আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
52 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (26 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমার বিবাহিত জীবন আট বছরের। স্বামীর হুটহাট রাগ আর ইন্ট্রোভার্ট থাকার কারণে, আমি নিজেও এত বেশি বুঝতে পারিনা, ফলাফল স্বামীর সাথে আমার আন্ডারস্ট্যান্ডিং খুব একটা হয়নি। উনি আমার লাইফের কয়েকটা বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তখন না বুঝার কারণে তার দেয়া পরামর্শগুলি ঠিকমতো মানতে পারেনি। যদিও পরবর্তীতে সেটার জন্য অনেক বেশি সরি বলেছি। মাফ চেয়েছি। কিন্তু সে অনেক বেশি চাপা স্বভাবের একজন মানুষ। হুটহাট রেগে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি।দিনের পর দিন অনেক বেশি অবহেলা, অসম্মান বিশেষ করে পরি তার পরিবারের সবার সামনে আমার দোষ ত্রুটি নিয়ে কথা বলা, বাসায় থাকলেও সন্তানের সাথে কথা বলে যেকোনো কিছু জানানো। আমি তটস্থ থাকি, কোনটাতে তার হক আদায় হচ্ছে না আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।  সে কোন কারণ ছাড়াই রাগ করে অন্য রুমে থাকে। এত নরম হয়ে কথা বলি, চাওয়ার আগেই যে কোন জিনিস সামনে আনার চেষ্টা করি, তার খাবার রেডি করে দিতে চাই, কিছুতেই সে ঠিক হয়না।

খুব কষ্ট পাই। দুইজনেই সমান যোগ্যতা সম্পন্ন। কিন্তু সেই আমার থেকে অনেক বেশি দূরত্ব তৈরি করে নিয়েছে।

অনেক বেশি কান্না পায়। আমার প্রশ্ন হল, সে আমার সাথের রাগ করে অন্য রুমে শুয়ে থাকে (এক্ষেত্রে আমার কোন দোষ আমি বুঝতে পারি না, তাকে প্রশ্ন করলে রেগে যায় উল্টা) । ভালো খারাপ কিছুই বলা যায় না তার সাথে।

 তার ফ্যামিলির সবার কাছে আমাকে ছোট করে সব সময়।তার ফ্যামিলির মানুষগুলি আমাকে বলে , আমি কেন স্বামীর মন জয় করতে পারছি না। শুধুমাত্র আল্লাহ জানেন, আমি কতটা চেষ্টা করছি।উনি ভাবেন আমি উনার মনের কথা, বুঝে নিব, কিন্তু আমি উনি মুখে না বললে কিভাবে বুঝব, সেটাও বলেছি। লাভ হয়নি।
১।

আমার প্রশ্ন হল, উনি  রাগ করে অন্য রুমে থাকেন, এক্ষেত্রে,উনার হক আদায়ের আমি ওই রুমে গেলেও উনি খুব বেশি রেস্পন্স করেন না। এক্ষেত্রে প্রতিদিন কি আমার উনার  হক আদায়ের জন্য   উনার রুমে যাওয়া কর্তব্য? না গেলে কি গুনাহ হবে? কারণ মাসের পর মাস চলে গেলেও উনি আমার কাছে আসবেন না।

২।উনি কথা বলতে চাননা।আমার কথা শুনতে  তার বিরক্ত লাগে, সরি বলতে বলতে আর পারছিনা। সন্তান আছে।

এক্ষেত্রে , তার সাথে  প্রয়োজন ছাড়া কথা না বললে কি আমার গুনাহ হবে?

৩।আমার এরকম অবস্থায়, তার প্রতি আমার কি কি কর্তব্য পালন করা উচিত?

আমি সর্বোচ্চ চাচ্ছি কিন্তু উনাকে কোনভাবেই খুশি করতে পারছি না। দোয়া করে যাচ্ছি। উল্লেখ্য যে উনি প্রায়ই উনার পরিবারের কাছে ডিভোর্সের কথা বলেন। আমি তখন তাদের হাতে পায়ে ধরে, সব দোষ আমার ঘাড়ে নিয়ে, সংসার করার জন্য নিজেকে ঠিক করব বলে, তাদের কথা দিই। কিন্তু আমি পারছি না আর। আমি প্রতিটা কাজের জন্য আল্লাহকে ভয় করছি। আল্লাহর কাছে এক্ষেত্রে আমার কতটুকু জবাবদিহিতা করতে হবে??

