আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
27 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (33 points)
edited by
১)  কবিরাজের কাছে আমার একজন পরিচিত মানুষ যাওয়ার পর কবিরাজ বললেন যে উনি নাকি মানুষের সম্পর্কে সব জানেন, কখন কি চিন্তা করছে বা জীবনে কখন কি করেছিলো।

আদৌও কি এরকম মানুষের অতীত বা বর্তমান কর্মকান্ড, মনের সব চিন্তা জানা সম্ভব?

২) যদি এরকম জানার সুযোগ থাকে তাহলে উক্ত কবিরাজ তো মানুষের প্রাইভেসি নষ্ট করতেছে, এর জন্য কি তার শাস্তি হবেনা?

৩) জ্বীনের মাধ্যমে যেসব কবিরাজ কাজ করে থাকে এগুলো কি জায়েজ?

৪) ওই কবিরাজ একজনকে বললেন আপনার ভবিষ্যতে কষ্ট পেতে হবে, আবার বললেন মানুষের মৃত্যুর দিনও নাকি উনি নির্ধারন করতে পারে,এগুলোর দ্বারা কি উনার শিরক হয়নি?

৫) একজন ব্যক্তি তার ভাইদের অভিশাপ দিতেই থাকে তোদের সামনের দিনে আরো দুঃখ পাওয়া লাগবে, ধ্বংস আসতেছে।  এসব কথা উনি তাদের সামনে পিছনে উভয় অবস্থায়ই বলেন। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভাইদেরও দোষ আছে, এতে করে কি এসব অভিশাপ ভাইদের উপর পড়বে?

৬) ভাইদের অনুপস্থিতিতে খাবার টেবিলে ভাইদের দোষত্রুটি আওয়াজ করে বলতে থাকেন, অভিশাপ দেন। পরিবারের অন্যরা বাধ্য হয়ে শুনলে কি পরিবারের সদস্যদের গীবত শেনার গুনাহ হবে?

উনি বয়স্ক লোক, ওই মুহুর্তে কিছু বললে উল্টা ঝাড়ি দিবে। এমতাবস্থায় করনীয় কি?

বাসায়ও যখন এসব বলেন অনেক জোরে শব্দ করে বলেন তাই না চাইলেও অন্যদেরকে এসব কথা শুনতে হয়।

৭) পরিবারের পুরুষ সদস্য যখন নারী সদস্যদের বলেন যে নিজে উপার্জন করে নিজের খরচ, শখ পূরন করো, তখন নারীর করনীয় কি?

৮) জ্বীনেরা কি একজব মানুষের জীবনের অতীতে ঘটা সবকিছু, বর্তমান চিন্তা ও ঘটনা সব জানে বা বলতে পারে?

1 Answer

0 votes
by (750,030 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) কবিরাজ বলেছেন, 'উনি মানুষের সম্পর্কে সব জানেন, কখন কি চিন্তা করছে বা জীবনে কখন কি করেছিলো।'

এগুলো শতভাগ মিথ্যা কথা।
এগুলো কখনই সম্ভব হবে না। 

(২) এরকম জানা কখনই সম্ভবপর হবে না।

(৩) জ্বীনের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণমূলক কাজ জায়েয। তবে অকল্যাণ মূলক কিছুই জায়েয হবে না।

(৪)  ভবিষ্যতে কষ্ট পেতে হবে, কবিরাজ কর্তৃক এভাবে বলাটা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া মানুষের মৃত্যুর দিন নির্ধারন করে দেয়ার দাবী করা মু্র্খতা ছাড়া কিছুই নয়। এগুল শিরকের অন্তর্ভুক্ত। 

(৫) বিনা কারণে কারো উপর অভিশাপ দেয়া জায়েয হবে না। হ্যা, মাজলুমের জন্য জায়েয হবে।

(৬) প্রশ্নের বিবরণমতে এগুলোও গীবতের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো শ্রবণ করাও গীবত।

(৭) পরিবারের পুরুষ সদস্য যখন নারী সদস্যদের বলেন যে নিজে উপার্জন করে নিজের খরচ করো, শখ পূরন করো। তখন নারীদের জন্য উচিত, সাথে সাথেই প্রতিবাদ করা। এবং পুরুষদেরকে হেকমতের সাথে বুঝানো।

(৮) জ্বীনেরা কোনো মানুষের জীবনের অতীতে ঘটা সবকিছু, বর্তমান চিন্তা ও ঘটনা জানতে পারবে না। তবে যেহেতু তারা আড়াল থেকে আমাদেরকে দেখতে পারে, তাই কিছু দেখে এবং কিছু আন্দাজ করে বলতে পারে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...