, যেদিন তাদেরকে আহ্বান করা হবে সিজদা করার জন্য, কিন্তু তারা করতে সক্ষম হবে না। 
,
তাদের দৃষ্টি অবনত, হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ যখন তারা নিরাপদ ছিল তখন তো তাদেরকে আহ্বান করা হয়েছিল (সুরা : কালাম,   আয়াত : ৪২, ৪৩)। 
,
তাই এক ওয়াক্তও নামাজও ছেড়ে দেওয়া জায়েয নেই। যদি কোনোভাবে কাজা হয়েই যায়,তাহলে দ্রুত তার কাজা আদায় করতে হবে।  
,
 বেনামাজির অন্যান্য নেক আমল কবুল হবে।
তবে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার কারনে অবশ্যই সে গুনাহগার হবে।  
.
তবে বুখারী শরীফের এক টি হাদীসে এসেছে 

وَعَنْ بُرَيْدَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَرَكَ صَلاَةَ العَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ»

বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আসরের নামায ত্যাগ করল, নিঃসন্দেহে তার আমল নষ্ট হয়ে গেল।”
(সহীহুল বুখারী ৫৫৩, ৫৯৪, নাসায়ী ৪৭৪, ইবনু মাজাহ ৬৯৪, আহমাদ ২২৪৪৮, ২২৫১৭, ২২৫৩৬)

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল (সা. ) বলেন-
إن بين الرجل وبين الشرك والكفر ترك الصلاة
‘কোনো ব্যক্তির মাঝে এবং শিরক ও কুফরের মাঝে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।’ [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪]

এধরনের হাদীসের কারণে ইমাম আহমদ  (রহ.) এর মত হলো অলসতা করে নামাজ ত্যাগকারী কাফের।

তবে হানাফি মাযহাবের স্কলার ও অনেক ইসলামী স্কলারদের  মতে নামাজ ত্যাগকারী কাফের নয়। বরং ফাসেক এবং কবিরা গুনাহকারী।

নামায ছেড়ে দিলেই ব্যক্তি কাফের হবে না। বরং কাফেরদের মত কাজ হয়। 
তবে হ্যাঁ, যদি কেউ নামায পড়া ফরজ নয় মনে করে নামায ছেড়ে দেয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তি কাফের। এতে কোন সন্দেহ নেই। কিংবা নামাযকে তাচ্ছিল্য করে নামায পড়া ছেড়ে দেয় তাহলেও উক্ত ব্যক্তি কাফের। 

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
এরুপ উপদেশ দেয়া ঠিক হবে,সমস্যা নেই,আলহামদুলিল্লাহ।

প্রশ্নে উল্লেখিত ভাইকে উপরে উল্লেখিত হাদিসের আলোকে নামাজ না পড়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝাবেন এবং নিয়মিত নামাযে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য তাকে প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে তিন দিনের জন্য তাবলীগে পাঠানোর চেষ্টা করবেন।

আর পরবর্তীতে এক চিল্লায় পাঠানোর চেষ্টা করবেন।

পাশাপাশি বুজুর্গদের ওয়াজ নসিহত শোনার পরামর্শ দিবেন।

হক্কানী বুজুর্গদের সংস্পর্শে অল্প সময়ের জন্য হলেও মাঝে মাঝে বসার পরামর্শ দিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...