আমার নিজের চাকরির জন্য (শরীয়তে হালাল পন্থা) আমার স্বামী কষ্ট পেতে পারে, যোগ্যতায় তার চেয়ে বেশি উপরে উঠে যেতে পারি, তখন তার কষ্ট লাগতে পারে, (যদিও সে বলেছে কামাই থাকলে জামাই লাগে না এই টাইপের কথা) এজন্য আমি তাকে কষ্ট দিতে চাইনা , যার জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করা লাগবে। আমার বাবা-মা এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি চাপ দিচ্ছেন আমাকে। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি, আল্লাহর জন্য।

৪। আমি যদি তার জন্য, তাকে খুশি রাখতে (যদিও জানিনা কতটুকু খুশি রাখতে পারব) চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাসায় থাকি, সেটা কি আল্লাহর জন্য করা হবে কিনা?????
আর এক্ষেত্রে, যখন আমি বাসায় আছি তখন সমস্যা আরো বেড়ে গেছে, (যদিও এখন তার আমাকে বিরক্ত আরও বেশি লাগা শুরু হয়েছে, বুঝতেছিনা সে কেন এমন করছে) কিন্তু মন থেকে কোনভাবেই সায় দিচ্ছে না বাইরে যেয়ে চাকরি করি,
এক্ষেত্রে, চাকরিটা করা কি আমার উচিত হবে?? উনি বলেন চাকরীতে না গেলে আমি ডিপ্রেশনে পড়ে যেতে পারি, পরে আরো সমস্যা বেড়ে যেতে পারে.।

কিন্তু তার থেকে যোগ্যতায় আমি অনেক উপরে উঠে গেলে সে তখন আরও বেশি আমার সাথে দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে মনে হচ্ছে আমার।

৫।এটা সন্দেহ আমার। কিন্তু একটা কথা আছে যে সন্দেহের কারণে নিশ্চিত বিষয় দূরীভূত হয় না।এক্ষেত্রে এই কথাটা কি আমার শুধু সন্দেহের পর্যায়ে পড়বে?????   যদিও সে আগে বলেছে, চাকরি করলে, তার সাথে আমার সংসার টিকবে না, এটা সে ধারণা করে বলেছে।
উক্ত প্রতিটা প্রশ্নের জবাব যদি দয়া করে দিতেন খুব ভালো হতো।

1 Answer

0 votes
by (750,000 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আপনি/আপনারা ধৈর্য্য সহকারে পরিস্থিতির মুকাবেলা করুন। নামায ও ধৈর্য্যর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন।
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ
ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।(সূরা বাকারা-৪৫)
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﺍﺻْﺒِﺮُﻭﺍْ ﻭَﺻَﺎﺑِﺮُﻭﺍْ ﻭَﺭَﺍﺑِﻄُﻮﺍْ ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍْ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗُﻔْﻠِﺤُﻮﻥَ
হে ঈমানদানগণ! ধৈর্য্য ধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন কর। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সামর্থ হতে পার।(সূরা আলে ইমরান-২০০)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি যেভাবে নিজের দোষ স্বীকার করে করে চলতেছেন, সেভাবেই চরাফেরা করুন। স্বামীর মন পরিবর্তনের জন্য দু'আ করুন। তার সমস্ত প্রয়োজন একান্ত আপন মনে আঞ্জাম দেয়ার চেষ্টা করুন। সে পৃথক থাকলে তার হক আদায়ের জন্য তার রুমে যাওয়া যদিও ওয়াজিব নয়, তথাপি মাঝেমধ্যে আগ বাগিয়ে যাবেন। তার সামনে সর্বদা সেজেগুজে থাকবেন। আপনি আপনার মা বাবা এবং স্বামীকে বুঝিয়ে শুনিয়ে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। নারীদের জন্য ফ্রিমিক্সিং পরিবেশে চাকুরী করা কখনো জায়েয নয়। তাছাড়া আপনি চাকুরীতে গেলে আপনার সন্তানকে কে লালন পালন করবে?
ঘরেই থাকুন।স্বামীর মন জয় করার যাবতীয় চেষ্টা করুন।ডিভোর্সের চিন্তাকে পরিত্যাগ করুন। আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুক।আমীন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...