আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
31 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
১।আমি আগে নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারতাম আলহামদুলিল্লাহ। যত রাত দেড়ি করেও ঘুমাই তবুও ফ্রেস ঘুম দিয়ে সঠিক সময়ে কিয়ামুল লাইল করার তৌফিক হতো আলহামদুলিল্লাহ। তারপর সিদ্ধান্ত নেই যেসব বান্ধবীরা ফজর কিয়ামুল লাইলে উঠতে পারে না তাদের নাম্বারে কল দিয়ে ডেকে দিবো। আলহামদুলিল্লাহ তারাও নিয়মিত হতে পারছে । কিন্তু সমস্যা হলো,পরিবারের ভেতর ও বাহিরে কিছু জিন জাদু সিহরে আক্রান্ত বোনদের সাথে মেলামেশা করার পর আমি আর নিজে কিয়ামুল লাইল আদায় করতে পারি নি।তাছাড়া আমার খুব সহজে বদনজর লেগে যায় অনেক অসুস্থ পর্যন্ত হয়ে যাই।তবে নিয়ত করে ঘুমাই। তবুও হয় মনে থাকে না আর না হয় উঠতে ইচ্ছা হয় না মাথা তেই থাকে না।যেদিন সিরিয়াস হই আজকে বাদ দিবোই না  সেদিন এইটা মনেও থাকে না যে সিরিয়াল ছিলাম।। তবে অন্যদের ডেকে দিতে পারি । কখনো মনে হয় নিজে চেস্টা করেও আদায় করতে পারছি না তো সব বাদ দেই(অন্যদের ডেকে দেয়া)।আবার মনে হয়, নিজের সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু অন্যজনের ফায়দা যদি হয় সেটা বন্ধ করা ঠিক হবে না। বন্ধ করলে শয়তানের ধোকা হবে। আমার কাজ টা কী ঠিক হচ্ছে?


২।বাসার কেয়ার টেকার বা ভার্সিটির দারওয়ান মামা পরিচিত ঝালমুড়ি ওয়ালা এরকম যারা পরিচিত প্রায় দেখা হয় চিনে। তাদের সাথে কতটুকু কথা বলা জায়েয হবে৷।সালাম দেয়া, কেমন আছেন বাসার সবাই ভালো কিনা এমন কথা বলা যাবে?তারপর মেহমান এলে বা আত্মীয়দের ভেতর গায়েরে মাহরাম দের সাথে কতটুকু কথা বলা শরীয়ত সম্মত।

1 Answer

0 votes
by (702,210 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে তাদেরকে কল দিয়ে জাগিয়ে দেওয়ার ভিত্তিতে আপনিও জেগে যেতে পারেন, তাই সে হিসেবে আপনারও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া সহজ হবে।

এজন্য তাদেরকে জাগিয়ে দেওয়া বন্ধ করা উচিত হবে না।

হ্যাঁ আপনি যেদিন উঠতে পারবেন না, সেদিন তো কল দিতেও পারছেন না, এমতাবস্থায় কল না দেওয়ার দরুন কোন সমস্যা নেই।

(০২)
https://ifatwa.info/17598/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে, 
বিনা প্রয়োজনে পর পুরুষকে সালাম দেওয়া ঠিক নয়। তাই কোনো মহিলা এভাবে পরপুরুষকে সালাম দিলে তার সালামের জবাব দিবে না। তবে মনে মনে জবাব দিতে পারবে। প্রকাশ থাকে যে, পরপুরুষের সাথে কোনো বেগানা মহিলার কথা বলার প্রয়োজন হলে তখন কথার শুরুতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবে। এক্ষেত্রে পর্দার বিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া পরপুরুষের সাথে কথা বলার যে আদব কুরআন মজীদে আছে তার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। অর্থাৎ কোমলতা পরিহার করে স্বাভাবিকভাবে শুধু প্রয়োজনীয় কথা বলবে।
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/২৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৬; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৭২,

