হাদীস শরীফে এসেছেঃ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنْ الثِّيَابِ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَلْبَسُ الْقُمُصَ وَلاَ الْعَمَائِمَ وَلاَ السَّرَاوِيلاَتِ وَلاَ الْبَرَانِسَ وَلاَ الْخِفَافَ إِلاَّ أَحَدٌ لاَ يَجِدُ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنْ الْكَعْبَيْنِ وَلاَ تَلْبَسُوا مِنْ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ الزَّعْفَرَانُ أَوْ وَرْسٌ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম ব্যক্তি কী প্রকারের কাপড় পরবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরিধান করবে না। তবে কারো জুতা না থাকলে সে টাখ্নুর নিচ পর্যন্ত মোজা কেটে (জুতার ন্যায়) পরবে।
তোমরা জা‘ফরান বা ওয়ারস্ (এক প্রকার খুশবু) রঞ্জিত কোন কাপড় পরবে না। [আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুতে পারবে। চুল অাঁচড়াবে না, শরীর চুলকাবে না। মাথা ও শরীর হতে উকুন যমীনে ফেলে দিবে।]
(বুখারী শরীফ ১৫৪২.১৩৪, মুসলিম ১৫/১, হাঃ ১১৭৭, আহমাদ ৪৮৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৪৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৪৭)
غنية الناسك في بغية المناسك (ص:35، المطبعة الخيرية، هند):
"أما الثوب فلايجوز أن يتطيب بما تبقى عينه بعد الإحرام إجماعاً
সারমর্মঃ-
কাপড়কে আতর লাগিয়ে নেয়া,যার চিহ্ন ইহরামের পরেও বাকি থাকবে,এটি জায়েজ নেই।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ عَنْ وَكِيعٍ عَنْ مِسْعَرٍ وَسُفْيَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ لَأَنْ أُصْبِحَ مُطَّلِيًا بِقَطِرَانٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُصْبِحَ مُحْرِمًا أَنْضَحُ طِيبًا فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَأَخْبَرْتُهَا بِقَوْلِهِ فَقَالَتْ طَيَّبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَطَافَ فِي نِسَائِهِ ثُمَّ أَصْبَحَ مُحْرِمًا
হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবন মুনতাশির তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা অপেক্ষা আমার কাছে আলকাতরা ব্যবহার করা অধিক পছন্দনীয়। আমি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ কথা জানালে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুগন্ধি লাগিয়েছি; আর তিনি তাঁর স্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তারপর তিনি ইহরাম বেঁধেছেন।
(নাসায়ী ২৭০৭)
غنية الناسك في بغية المناسك (ص:35، المطبعة الخيرية، هند):
"أما الثوب فلايجوز أن يتطيب بما تبقى عينه بعد الإحرام إجماعاً، وقيل: يجوز في الثوب أيضاً عندهما، كما في الفتح والبحر. والأولى أن لايطيب ثوبه كما في اللباب، وسياتي في مكروهات الإحرام كراهة لبس الثوب المبخر أو المطيب قبل الإحرام".
মর্মার্থঃ-
“কাপড়ের ব্যাপারে—ইহরামের পর এমন সুগন্ধ ব্যবহার করা জায়েয নয়, যার আসল বস্তু (عينه) অবশিষ্ট থাকে—এ ব্যাপারে ইজমা রয়েছে।
তবে বলা হয়েছে, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (رحمهما الله)-এর মতে কাপড়ের ক্ষেত্রেও তা জায়েয।
الحاوي الكبير (4/ 100):
"إذا لبس الحلال ثوباًمطيباً، ثم أحرم فيه واستدام لبسه جاز، ولم تجب عليه الفدية؛ لأنه لو تطيب وهو حلال، ثم أحرم واستدام الطيب، جاز وإن لم يغسله، فكذلك الثوب، ولكن لو أحرم في ثوب مطيب، ثم نزعه وأعاد لبسه في حال إحرامه افتدى؛ لأنه كالمبتدئ لاستعمال الطيب بعد إحرامه".
যদি কোনো ব্যক্তি হালাল অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত কাপড় পরিধান করে, এরপর সেই কাপড় পরেই ইহরাম বাঁধে এবং তা পরিধান অব্যাহত রাখে, তাহলে তা জায়েয হবে এবং তার ওপর কোনো ফিদইয়া (দম) ওয়াজিব হবে না।
কারণ, কেউ যদি হালাল অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর ইহরাম বাঁধে এবং সেই সুগন্ধি ধুয়ে না ফেলেও তা বহাল রাখে, তবে তা জায়েয হয়; কাপড়ের বিষয়টিও তেমনই।
কিন্তু যদি সে সুগন্ধিযুক্ত কাপড়ে ইহরাম বাঁধার পর তা খুলে ফেলে এবং ইহরাম অবস্থায় আবার তা পরিধান করে, তাহলে তাকে ফিদইয়া দিতে হবে; কেননা এটি ইহরামের পর নতুন করে সুগন্ধি ব্যবহারের মতো গণ্য হবে।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,