আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
15 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম ।
আমার আপা এ বছর ৫ বছরের চুক্তিতে বিদেশে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে কাজ করেন।

তিনি সরাসরি মদ বা শুকরের মাংস দিয়ে কিছু রান্না করেন না

তবে বার্গার বা স্যান্ডউইচ জাতীয় নাস্ত বানাতে বেকন ও হ্যাম ব্যবহার করা হয় যা খুব সম্ভবত শুকরের মাংস হতে পারে।
মদ তৈরি বা পরিবেশনের হাদিস সম্পর্কে অবগত ছিলাম। এবং আমার আপা মদ নিয়ে কোনো কাজই করেন না।

 কিন্তু

সম্প্রতি জানতে পেরেছি শুকরের মাংস কিছু রান্না করা ও পরিবেশন করলে সেই কাজ হারাম হয় ও উপার্জন হারাম হয়।

আমাদের এ বিষয়ে জানা ছিল না।

তাছাড়া বিদেশে রেস্টুরেন্টের এর কাজ ছাড়া হালাল উপার্জনে কাজ খুব বেশি একটা পাওয়া যায় না।
তাছাড়া বেকারত্বের যাতায় পড়ে আমিও কিছু করতে পারছি না।

 আর এই মুহুর্তে আমার বোন কাজও ছাড়তে পারতেছে না কারণ ৫ বা ১০ বছরের চুক্তিতে ভিসা হয়েছে।

অন্য কোম্পানির চাকরি নিতে স্পনসরশীপের যে পরিমাণ টাকা লাগে সেই পরিমাণ অর্থ আমাদের নাই। উপরোক্ত ভিসাও আল্লাহর দয়ায় একজন শুভাকাঙ্ক্ষী দিয়েছিলেন।

এখন আমরা খুব নিরুপায়বোধ করছি।

আমাদের করনীয় কি?? এই টাকা ব্যবহার করলে কি আমরা হারামে লিপ্ত হবো। এ টাকা দিয়েই আমরা সংসার চালাই।
খুব পেরেশান লাগতেছে।

1 Answer

0 votes
by (703,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/25032/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
মদ বিক্রয় করা, অর্থের বিনিময়ে বহন করা অথবা এ ক্ষেত্রে কোন প্রকার সহযোগিতা করা হারাম।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّه سَمِعَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ عَامَ الْفَتْحِ وَهُوَ بِمَكَّةَ : «إِنَّ اللّٰهَ وَرَسُوْلَه حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ وَالْخِنْزِيرِ وَالْأَصْنَامِ». فَقِيلَ : يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ! أَرَأَيْتَ شُحُومَ الْمَيْتَةِ؟ فَإِنَّه تُطْلٰى بِهَا السُّفُنُ وَيُدْهَنُ بِهَا الْجُلُودُ وَيَسْتَصْبِحُ بِهَا النَّاسُ؟ فَقَالَ : «لَا هُوَ حَرَامٌ». ثُمَّ قَالَ عِنْدَ ذٰلِكَ : «قَاتَلَ اللّٰهُ الْيَهُودَ إِنَّ اللّٰهَ لَمَّا حَرَّمَ شُحُومَهَا أَجْمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَه». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন মক্কা বিজয়ের বৎসর, সেখানে অবস্থানকালে আল্লাহ ও তাঁর রসূল মদ বিক্রি, মৃতজীব বিক্রি, শূকর বিক্রি, কোনো প্রকার মূর্তি বিক্রি হারাম করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! মৃত জীবের চর্বি নৌকায় (বিভিন্ন চামড়াজাত দ্রব্যে) লাগানো হয় এবং লোকেরা তা দিয়ে বাতি জ্বালিয়ে থাকে, তা বিক্রি করা সম্পর্কে আপনার সিদ্ধান্ত কি? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তা-ও বিক্রি করা যাবে না, এটাও হারাম। অতঃপর এর সাথে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কথাও বললেন, আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদী জাতিকে ধ্বংস করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য যখন (হালাল যাবাহকৃত জীবেরও) চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা (অবাধ্য হয়ে কৌশল অবলম্বন করে) তা গলিয়ে বিক্রি করতে লাগলো ও এর মূল্য ভোগ করতে থাকলো। 
সহীহ : বুখারী ২২৩৬, মুসলিম ১৫৮১, আবূ দাঊদ ৩৪৮৬, নাসায়ী ৪২৫৬, তিরমিযী ১২৯৭, ইবনু মাজাহ ২১৬৭, আহমাদ ১৪৪৯৫, ইরওয়া ১২৯০।

