আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
31 views
in হজ ও উমরা (Hajj and Umrah) by (63 points)
edited by
একজন তালাকপ্রাপ্তা নারী উমরাহতে যেতে ইচ্ছুক। তিনি উমরাহতে যাওয়ার  জন্য নিজের খরচ বহনের সক্ষমতা রাখেন। তার মাহরামগণ সামর্থ্যবান না, তাদের কেউই তার সাথে যাওয়ার আর্থিক সক্ষমতা রাখেন না।
এমতাবস্থায় তিনি তার ভাইয়ের বন্ধুর সঙ্গে যেতে চান। ভাইয়ের বন্ধু তার নানীকে নিয়ে উমরাহতে যাবেন। নানী শারীরিকভাবে পরিপূর্ণ সুস্থ নন,হুইলচেয়ারে করে তাকে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এই নারী তার ভাইয়ের বন্ধুর নানীর সাহায্যকারী হিসেবে যেতে চান। তিনি নানীর সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সাহায্য করবেন এবং নিজের উমরাহ করবেন।

এক্ষেত্রে ওই নারী তার নিজের খরচ নিজে বহন করবেন। মাহরাম ব্যতীত এভাবে যাওয়া কি তার জন্য জায়েজ?

২.অনেক সময় দেখা যায় যে, কোনো নারী যিনি শারীরিকভাবে অক্ষম উমরাহ এর কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য; হুইলচেয়ারে করে অন্য একজন নারী তাকে উমরাহ এর কার্যক্রম করতে সহায়তা করে। সহায়তাকারী নারী তার পরিবারের কেউ নন,বাসার কাজ করার খাদিমাহ কিংবা এরকম কেউ হোন।

এমতাবস্থায় সহায়তাকারী নারী তার মাহরামের সাথে উমরাহতে যায় না,তার উমরাহ এর খরচ যে নারীর সহায়তাকারী হিসেবে যাচ্ছেন তিনি কিংবা তার মাহরাম কেউ বহন করে এবং উমরাহতে যায়ও তার এবং তার মাহরামের সাথে। উক্ত সহায়তাকারী নারী মাহরাম ব্যতীত যান। এক্ষেত্রে তার উমরাহ কি সহীহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
কোনো নারীর জন্য মাহরাম পুরুষ ছাড়া হজ্ব,উমরাহতে যাওয়া জায়েজ নেই।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِاِمْرَأَةٍ وَلَا تُسَافِرَنَّ امْرَأَةٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمٌ. فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ اكْتُتِبْتُ فِىْ غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا وَخَرَجَتِ امْرَأَتِىْ حَاجَّةً قَالَ: اِذْهَبْ فَاحْجُجْ مَعَ اِمْرَأَتِكَ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

 [‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন পুরুষ যেন কক্ষনো কোন স্ত্রীলোকের সাথে এক জায়গায় নির্জনে একত্র না হয়, আর কোন স্ত্রীলোক যেন কক্ষনো আপন কোন মাহরাম ব্যতীত একাকিনী সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! অমুক অমুক যুদ্ধে আমার নাম লেখানো হয়েছে। আর আমার স্ত্রী একাকিনী হজের উদ্দেশে বের হয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যাও তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্জ/হজ করো।

সহীহ : বুখারী ৩০০৬, মুসলিম ১৩৪১, আহমাদ ১৯৩৪, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২৫২৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১০১৩৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৭৫৭।
ইবনে আববাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেছেন,

لاَ تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ، وَلاَ يَدْخُلُ عَلَيْهَا رَجُلٌ إِلاَّ وَمَعَهَا مَحْرَمٌ ”. فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَخْرُجَ فِي جَيْشِ كَذَا وَكَذَا، وَامْرَأَتِي تُرِيدُ الْحَجَّ. فَقَالَ ” اخْرُجْ مَعَهَا

কোনো মহিলা তার মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করবে না এবং কোনো পুরুষ মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার নিকট যাবে না। অতপর এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক সৈন্যদলের সাথে জিহাদে যেতে চাই আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চায়। নবী করীম ﷺ বললেন, তুমিও তার সাথে হজ্বে যাও। (সহীহ বুখারী ১৭৪০)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ওই নারী যদিও তার নিজের খরচ নিজে বহন করবেন,তবুও মাহরাম ব্যতীত এভাবে উমরাহ করতে যাওয়া তার জন্য জায়েজ হবেনা।

এভাবে উমরাহ করলে যদিও উমরাহ আদায় হবে,তবে মাহরাম ছাড়া যাওয়ার দরুন তিনি গুনাহগার হবেন।

(০২)
উমরাহ আদায় হবে।
তবে মাহরাম পুরুষ ব্যতীত এভাবে উমরাহ করতে যাওয়ার দরুন তার গুনাহ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 366 views
...