আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
13 views
ago in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু মুহতারাম।

প্রথমে পাত্রের অভিভাবক পাত্রীকে দেখে যাওয়ার পর, পাত্র প্রায় ১মাস পর তার ভার্সিটি থেকে বাসায় আসলে পাত্রীকে পুনরায় ফেমেলি সহ দেখে যায়।সেই দিনই তারা জানায় তাদের পাত্র  + ফ্যামেলি বেকগ্রাউন্ড সবই পছন্দ ।তার আগেও এলাকায় খুব ভালোভাবেই মেয়ে সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছিলো।   কিন্তু পাত্রপক্ষ দেখে যাওয়ার দিনই ২ দিন সময় চায় ইস্তেখারা করার জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের দিক থেকে কোনো আগ্রহ দেখা না যাওয়ার ফলে এ প্রস্তাব এখানেই সমাপ্ত হয়ে যায়।

কিন্তু পরবর্তীতে ছেলে নিজেই আগ্রহ নিয়ে ফ্যামেলিতে জানাই,,উনি রাজি, আগেও নাকি রাজিই ছিলো। তবে উনার পড়াশোনার জন্য সময় চাচ্ছিলো। পরবর্তীতে ২ পক্ষের সম্মতিতে বিয়ের কথাবার্তা আগাই।ছেলে সময় দিতে পারবেনা বিধায় বিয়ের সম্পন্ন হওয়ার তারিখ প্রায় ২ মাস পর নির্ধারণ করা হয়।

তবে ছেলের আবার জানুয়ারি মাসের শেষে বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ফলে আবার ১ মাস লেইট হবে, তাহলে টোটাল ৩ মাসের মতো অপেক্ষার প্রহর গুণতে হবে।  এর মাঝে উনার আরো ২টা পরীক্ষা হবে।তাই উনি চাচ্ছে না পরীক্ষার মাঝে নিকাহ্ সম্পন্ন করতে। এতে করে একাডেমিক, চাকরির এবং বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে একটু ব্যাঘাত হবে এজন্য ।ছেলে এখনো বেকার।তবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা আলহামদুলিল্লাহ্।

তবে মেয়ের ফ্যামিলির অভিভাবকরা এই বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত,ফলে প্রায় মন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে ।
পাত্র - পাত্রী ২ জনই দ্বীনদার। তাদের মাঝে কোনো রকম যোগাযোগ হয় না। তবে অভিভাবকদের মধ্যে মাঝে মাঝে কথা হয়।

আমার জানা মতে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর তো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আকদ সম্পন্ন করা উত্তম ।
তবে এক্ষেত্রে পাত্রের জন্য  বিয়েতে বিলম্ব করা কতটা শরীয়তসম্মত।

1 Answer

0 votes
ago by (702,120 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/76740/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ঘরে থাকলে তাদের দ্রুত বিয়ে দেওয়ার বিধান ইসলাম দিয়েছে। মা-বাবার কর্তব্য হচ্ছে মেয়েকে দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করা। কিন্তু মা-বাবা যদি বিয়ের ব্যবস্থা না করেন তাহলে গুনাহগার হবেন। বিয়ের জন্য চেষ্টা করছেন কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না সময় যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে তার মা-বাবা গুনাহগার হবেন না। মা-বাবা যদি বিয়ের ব্যাপারে অবহেলা করেন, তাহলে তাদের গুনাহ হবে, কোনো সন্দেহ নেই।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

من وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَلْيُحْسِنِ اسْمَهُ وَأَدَبَهُ فَإِذَا بَلَغَ فَلْيُزَوِّجْهُ فَإِنْ بَلَغَ وَلَمْ يُزَوِّجْهُ فَأَصَابَ إِثْمًا فَإِنَّمَا إثمه على أَبِيه

তোমাদের মাঝে যার কোনো (পুত্র বা কন্যা) সন্তান জন্ম হয় সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে এবং তাকে উত্তম আদব কায়দা শিক্ষা দেয়; যখন সে বালেগ অর্থাৎ সাবালক/সাবালিকা হয়, তখন যেন তার বিয়ে দেয়; যদি সে বালেগ হয় এবং তার বিয়ে না দেয় তাহলে, সে কোনো পাপ করলে উক্ত পাপের দায়ভার তার পিতার উপর বর্তাবে। (বাইহাকি ৮১৪৫)

عن محمد بن عمر بن علي بن أبي طالب، عن أبيه، عن علي بن أبي طالب، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: " يا علي، ثلاث لاتؤخرها: الصلاة إذا آنت، والجنازة إذا حضرت، والأيم إذا وجدت لها كفئًا".

 (1 / 320، باب ما جاء في الوقت الأول من الفضل، ابواب الصلوٰۃ، ط:شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر)

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হে আলী, তিন কাজে দেরি করবে না। সময় হয়ে গেলে নামাজ আদায়ে, জানাজা এসে গেলে জানাজার নামাজ পড়তে এবং কুফু মিলে গেলে বিবাহে বিলম্ব করবে না।’ 
(তিরমিজি, মিশকাত, হাদিস : ৬০৫)

যখন ছেলে-মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং কুফু বা সমমানের পাত্র-পাত্রী পাওয়া যায়, অভিভাবকের দায়িত্ব তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করা। ছেলে-মেয়েদের যত দ্রুত বিবাহের ব্যবস্থা করা যাবে ততই তারা ব্যভিচার থেকে বাঁচতে পারবে।

مصنف عبد الرزاق :

"عن يحيى بن أبي كثير قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا جاءكم من ترضون أمانته وخلقه فأنكحوه كائنًا من كان، فإن لاتفعلوا تكن فتنة في الأرض وفساد كبير»، أو قال: «عريض»".

 (6/ 152، کتاب النکاح، باب الاکفاء، رقم الحدیث:10325، ط:المجلس العلمی ، الھند) 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
রাসুলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেনঃ- তিন কাজে দেরি করবে না। 'সময় হয়ে গেলে নামাজ আদায়ে, জানাজা এসে গেলে জানাজার নামাজ পড়তে এবং কুফু মিলে গেলে বিবাহে বিলম্ব করবে না।’ 

★প্রশ্নের বিবরণ মতে পাত্র আপনার ভরণপোষণ এবং মোহরানা কোনোটি আদায়ে সক্ষম নয় তাই।

এই দৃষ্টিকোণ হতে তিনি যদি দেরি করতে চান, তাহলে এটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য ওযর।

এমতাবস্থায় আপনারা যদি অপেক্ষা করতে না চান, সেক্ষেত্রে আপনারা তাদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনে অন্য পাত্র দেখতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...