আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

+1 vote
59 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (6 points)
আসসালামুয়ালাইকুম , আমি নজর হেফাজত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই?
প্রশ্নঃ ১| অনেক সময় মোবাইলে, ঘরে, কিংবা রাস্তা ঘাটে গাইরে মাহরাম এর ওপর ভুলে চোখ পড়ে যায় তখন আমি চোখ সরিয়ে ফেলি এতে কি আমার চোখের হেফাজত হবে ? ভুলে চোখ গায়রে মাহরাম এর ওপর পরার পর ঐ পুরুষ কে দেখেছি এক সেকেন্ড এর জন্য হলেও , যেহেতু সেটা ভুলে করে তারপর তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে ফেলার পরেও এটা কি চোখের হেফাজত হয়েছে? নাকি ভুল করে ও চোখ গায়রে মাহরাম এর ওপর না পড়া এটা কি চোখের হেফাজত? একবারেই যে চোখ পড়বে না এটা তো অসম্ভব।

প্রশ্নঃ ২| আমার প্রতি মাসের একটি দৈনিক চার্ট লিস্ট আছে যেখানে প্রতিদিনের হিসাব নেই। সেখানে প্রতিদিন নজরের হেফাজত করেছি কিনা সেটা উল্লেখ আছে। এখন আমি আমার চার্ট লিস্টে কি দিবো বুঝতে পারছি না । আমি চার্ট লিস্টে প্রতিদিনের হিসাব নেই সেখানে একদিন ও চোখের হেফাজত এর ঘরে ঠিক চিহ্ন দিতে পারিনি শুধু এটা না বুঝার জন্য। এখন যদি ভুল করে চোখ গায়রে মাহরাম এর ওপর পরার পর তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে ফেলি তাহলে কি চার্ট লিস্টে ঠিক চিহ্ন দিতে পারবো ?


প্রশ্নঃ ৩| গায়রে মাহরাম এর ওপর ভুল করে চোখ পড়লে নজরের হেফাজত হয় কিনা? চোখ সরিয়ে ফেলার পরেও বারবার এমন হলে করণীয় কি?


প্রশ্নঃ ৪| অনেক সময় গায়রে মাহরাম এর চেহারা চোখে ভাসে, কল্পনায় চলে আসে এতে কি চোখের হেফাজত হবে? নাকি মনের যিনার মতো গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (714,870 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ؛ فَإِنَّمَا  لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ “

হযরত বুরাইদা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ  হযরত আলী রাঃ কে বলেন, হে আলী! [সহসা] একবার দেখার পর পুনরায় [কোন বেগানা নারীকে] দেখো না। কারণ, তোমার জন্য প্রথমবারে অনুমতি রয়েছে [যখন তা অনিচ্ছায় হয়ে যাবে], কিন্তু দ্বিতীয়বারের অনুমতি নেই।
 {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৯৭৪, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৭৫১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৪৯, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭৭৭}

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَنْظُرُ إِلَى مَحَاسِنِ امْرَأَةٍ أَوَّلَ مَرَّةٍ، ثُمَّ يَغُضُّ بَصَرَهُ إِلَّا أَحْدَثَ اللهُ لَهُ عِبَادَةً يَجِدُ حَلَاوَتَهَا “

হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে কোন মুসলমান কোন নারীর সৌন্দর্যের প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায়, অতঃপর সে নিজ চক্ষু নিচু করে নেয়, তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য এক ইবাদতের সুযোগ সৃষ্টি করেন, যাতে সে তার স্বাদ পায়। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২২৭৮}

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার চোখের হেফাজত হয়েছে।

(০২)
এক্ষেত্রে চার্ট লিস্টে ঠিক চিহ্ন দিতে পারবেন।

(০৩)
গায়রে মাহরাম পুরুষদের দিকে বিনা প্রয়োজনে ইচ্ছাকৃতভাবে নজর দিবেনা।

যদি বিনা প্রয়োজনে ইচ্ছাকৃতভাবে নজর দেয়,সেক্ষেত্রে এর দরুন গুনাহ হবে।
এমতাবস্থায় চোখের হেফাজত হবেনা।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي نَبْهَانُ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ مَيْمُونَةُ فَأَقْبَلَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَذَلِكَ بَعْدَ أَنْ أُمِرْنَا بِالْحِجَابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " احْتَجِبَا مِنْهُ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ أَعْمَى لاَ يُبْصِرُنَا وَلاَ يَعْرِفُنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا أَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهِ " .
মুহাম্মদ ইবন আলা (রহঃ) .... উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি এবং মায়মূনা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলাম। তখন সেখানে আবদুল্লাহ ইবন উম্মু মাকতুম (রাঃ) আসেন। আর এটি ছিল পর্দার আয়াত নাযিলের পর। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা দু’জন এর থেকে পর্দা কর। তখন আমরা বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদের দেখতে পায়না, চিনতেও পারেনা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমরাও কি অন্ধ, তোমরা দু’জন কি তাকে দেখছো না?
মিশকাত ৩১১৬, ইরওয়া ১৮০৬, আবু  দাউদ ৪০৬৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৭৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]

আরো জানুনঃ- 

(০৪)
কুচিন্তা আসলে সেক্ষেত্রে গুনাহ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 325 views
...