আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
126 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (36 points)
reshown by
আসসালামু আলাইকুম।
হুজুর নিম্নোক্ত প্রশ্নের জবাব দেওয়ার অনুরোধ রইলো।
প্রশ্ন ১ঃ কোনো মানুষের মনে মনে যদি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কুফরি বাক্য উচ্চারিত হয়, এবং সাময়িক সময়ের জন্য যদি সে এই কুফরি বাক্যের প্রতি মনে মনে সন্তুষ্ট হয় তাহলে সে ব্যক্তির ঈমান কি চলে যাবে?

যেমন কেউ সূরা নাস নিয়ে বিদ্রুপ করে বললো সূরা নাসে আল্লাহ নাস মানে নাচতে বলছে। কোনো মুমিন যদি এটা শুনে তার মনে সাময়িক হাসি বা জিনিসটা পছন্দ বা সন্তুষ্টি হয় তাহলে ঐ ক্ষেত্রে ইমান কি চলে যাবে?

প্রশ্ন ২ঃ কেহ কুফরি করার পর পুনরায় ঈমান আনলে, তার আগে ইমান থাকা অবস্থায় কারা আমলগুলোর সাওয়াব কি বাতিল হবে?
by (9 points)
তালাকের পর সংসার চালিয়ে গেলেত জাহান্নামি হবেন। 

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
"الدر المختار " (4/ 224): 
"(وشرائط صحتها العقل) والصحو (والطوع) فلا تصح ردة مجنون، ومعتوه وموسوس، وصبي لايعقل وسكران ومكره عليها، وأما البلوغ والذكورة فليسا بشرط بدائع".
قال ابن عابدین رحمه الله:
" قال في البحر والحاصل: أن من تكلم بكلمة للكفر هازلاً أو لاعبًا كفر عند الكل ولا اعتبار باعتقاده، كما صرح به في الخانية. ومن تكلم بها مخطئًا أو مكرهًا لايكفر عند الكل، ومن تكلم بها عامدًا عالمًا كفر عند الكل، ومن تكلم بها اختيارًا جاهلاً بأنها كفر ففيه اختلاف. اهـ".
কুফরি কালিমা উচ্ছারণপূর্বক কাফির সাব্যস্তর জন্য শর্ত হল, জ্ঞান থাকা,সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া। সুতরাং কুফরি কালিমা উচ্চারণ করার দরুণ পাগল,অসুস্থ মস্তিষ্কের অধীকারি ব্যক্তি এবং ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তি, নবালক সন্তান, নেশাগ্রস্ত এবং ঐ ব্যক্তি যার উপর বল প্রয়োগ হচ্ছে, তার  ঈমান নষ্ট হবে না। 
ইবনে আবেদীন রাহ বলেন, 
মোটকথা, যে ব্যক্তি রংতামাশা বশত কুফরি কালিমা উচ্চারণ করে নিল, তার ঈমান চলে যাবে। তার নিয়তেে দিকে দৃষ্টি দেয়া হবে না। আর যে ব্যক্তি ভুলে বা বল প্রয়োগের দরুণ কুফরি কালিমা উচ্চারণ করলো, তার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে না।  তবে যেই ব্যক্তি জেনে বুঝে কুফরি কালিমা উচ্চারণ করবে, তার ঈমান চলে যাবে । কিন্তু যদি কেউ কুফরি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও অনিচ্ছায় মনের অজান্তে কুফরি কালিমা উচ্চারণ করে ফেলে, তাহলে তার ঈমান বাকী থাকবে কি না? এ নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে....(রদ্দুল মুহতার-৪/২২৪)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) কোনো মানুষের মনে মনে যদি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কুফরি বাক্য উচ্চারিত হয়, এবং সাময়িক সময়ের জন্য যদি সে এই কুফরি বাক্যের প্রতি মনে মনে সন্তুষ্ট হয়, তাহলে সেই ব্যক্তির ঈমান থাকবে না বরং ঈমান চরে যাবে।

যেমন কেউ সূরা নাস নিয়ে বিদ্রুপ করে বললো সূরা নাসে আল্লাহ নাস মানে নাচতে বলছে। কোনো মুমিন যদি এটা শুনে তার মনে সাময়িক হাসি বা জিনিসটা পছন্দ বা সন্তুষ্টি হয়, তাহলে ঐ ক্ষেত্রে ইমান থাকবে না, বরং চলে যাবে।

(২) কেহ কুফরি করার পর পুনরায় ঈমান আনলে, তার আগে ইমান থাকা অবস্থায় করা আমলগুলোর সাওয়াব বাতিল হবে কি না? তা নিয়ে মতপার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। তবে গ্রহণযোগ্য মতানুসারে তার আগের আমলগুলোর সওয়াব তো বাকী থাকবে না তবে পরবর্তীতে নেক আমলের মধ্যে নেক ও উত্তম প্রভাব বিস্তার করবে। তথা প্রথমে নেক আমল করার কারণে ইসলাম গ্রহণের পর বেশী বেশী নেক আমল করার তাওফিক হবে।

(قوله وما أدى منها فيه يبطل) في التتارخانية معزيا إلى التتمة قيل له لو تاب تعود حسناته؟ قال: هذه المسألة مختلفة فعند أبي علي وأبي هاشم وأصحابنا أنه يعود. وعند أبي القاسم الكعبي لا، ونحن نقول إنه لا يعود ما بطل من ثوابه لكنه تعود طاعاته المتقدمة مؤثرة في الثواب بعد اهـ بحر."(كتاب الجهاد ،باب المرتد، ج4، ص251، ط:مصطفي البابي الحلبی)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...