আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
26 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
السلام عليكم و رحمة الله و بركاته


শাইখ,আমার সমস্যাটা একটু অধিক মনোযোগের সহিত পড়ার অনুরোধ রইলো যেহেতু বিষয়টা খুব সেন্সেটিভ(এভাবে বলার জন্য মাফ করবেন)।

আমার সমস্যাটা হলো তালাক সংক্রান্ত।কয়েকটা প্রশ্ন:

১.আমার বিয়ের বয়স দেড় বছর।কোনো সন্তান নেই।

আমি আমার স্বামীর প্রতি কোনো ভালোবাসা অনুভব করি না বরং ঘৃণা অনুভব করি এবং মাঝেমধ্যে তীব্র ঘৃণায় তা রুপ নেয়।এর পেছনের কারণ হলো,আমি যেমন জীবনসঙ্গী চাইতাম দ্বীনদার এবং উত্তম আখলাকের অধিকারী তার মাঝে এই দুইটা সিফত সম্পূর্ণ বিপরীত।সে লেবাসধারী এবং বদ আখলাক(বদ মেজাজ,গালিবাজ,নিজেকে অন্যের চেয়ে উত্তম মনে করা,বড়-ছোট কাউকে সম্মান দিতে না জানা ইত্যাদি)।আর আরেকটা কারণ হলো,সে বিয়ের প্রথম ৬-৭ আমার গায়ে প্রচুর হাত তুলতো। মানে কথায় কথায় মারতো,গালি দিতো,কটু কথা বলতো।আমি তার এইসব আচরণের বিপরীতে একদম চুপ করে সব হজম করতাম আর এভাবে আমার মনে তার প্রতি রাগ-ক্ষোভ-ঘৃণা অনেক বেশি পরিমাণে জমে গিয়েছে।প্রথম ৬-৭ মাস অনেক বেশি ছিলো তারপর হয়ত সে-ই উপলব্ধি করতে পেরেছিলো এটা খুব ই অতিরঞ্জন হয়ে যাচ্ছে তাই আস্তে আস্তে পরে কমিয়ে দিয়েছিলো।আর বর্তমানে তার ওইসব খারাপ ব্যবহার আগের তুলনায় কমেছে তবে পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।এখনো মাঝে মধ্যে রাগ উঠলে গালি দেয়,চড়-থাপ্পড় দেয়(সে এটাকে এক প্রকার বৈধতা-ই দেয় আর এসবের পক্ষেই সাফাই গায় নিজের ভুল স্বীকার করা তো দূর কি বাত),সে আমার ফ্যামিলির সাথে সুসম্পর্ক তো বজায় রাখছে না বরং উনাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার কাছে।তার এইসব আচরণে আমি অনেক কষ্ট পাই। আমি তাকে ভালোবাসতে পারছি না (যদিও তার অন্তরে আমার জন্য বেশ কিছুটা মুহাব্বাত রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি)।মন থেকে যে স্বামীর প্রতি মুহাব্বাত আসে,তার যত্ন নিতে মন চায় এগুলো আমি আনতে পারিনা মনে।তবে হ্যাঁ, আমি খুব ভালো অভিনয় করে যাচ্ছি এই ক্ষেত্রে, সে ধরতেও পারছে না যে এটা আসলে অভিনয়।আমার জন্য এভাবে সারাজীবন মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় করে যাওয়া কষ্টকর।

আমার সিচুয়েশন এখন ওই সাহাবীয়ার মত হয়ে গিয়েছে।তবে আমি এমন আশংকা করছি না যে,আমার দ্বারা আমার স্বামীর খিদমতের খিয়ানত হবে,সে আমার প্রতি খুব অসন্তুষ্ট থাকবে ।আমি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে যাবো তবুও মাখলুক হিসেবে মাঝে মধ্যে ভুল হয়েই যেতে পারে(আমি জানি না আমি কতটুকু পারবো নিজের মনে তার প্রতি ঘৃণা-কষ্ট-আভিমান রেখে তাকে আমার উপর সন্তুষ্ট রাখতে তবুও নিজের প্রতি আস্থা অনুভব করছি আবার এও মনে হচ্ছে হয়ত বা নাও পারতে পারি)

এখন শাইখ,আমার প্রশ্নটা হলো

ক.উপরোক্ত পরিস্থিতিতে তার থেকে তালাক নেওয়া কি আমার জন্য জায়েজ হবে নাকি অপ্রয়োজনীয় তালাক চাওয়া হিসেবে গণ্য হবে?