গায়রে মাহরাম নারীদের সাথে বিনা প্রয়োজনে সালাম আদান প্রদান করা যাবে না। যেমন, পথে চলাচল করা অবস্থায় তাদেরকে সালাম দেওয়া যাবে না। তেমনি তারা সালাম দিলে তার উত্তর শুনিয়ে দেওয়া যাবে না।
হাঁ, কোনো প্রয়োজনে তাদের সাথে কথা বলতে হলে পর্দা রক্ষা করে কথা বলবে এবং এক্ষেত্রে সালামের মাধ্যমে কথা শুরু করাটাই উত্তম। এমনিভাবে মোবাইলে কথা বলার সময়ও সালাম আদান প্রদান করা যাবে। আর মাহরাম নারীদের সাথে সর্বাবস্থায় সালাম আদান প্রদান করা যাবে।
 মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৬৩০০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৯৪৪৯; মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/৪৬৮; আননাহরুল ফায়েক ১/২৭১; রদ্দুল মুহতার ১/৬১৬,

এবিষয়ে ‘আল মাউসুআ’তুল ফিকহিয়্যা’-তে এসেছে,

سَلاَمُ الْمَرْأَةِ عَلَى الْمَرْأَةِ يُسَنُّ كَسَلاَمِ الرَّجُلِ عَلَى الرَّجُلِ وَرَدِّ السَّلاَمِ مِنَ الْمَرْأَةِ عَلَى مِثْلِهَا كَالرَّدِّ مِنَ الرَّجُلِ عَلَى سَلاَمِ الرَّجُلِ وَأَمَّا سَلاَمُ الرَّجُلِ عَلَى الْمَرْأَةِ فَإِنْ كَانَتْ تِلْكَ الْمَرْأَةُ زَوْجَةً أَوْ أَمَةً أَوْ مِنَ الْمَحَارِمِ فَسَلاَمُهُ عَلَيْهَا سُنَّةٌ وَرَدُّ السَّلاَمِ مِنْهَا عَلَيْهِ وَاجِبٌ بَلْ يُسَنُّ أَنْ يُسَلِّمَ الرَّجُلُ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَمَحَارِمِهِ وَإِنْ كَانَتْ تِلْكَ الْمَرْأَةُ أَجْنَبِيَّةً فَإِنْ كَانَتْ عَجُوزًا أَوِ امْرَأَةً لاَ تُشْتَهَى فَالسَّلاَمُ عَلَيْهَا سُنَّةٌ وَرَدُّ السَّلاَمِ مِنْهَا عَلَى مَنْ سَلَّمَ عَلَيْهَا لَفْظًا وَاجِبٌ وَأَمَّا إِنْ كَانَتْ تِلْكَ الْمَرْأَةُ شَابَّةً يُخْشَى اْلافْتِتَانُ بِهَا أَوْ يُخْشَى افْتِتَانُهَا هِيَ أَيْضًا بِمَنْ سَلَّمَ عَلَيْهَا فَالسَّلاَمُ عَلَيْهَا وَجَوَابُ السَّلاَمِ مِنْهَا حُكْمُهُ الْكَرَاهَةُ عِنْدَ الْمَالِكِيَّةِ وَالشَّافِعِيَّةِ وَالْحَنَابِلَةِ وَذَكَرَ الْحَنَفِيَّةُ أَنَّ الرَّجُلَ يَرُدُّ عَلَى سَلاَمِ الْمَرْأَةِ فِيْ نَفْسِهِ إِنْ سَلَّمَتْ هِيَ عَلَيْهِ وَتَرُدُّ هِيَ أَيْضًا فِيْ نَفْسِهَا إنْ سَلَّمَ هُوَ عَلَيْهَا

