السلام عليكم و رحمة الله و بركاته
শাইখ,আমার সমস্যাটা একটু অধিক মনোযোগের সহিত পড়ার অনুরোধ রইলো যেহেতু বিষয়টা খুব সেন্সেটিভ(এভাবে বলার জন্য মাফ করবেন)।
আমার সমস্যাটা হলো তালাক সংক্রান্ত।কয়েকটা প্রশ্ন:
১.আমার বিয়ের বয়স দেড় বছর।কোনো সন্তান নেই।
আমি আমার স্বামীর প্রতি কোনো ভালোবাসা অনুভব করি না বরং ঘৃণা অনুভব করি এবং মাঝেমধ্যে তীব্র ঘৃণায় তা রুপ নেয়।এর পেছনের কারণ হলো,আমি যেমন জীবনসঙ্গী চাইতাম দ্বীনদার এবং উত্তম আখলাকের অধিকারী তার মাঝে এই দুইটা সিফত সম্পূর্ণ বিপরীত।সে লেবাসধারী এবং বদ আখলাক(বদ মেজাজ,গালিবাজ,নিজেকে অন্যের চেয়ে উত্তম মনে করা,বড়-ছোট কাউকে সম্মান দিতে না জানা ইত্যাদি)।আর আরেকটা কারণ হলো,সে বিয়ের প্রথম ৬-৭ আমার গায়ে প্রচুর হাত তুলতো। মানে কথায় কথায় মারতো,গালি দিতো,কটু কথা বলতো।আমি তার এইসব আচরণের বিপরীতে একদম চুপ করে সব হজম করতাম আর এভাবে আমার মনে তার প্রতি রাগ-ক্ষোভ-ঘৃণা অনেক বেশি পরিমাণে জমে গিয়েছে।প্রথম ৬-৭ মাস অনেক বেশি ছিলো তারপর হয়ত সে-ই উপলব্ধি করতে পেরেছিলো এটা খুব ই অতিরঞ্জন হয়ে যাচ্ছে তাই আস্তে আস্তে পরে কমিয়ে দিয়েছিলো।আর বর্তমানে তার ওইসব খারাপ ব্যবহার আগের তুলনায় কমেছে তবে পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।এখনো মাঝে মধ্যে রাগ উঠলে গালি দেয়,চড়-থাপ্পড় দেয়(সে এটাকে এক প্রকার বৈধতা-ই দেয় আর এসবের পক্ষেই সাফাই গায় নিজের ভুল স্বীকার করা তো দূর কি বাত),সে আমার ফ্যামিলির সাথে সুসম্পর্ক তো বজায় রাখছে না বরং উনাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার কাছে।তার এইসব আচরণে আমি অনেক কষ্ট পাই। আমি তাকে ভালোবাসতে পারছি না (যদিও তার অন্তরে আমার জন্য বেশ কিছুটা মুহাব্বাত রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি)।মন থেকে যে স্বামীর প্রতি মুহাব্বাত আসে,তার যত্ন নিতে মন চায় এগুলো আমি আনতে পারিনা মনে।তবে হ্যাঁ, আমি খুব ভালো অভিনয় করে যাচ্ছি এই ক্ষেত্রে, সে ধরতেও পারছে না যে এটা আসলে অভিনয়।আমার জন্য এভাবে সারাজীবন মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় করে যাওয়া কষ্টকর।
আমার সিচুয়েশন এখন ওই সাহাবীয়ার মত হয়ে গিয়েছে।তবে আমি এমন আশংকা করছি না যে,আমার দ্বারা আমার স্বামীর খিদমতের খিয়ানত হবে,সে আমার প্রতি খুব অসন্তুষ্ট থাকবে ।আমি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে যাবো তবুও মাখলুক হিসেবে মাঝে মধ্যে ভুল হয়েই যেতে পারে(আমি জানি না আমি কতটুকু পারবো নিজের মনে তার প্রতি ঘৃণা-কষ্ট-আভিমান রেখে তাকে আমার উপর সন্তুষ্ট রাখতে তবুও নিজের প্রতি আস্থা অনুভব করছি আবার এও মনে হচ্ছে হয়ত বা নাও পারতে পারি)
এখন শাইখ,আমার প্রশ্নটা হলো
ক.উপরোক্ত পরিস্থিতিতে তার থেকে তালাক নেওয়া কি আমার জন্য জায়েজ হবে নাকি অপ্রয়োজনীয় তালাক চাওয়া হিসেবে গণ্য হবে?
খ.আমি যদি তালাক নিই তাহলে কি তা তার প্রতি যুলুমের শামিল হবে?
?(আমাকে হয়ত সবরের পরামর্শ দিবেন তবে শাইখ আমি মূল বিষয়টা জানতে চাচ্ছি জায়েজ হবে নাকি না)
২.আমাদের কাবিননামায়া আমাকে তালাকের অধিকার দেওয়া হয়েছে।তবে তা ইজাব কবুলের আগে নাকি পরে তা আমি পুরোপুরি নিশ্চিত না।কয়েকটা বিষয় অনুমান করে মনে হচ্ছে,ইজাব কবুলের পরেই।যেমন,গ্রামে সাধারণত কবুল বলার পরে সই নেওয়া হয়,আর সই দেওয়ার সময় নাকি আমার হাজবেন্ড অনুমতির ওইখানে হ্যাঁ লিখা দেখাতে রেগে গেছিলো পরে উনার বাপ চাচারা বুঝিয়ে শুনিয়ে নাকি সাইন করিয়েছে।তবুও আমি সর্বোচ্চ সতর্কতাবশত ধরে নিচ্ছি এটা ইজাব কবুলের আগেই লিখা হয়েছে।
তো এই ক্ষেত্রে কাযা'আতান তালাক আমি কিভাবে নিতে পারি?(যেহেতু দেশে শরীয়াহ কোর্ট নেই,বা দ্বীনদার কাজী পাওয়া দুষ্কর)।এই তালাক জায়েজ হবে আমার ক্ষেত্রে?
প্রসঙ্গের বাইরের একটা প্রশ্ন
স্বামীর বলা প্রত্যেকটা কথা-ই কি আদেশের অন্তর্ভুক্ত? যেমন, একটা উদাহরণ দিয়ে বলি,সে যদি আমাকে মানা করে দুপুরের পর না ঘুমাতে তবে খুব বেশি কড়াকড়িও দিয়েও না তাহলে এরুপ ক্ষেত্রে কি তা মানা ফরয হয়ে যাবে?