আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
85 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (18 points)
মুহতারাম,

আমার পরিচিত একজন ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সার্ভিসের কাজ করে থাকেন। তার বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট USA, UKসহ বিদেশি দেশগুলোতে অবস্থান করেন। এ কারণে তাকে PayPal-এর মতো বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশ থেকে এসব পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

আমি যেহেতু বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছি এবং আমার PayPalসহ প্রয়োজনীয় পেমেন্ট সিস্টেম রয়েছে, তাই তিনি আমার সাহায্য নিতে চাচ্ছেন। প্রস্তাবটি হলো-তিনি তার ক্লায়েন্টদের আমার পেমেন্ট গেটওয়ের তথ্য দেবেন, আর আমি প্রাপ্ত অর্থ বৈধভাবে তার দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেব। এই সহযোগিতার বিনিময়ে প্রতিটি লেনদেনে তিনি আমাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সার্ভিস চার্জ দিতে চান। আমি এতে সম্মতি দিয়েছি।

তবে আমার উদ্বেগের বিষয় হলো-তিনি যে ডিজিটাল সার্ভিসগুলো প্রদান করেন, যেমন: SEO Service, YouTube Marketing, Social Media Promotion, Photo Editing ইত্যাদি-এসব আপাতদৃষ্টিতে হালাল মনে হলেও, বাস্তবে মাঝে মাঝে শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম কিছু কাজও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। যেমন:
YouTube বা Social Media-তে মিউজিক বা মুভি প্রমোশন করা, কিংবা মানুষ ও পশু-পাখির ছবি এডিট করার কাজ করা।

এখন আমার প্রশ্ন হলো- যেহেতু তার কাজের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই আমি শুধুমাত্র তার অর্থগুলো পৌছে দিবো, এমন ভাবনায় আমি কি শুধুমাত্র লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে আমার পেমেন্ট গেটওয়েগুলো তাকে ব্যবহার করতে দিতে পারি? এবং এই সহযোগিতার বিনিময়ে তার কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ হিসেবে টাকা নেওয়া কি শরিয়তসম্মত হবে?

1 Answer

+1 vote
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
সববে ক্বারিব এর হুকুম হল, বিক্রেতা বা ভাড়া প্রদাণকারীর উদ্দেশ্য যদি হয়, গোনাহের কাজে সগযোগিতা করা,তাহলে এটা গোনাহ এবং গোনাহের কাজে সরাসরি সহযোগিতা হওয়ার দরুণ স্পষ্টত নাজায়েয ও হারাম হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে যদি তার নিয়ত ও উদ্দেশ্য গোনাহের কাজে সহযোগিতা করা না হয়, তাহলে সেটা দুই প্রকার হবে, যথা- 

(ক) যদি তার জানা না থাকে যে, 
ক্রেতা আঙ্গুর ক্রয় করে সিরকা বানাবে, নাকি মদ তৈরী করবে, নাকি অন্য কোনো বৈধ কাজে ব্যবহার করবে? অথবা ভাড়ায় গ্রহণকারী ব্যক্তি উক্ত জায়গাতে কোনো নাজায়েয কাজ করবে? এসব বিক্রেতার জানা না থাকে, তাহলে এমতাবস্থায় বিক্রয় করা ও ভাড়ায় প্রদাণ করা জায়েয হিসেবেই বিবেচিত হবে। 

(খ) যদি তার জানা থাকে যে, 
ক্রেতা আঙ্গুর ক্রয় করে সিরকা বানাবে না মদ তৈরী করবে না অন্য কোনো বৈধ কাজে ব্যবহার করবে? অথবা ভাড়ায় গ্রহণকারী ব্যক্তি উক্ত জায়গাতে কোনো নাজায়েয কাজ করবে?এসব বিক্রেতার জানা থাকে। 
তাহলে এমতাবস্থায় বিক্রয় করা ও ভাড়ায় প্রদাণ করা মাকরুহ হিসেবে বিবেচিত হবে। 

অতঃপর এই মাকরুহ আবার দুই প্রকার যথা- 
(১) গোনাহ উক্ত জিনিষের মূলের সাথে সংযুক্ত হবে, কোনো প্রকার পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের প্রয়োজনিয়তা পড়বে না। তাহলে এমন জিনিষ বিক্রয় করা বা ভাড়া দেওয়া মাকরুহে তাহরীমি হবে।
(২) অথবা সামান্য কিছু সংযোজন ও সংবর্ধনের পরই তাকে গোনাহের কাজে ব্যবহার করা হবে, তাহলে এমতাবস্থায় সেটা মাকরুহে তানযিহি হিসেবে বিবেচিত হবে।

যদি কারো জানা না থাকে যে, ভাড়ায় গ্রহণকারী ব্যক্তি উক্ত জায়গাতে ব্যাংক তৈরী করবে, তাহলে সেটা জায়েয হবে। কিন্তু জানা থাকলে, মাকরুহে তানযিহি হবে। 
মাকরুহে তাহরিমী হবে না তানযিহি হবে?
যদি দেখা যায় মালিক বিল্ডিং তৈরীর সময় ব্যাংকের মত করেই তৈরী করেছে, তাহলে মাকরুহে তাহরিমী হবে।তবে যদি সে এমনভাবে তৈরী করে যে, উক্ত ঘরকে যেকোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে, তাহলে তখন তখন সেটা মাকরুহে তানযিহি হিসেবে বিবেচিত হবে। সেটা তাহরিমী হবে না তানযিহি হবে? সেটা নিয়ে অবশ্যই সংশয় রয়ে গেছে।(জাওয়াহিরুল ফিকহ-৭/৫১৩)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1046


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
উক্ত মূলনীতি বুঝার পর আমরা বুঝতে সক্ষম হবো যে,
সবকিছু জানার পরও অন্যের ডিজিটাল সার্ভিসের পেমেন্ট গ্রহণ করে তার ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া মাকরুহে তানযিহি হবে। সুতরাং বেচে থাকাই উত্তম হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...