যেমনিভাবে পুরুষ পুরুষকে সালাম দেয়া সুন্নাত, অনুরূপভাবে নারী নারীকে সালাম দেয়া সুন্নাত। পুরুষ পুরুষের সালামের উত্তর দেয়া এবং নারী নারীর সালামের উত্তর দেয়ার বিধানও অভিন্ন। তবে পুরুষ নারীকে সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে কথা হল, যদি ওই নারী নিজ স্ত্রী, বাঁদি অথবা মাহরাম হয় তাহলে তাকে সালাম দেয়া সুন্নাত এবং তার সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব। বরং সুন্নাত হল, পুরুষ তার পরিবারকে ও মাহরামকে সালাম দিবে। আর যদি ওই নারী বেগানা হয় তাহলে যদি সে বৃদ্ধা হয় কিংবা এমন হয় যে, তার প্রতি আকর্ষণ অনুভূত হয় না তাহলে তাকেও সালাম দেয়া সুন্নাত এবং তার সালামের উত্তর সশব্দে দেয়া ওয়াজিব। পক্ষান্তরে সে যদি যুবতী/তরুণী হয় যে, তার মাধ্যমে পুরুষ কিংবা পুরুষের মাধ্যমে সে ফেতনায় পড়ার আশঙ্কা আছে তাহলে তাকে সালাম দেয়া এবং তার সালামের উত্তর দেয়া শাফিঈ মালেকি ও হাম্বলি মাযহাব মতে মাকরুহ। আর হানাফি মাযহাব মতে বেগানা নারী যদি সালাম দেয় তাহলে পুরুষ মনে মনে উত্তর দিবে। আর বেগানা পুরুষ যদি সালাম দেয় তাহলে নারী মনে মনে উত্তর দিবে। (আল মাউসুআ’তুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়া ৬/১৬৬)

ইমাম নববী রহ. বলেন,

 وإن كانت أجنبية يخاف الافتتان بها لم يسلم الرجل عليها ، ولو سلم لم يجز لها رد الجواب ، ولم تسلم هي عليه ابتداء ، فإن سلمت لم تستحق جواباً

যদি পরনারী এমন হয় যে ,ফিতনার আশঙ্কা আছে তাহলে পুরুষ তাকে সালাম দিবে না। যদি সে সালাম দিয়ে দেয় তাহলে মহিলা উত্তর দিবে না। আর নারী পরপুরুষকে আগে সালাম দিবে না। যদি সে সালাম দিয়ে দেয় তাহলে সে উত্তর পাওয়ার উপযুক্ত হবে না। (আলাযকার ৪০৭)
,
আরো জানুনঃ 
ফিতনার আশঙ্কা না থাকলেও বিনা প্রয়োজনে গাইরে মাহরাম মহিলাকে সালাম দেওয়ার ঠিক নয়।
প্রয়োজন বশত হলে সেটি মুবাহ।
যেমনঃ পরপুরুষের সাথে কোনো বেগানা মহিলার কথা বলার প্রয়োজন হলে তখন কথার শুরুতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবে। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
বাসার কেয়ার টেকার বা ভার্সিটির দারওয়ান মামা পরিচিত ঝালমুড়ি ওয়ালা এরকম যারা পরিচিত প্রায় দেখা হয় চিনে। তাদেরকে বিনা প্রয়োজন সালাম দেয়া জায়েজ নেই।

প্রয়োজন বশত হলে সেটি বৈধ।

বিনা প্রয়োজনে তাদের সাথে কথা বলাও জায়েজ নেই।

প্রয়োজন বশত কথা বলতে হলে সেক্ষেত্রে পূর্ণ পর্দার আড়াল থেকে কথা বলতে হবে, প্রয়োজন অতিরিক্ত কোন কথা বলা যাবে না, হাসাহাসি করা যাবে না।

★তেমনি ভাবে গায়রে মাহরাম মেহমান এলে বা আত্মীয়দের ভিতর গায়েরে মাহরাম দের সাথে বিনা প্রয়োজনে কথা বলাও জায়েজ নেই।

প্রয়োজন বশত কথা বলতে হলে সেক্ষেত্রে পূর্ণ পর্দার আড়াল থেকে কথা বলতে হবে, প্রয়োজন অতিরিক্ত কোন কথা বলা যাবে না, হাসাহাসি করা যাবে না।

সর্বক্ষেত্রে গায়রে মাহরামদের সাথে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর কঠোর রাখবেন, সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

হযরত আয়েশা (রা) এর নিকট মাসয়ালা বা হাদিসের প্রয়োজনে অন্যান্য সাহাবীগণ আসলে, তিনি মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলতেন যেন কারো অন্তর ব্যাধিগ্রস্থ না হয়। (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৪৬)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
নারীদের জন্য গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলতে গিয়ে কর্কশ ভাষায় কথা বলা সবচেয়ে ভালো। 
সুমিষ্ট মোলায়েম স্বরে নয়।

তবে এক্ষেত্রে কর্কশ ভাষায় কথা বলা সমস্যাকর বা বিরক্তিকর মনে হলে বা এভাবে কথা বলতে না পারলে সেক্ষেত্রে মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...