যে কোন বিষয়ের ‘হারাম হওয়া’ সাব্যস্ত হলে সে বিষয়ে সহযোগিতা করাও হারাম। যেমন- কোন রেস্টুরেন্টে মদ, মৃতজন্তু, বন্য গাধার গোশত ইত্যাদি পরিবেশন করার কাজ করা।

সৌদি আরবের ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যে সকল হোটেলে শূকরের গোশত, মদ পরিবেশন করা হয় সে হোটেলে চাকুরি করা জায়েয কি না? তারা উত্তরে বলেছেন, এ সকল হোটেলে কাজ করা হারাম। সেখানে কাজ করে যা উপার্জন করা সেটাও হারাম। কেননা এটা অবৈধ বা হারাম কাজে সহযোগিতা। হারাম কাজে সহযোগিতা করা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, “মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না।”[সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ২]
তাই আমরা আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি- আপনি এ জাতীয় হোটেলে চাকুরি করা পরিহার করুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা হারাম ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন তা করতে কাউকে সাহায্য সহযোগিতা করবেন না।[ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র (১৩/৪৯)]

অমুসলিম দেশের রেস্তোরাঁয় কাজ করা যাবে।যারা যেকোনো রেস্তোরাঁয় সেফ বা ওয়েটার হিসাবে কাজ করে তাদের উপার্জন হালাল হবে।

তবে এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো মদ বা হারাম কোনো খাবার পরিবেশন এর কাজ করাও হারাম।
তাই হারাম খাবার পরিবেশনের কাজ বেশি হলে তার বেশির ভাগ ইনকাম হারাম হওয়ায় সেই চাকুরী জায়েজ নেই।    

অমুসলিমদের সামনে হারাম খাদ্য পরিবেশন করা যাবেনা। মদও পরিবেশন করা যাবেনা,অন্য হারাম খাদ্যও পরিবেশন করা যাবেনা। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
সাধারণভাবে বেকন (Bacon) এবং হ্যাম (Ham) — দুটিই মূলত শুকরের গোশত থেকে তৈরি করা হয়।

বেকন: সাধারণত শুকরের পেটের অংশ (pork belly) বা পিঠের অংশ থেকে নেওয়া গোশত লবণ দিয়ে সংরক্ষণ ও ধূমায়িত করে তৈরি হয়।

হ্যাম: শুকরের পশ্চাৎ উরুর (hind leg) গোশত লবণ দিয়ে সংরক্ষণ, স্মোকিং বা রান্না করে তৈরি করা হয়।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার আপা বেকন ও হ্যাম ব্যবহার করে যেসব খাবার তৈরী করবেন,তার ইনকাম হারাম হবে।

হালাল খাবার তৈরির ইনকাম হালাল হবে।
আর হারাম খাবার তৈরির ইনকাম হারাম হবে।

এক্ষেত্রে আপনার আপার জন্য অন্য কোনো হালাল চাকরির খোজ নেয়ার পরামর্শ থাকবে। 
বা সেই রেস্টুরেন্টে হারাম খাবার তৈরী করবেনা বলে জানিয়ে দিবে।

অথবা হারাম খাবার তৈরী হতে কৌশলে এড়িয়ে চলবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
জনাব,, উপরে উল্লেখ করেছিলাম।  এই মুহুর্তে  নতুন কাজ খোজার উপায় নাই..(অন্তত ৫ বছর)   কারণ নতুন কাজ নিতে গেলে যেই পরিমাণ অর্থ লাগে সেই পরিমাণ অর্থ এই  মুহুর্তে  আমাদের নাই। এবং আগামী বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে এই টাকা জমাতে। 
আর সংসার চালানোর মতো অন্য কোনো উপার্জনের ব্যবস্থাও নাই। 
এখন নিরুপায় হয়ে এই টাকা ব্যবহার করা যাবে কি?? 
দয়া করে উত্তর দিয়ে উপকার করবেন।
by (703,140 points)
এমতাবস্থায় সেই রেস্টুরেন্টে হারাম খাবার তৈরী করবেনা বলে জানিয়ে দিবেন।

অথবা হারাম খাবার তৈরী হতে কৌশলে এড়িয়ে চলবেন।

এ দুটি পন্থার কোন পন্থায় অবলম্বন করা যদি সম্ভব না হয় বরং বাধ্যতামূলক যদি হারাম খাবার তৈরি করতে হয় সেক্ষেত্রে নিরুপায় হয়ে আপাতত এই টাকা ব্যবহার করলেও ভবিষ্যতে আসতে ধীরে হারাম টাকা সমপরিমাণ টাকা ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিব মিসকিনকে দান করে দিতে হবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...