ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
প্রতি ওয়াক্তের পৃথক পৃথক মুস্তাহাব ওয়াক্ত রয়েছে।ফজরের নামাযকে দেড়ী করে পড়া মুস্তাহাব,এবং এটাই তার জন্য আওয়াল ওয়াক্ত সমতুল্য। কেননা পৃথক অন্য হাদীসে ফজরের নামাযকে দেড়ী করে ফর্সা হওয়ার পর পড়ার কথা এসেছে। জোহরের নামাযকে গরমের সময় দেড়ী করে পড়া মুস্তাহাব।এবং আসর ও মাগরিবে নামাযকে সর্বদা ওয়াক্তের প্রথমে পড়া মুস্তাহাব। এশার নামাযকে রাতের এক ততৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেড়ী করে পড়া মুস্তাহাব।
এগুলো বুঝা ও বুঝানো অনেকটা মুশকিল বিষয়।সহজভাবে বলা যায় যে,আমাদের দেশে যে ওয়াক্তের যখনই আযান হয়,আযান পরবর্তী জামাতের সাথে নামায আদায় করা বা ঐ সময়ে ঘরে বা অন্য কোথাও নামায আদায় করা মানে-ই মুস্তাহাব বা আওয়াল ওয়াক্তেই আদায় করা। আওয়াল ওয়াক্ত কোনো বিশেষ সময় বা সেকেন্ড মিনিটের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-
https://www.ifatwa.info/286
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) ৩৯৪৩৩ নং ফতোয়ায় বলা হয়েছে ফজরের স্বলাত দেরীতে পড়া মুস্তাহাব এবং এটিই তার জন্য আওয়াল ওয়াক্তের ফযিলতের সমতূল্য। ফজরের সালাত দেরীতে পড়লে সেটি হাদীসে বর্ণিত আওয়াল ওয়াক্তের ফযিলত সমতূল্য। কেননা হাদীসে ফজরের নামাযকে ফর্সা হওয়ার পর পড়ার কথা এসেছে।
(২) ৩৯৪৩৩ নং ফতোয়াতে বলা হয়েছে ইশার স্বলাত দেরীতে পড়া মুস্তাহাব। এটাই যথার্থ। আউওয়াল ওয়াক্ত দ্বারা সকল নামাযে ওয়াক্তে শুরুর সময় উদ্দেশ্য নয়।
(৩) এক্ষেত্রে মেঝেতে স্পষ্ট নাপাকি অর্থাৎ হিশু না থাকলে সেই স্থানে স্বলাত পড়া যাবে। স্বলাত কবুল হবে। তবে যদি কোনো স্থানে বিড়ালের প্রস্রাব রয়েছে বলে প্রবল থারণা থাকে, তাহলে সেই স্থানকে ধৌত করতে হবে যদি তাতে শুষে নেওয়ার যোগ্যতা না থাকে
(৪) তাহাজ্জুদে উঠার পরিক্ষীত আমল হল, এশার নামাযের পরপরই ঘুমিয়ে যাওয়া।
(৫) রাসূল ﷺ কে স্বপ্নে দেখতে হলে বেশী দুরুদ এবং ইস্তেগফার করতে হবে। এবং দৈনন্দিন সকল প্রকার সুন্নত পালন করতে হবে।
(৬) স্বলাতের সিজদাহতে তাসবীহ পাঠ করার পর সিজদারত অবস্থায় কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকা যাবে না। স্বলাতে তিন তাসবীহ পরিমাণ নিশ্চুপ বিলম্ব হলে সাহু সিজদাহ দিতে হয়। এক্ষেত্রে সিজদাহতে নিশ্চুপ বিলম্ব হলে সাহু সিজদাহ দিতে হবে।
(৭) প্রতিষ্ঠানের নামে মন্দ কথা বললে সেটাও গীবতের আওতাধীন হবে। তবে সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যক্তিদের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করলে তা গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
(৮) যদি সন্দেহ হয় রাস্তা থেকে বোরকাতে নাপাকি লেগে গেছে, কিন্তু বোরকায় স্পষ্ট নাপাকির চিহ্ন না থাকে, তাহলে সেই বোরকা দিয়ে স্বলাত আদায় করা যাবে।
(৯) রাস্তায় হাঁটার সময় মাঝে মাঝে দেখি সব্জিওয়ালার ভ্যান থেকে এক দুইটা পেঁয়াজ বা বেগুন পড়ে আছে। তা না উঠিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে আসলে গুনাহ হবে না। কবে মানবিক কল্যাণ বিঘ্নিত হবে।
(১০) স্বলাত আদায়ের পর যদি দেখা যায় যে, কাপড়ে নাপাকি লেগে আছে, তাহলে সেই নামায আবার পড়তে হবে/ কাযা আদায় করতে হবে।
(১১) যদি এমন পরিস্থিতিতির সম্মুখিন হতে হয় যে, কাপড় পবিত্র নয় কিন্তু স্বলাতের সময় চলে যাচ্ছে, তখন পবিত্র কাপড় সংগ্রহ করে নামায পড়তে হবে। পবিত্র কাপড় পাওয়া না গেলে তখন অপবিত্র কাপড়েই নামাযির সাদৃশ্য গ্রহণ করতে হবে তথা নামায পড়তে হবে। এবং পরবর্তীতে আবার নামায পড়তে হবে।
(১২) যদি কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যায় যে, সেখানে পানি নেই এবং তায়াম্মুম করার অবস্থাও নেই (আশেপাশে নন-মাহরাম থাকে), তখন নামাযির সাদৃশ্য গ্রহণ করতে হবে তথা নামায পড়তে হবে। এবং পরবর্তীতে আবার নামায পড়তে হবে।