জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুর করে কুরআন পড়ে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(বুখারী ৭৫২৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১০৪৬, মিশকাত ২১৯৪)
হাদীসটির ব্যাখ্যাঃ-
ব্যাখ্যা: (لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْاٰنِ) এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন জন একাধিক অর্থ বর্ণনা করেছেন।
কেউ বলেন, (لم يحسن صوته) অর্থাৎ- যে সুন্দর কন্ঠে পড়ে না।
কেউ বলেন, (لم يجهر به) অর্থাৎ- যে উঁচু স্বরে পড়ে না।
কেউ বলেন, (لم يستغن به عن الناس) অর্থাৎ যে মানুষের কাছ থেকে এবং পূববর্তীদের ঘটনা প্রবাহ ও কিতাবাদি থেকে অমুখাপেক্ষী হতে চায় না।
কেউ বলেন, (لم يترنم) অর্থাৎ- যে ব্যথিত চিন্তিত হয় না।
কেউ বলেন, (التلذذ والاستحلاء) অর্থাৎ যে মজা পায় না বা স্বাদ পায় না।
কেউ বলেন, (أن يجعله هجيراه) অর্থাৎ- দুপুরে তিলাওয়াত করে না।
কেউ বলেন, যে ঈমানের জন্য কুরআন থেকে উপকার গ্রহণ করে না এবং তার মধ্যস্থিত প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির কথাকে সত্য বলে স্বীকার করে না।
(لم يطلب غنى النفس) অর্থাৎ- যে স্বীয় আত্মপ্রফুল্লতা চায় না।
ইমাম ইবনু হাজার (রহঃ) উপরোক্ত ব্যাখ্যাসমূহের সমন্বয় সাধন করে বলেন যে, সুমধুর সুরে উচ্চৈঃস্বরে চিন্তাবিমোহিত হয়ে ও নিজকে সংবাদ সম্পর্কে অন্যের নিকট অমুখাপেক্ষী মনে করে কুরআন পাঠ করে। কেননা সুললিত কন্ঠের পাঠ দ্বারা অন্তর বিমুগ্ধ হয় অন্তর বিগলিত হয়ে অশ্রু বয়ে যায়।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
এর কারণে তার ঈমান চলে যাবে বিষয়টি এমন নহে।
বরং এর ব্যাখ্যা হল তার ঈমান পূর্ণ নয়।
বিস্তারিত জানুনঃ-
(০২)
তার যে পরিমান কন্ঠ আছে,সে পরিমান সুন্দর কন্ঠে সে পড়ার চেষ্টা করবে।