খ.আমি যদি তালাক নিই তাহলে কি তা তার প্রতি যুলুমের শামিল হবে?


?(আমাকে হয়ত সবরের পরামর্শ দিবেন তবে শাইখ আমি মূল বিষয়টা জানতে চাচ্ছি জায়েজ হবে নাকি না)


২.আমাদের কাবিননামায়া আমাকে তালাকের অধিকার দেওয়া হয়েছে।তবে তা ইজাব কবুলের আগে নাকি পরে তা আমি পুরোপুরি নিশ্চিত না।কয়েকটা বিষয় অনুমান করে মনে হচ্ছে,ইজাব কবুলের পরেই।যেমন,গ্রামে সাধারণত কবুল বলার পরে সই নেওয়া হয়,আর সই দেওয়ার সময় নাকি আমার হাজবেন্ড অনুমতির ওইখানে হ্যাঁ লিখা দেখাতে রেগে গেছিলো পরে উনার বাপ চাচারা বুঝিয়ে শুনিয়ে নাকি সাইন করিয়েছে।তবুও আমি সর্বোচ্চ সতর্কতাবশত ধরে নিচ্ছি এটা ইজাব কবুলের আগেই লিখা হয়েছে।

তো এই ক্ষেত্রে কাযা'আতান তালাক আমি কিভাবে নিতে পারি?(যেহেতু দেশে শরীয়াহ কোর্ট নেই,বা দ্বীনদার কাজী পাওয়া দুষ্কর)।এই তালাক জায়েজ হবে আমার ক্ষেত্রে?


প্রসঙ্গের বাইরের একটা প্রশ্ন


স্বামীর বলা প্রত্যেকটা কথা-ই কি আদেশের অন্তর্ভুক্ত? যেমন, একটা উদাহরণ দিয়ে বলি,সে যদি আমাকে মানা করে দুপুরের পর না ঘুমাতে তবে খুব বেশি কড়াকড়িও দিয়েও না তাহলে এরুপ ক্ষেত্রে কি তা মানা ফরয হয়ে যাবে?

1 Answer

0 votes
by (751,320 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
বিনা কারণে তালাক আবেদন কারী মহিলা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,
 ﺃَﻳُّﻤَﺎ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٍ ﺳَﺄَﻟَﺖْ ﺯَﻭْﺟَﻬَﺎ ﻃَﻼَﻗًﺎ ﻓِﻰ ﻏَﻴْﺮِ ﻣَﺎ ﺑَﺄْﺱٍ ﻓَﺤَﺮَﺍﻡٌ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﺭَﺍﺋِﺤَﺔُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ . ‘
যে মহিলা বিনা কারণে তার স্বামীর নিকটে তালাক্ব চায়, তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধিও হারাম’।
[আবুদাউদ হা/২২২৬; তিরমিযী হা/১১৮৭; ইবনু মাজাহ হা/২০৫৫; মিশকাত হা/৩২৭৯, সনদ ছহীহ।].
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/468

বিয়ের পর স্ত্রীর ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষা করে স্ত্রীকে একটি বাসস্থান ও খাদ্য এবং বস্র দান করা।এটা স্বামীর উপর  স্ত্রীর অধিকার ওহক্ব এবং শরীয়ত কর্তৃক ওয়াজিব। এ সম্পর্কে কোরআনের ঘোষনা হলঃ
ﻭَﻋَﺎﺷِﺮُﻭﻫُﻦَّ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑ
নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। (সূরা নিসা-১৯)
নারীদের সাথে সদ্ভাবে ব্যবহার করতে হলে তাদেরকে নিয়মমাফিক অন্ন-বস্র-বাসস্থান দিতে হবে,এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/430


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
স্বামী প্রহার করলেও যে তালাক চাওয়া বৈধ হবে? বিষয়টা এমন নয় বরং কি কারণে তালাক চাওয়া হচ্ছে? সেটাই মূখ্য বিষয়। স্বামী যদি বিনা কারণে বিনা দোষে এক দুইদিন প্রহার করে, তাহলে কিন্তু তালাক চাওয়া বৈধ হবে না। তবে যদি স্বামী বিনা কারণে হরহামেশাই প্রহার করে, তাহলে স্ত্রীর জন্য তালাক চাওয়ার সুযোগ থাকবে। এই বিষয়টা পারিবারিক ভাবে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করবেন। 

(২) তার কাছে তালাক চেয়ে তালাক নিতে হবে।নিজে তালাক দিতে পারবেন না।

(৩) আপনি ঘুমাতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...