আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
123 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (13 points)
আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেবগণ।

আমরা এক আত্মীয়র সাথে তার ৩ বিঘা জমির জন্য বাই বিল ওফা করতে চাই।
তো বাই বিল ওফা করার পদ্ধতি কি? ১ বিঘা জমির সঠিক মুল্য যা হবে যেমন ১ বিঘার দাম ১০ লাখ টাকা। তো ৩ বিঘার জন্য আমাদের তাহলে ৩০ লাখ পেমেন্ট করতে হবে?

শরীয়াহ অনুযায়ী আমরা আর কি কি মেইন্টেন করতে পারি এই লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য?
দ্বিতীয়তঃ
আমরা এই জমি বাই বিল ওফা করার পরে তো সেটার মালিক আমরা হবো তারপরে আমরা যদি চাই সেই আত্মীয় আর আমরা মিলে অর্ধেক করে খরচ বহন করে ধানের সময় ধান বা অন্যান্য আবাদ করি তাহলে এটা জায়েজ হবে কি না? অথবা আমি মালিক হওয়ার পরে সেই জমি পুনরায় অন্য কাউকে বাৎসরিক ভাবে একটা মুল্যের বিনিময়ে ইজারা দিতে পারবো কি না?

দয়া করে জানালে অনেক উপকৃত হবো। জাযাকাল্লাহ।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/130920/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
বাই বিল ওয়াফাঃ
“একটি শর্তযুক্ত বিক্রয় চুক্তি, যেখানে বিক্রেতা ক্রেতাকে বলে —
আমি এই সম্পত্তি তোমার কাছে বিক্রি করছি, তবে যখন আমি দাম ফেরত দেব, তখন তুমি এই সম্পত্তি আমাকে ফেরত দেবে।”

অর্থাৎ:
এটি এমন এক “বিক্রয়” যা প্রকৃতপক্ষে “ঋণের নিরাপত্তা-এর মতো হয়।
বাস্তবে এটি বিক্রয় নয়, বরং ঋণের ছদ্মবেশে সম্পত্তি বন্ধক রাখা।

এটি প্রকৃত বিক্রয় নয়, বরং ঋণ ও বিক্রয়ের মিশ্রণ, যেখানে উভয় দিকের শর্ত আছে —
এবং রাসূল ﷺ স্পষ্টভাবে এমন লেনদেন নিষিদ্ধ করেছেন।
---
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

 وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
“আল্লাহ বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।”
(সূরা আল-বাকারা ২:২৭৫)

এই আয়াতের ভিত্তিতে ইসলাম বিক্রয় ও ঋণকে পৃথক রেখেছে; উভয়কে একসাথে মিশানো রিবা বা প্রতারণার রূপ।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

«نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ»
— রাসূল ﷺ এক বিক্রয়ে দুই চুক্তি করার নিষেধ করেছেন।
(তিরমিযি, হাদীস: ১২৩১; আহমদ, আবু দাউদ)

অর্থাৎ, এক চুক্তির মধ্যে দুটি শর্ত বা লেনদেন মেশানো হারাম।
বাই‘ আল-উফা ঠিক এইরকম — বিক্রয় ও রেহনের মিশ্রণ।


◼️ ইমাম আবু হানিফা ও তার আসহাব (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) তাঁরা বলেন, এটি ফাসিদ (অবৈধ বিক্রয়)।
কারণ বিক্রয় তখনই বৈধ হবে যখন মালিকানা স্থায়ীভাবে হস্তান্তর হয়,
কিন্তু এখানে বিক্রেতা পুনরুদ্ধারের শর্ত দিয়েছে, ফলে বিক্রয়ের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়।

 (সূত্র: “الفتاوى الهندية” ٣/١٧٣, “الدر المختار مع رد المحتار” ٥/٧٧)


ফতওয়া আলামগিরি (الفتاوى الهندية):

“بيع الوفاء الذي هو أن يقول البائع للمشتري: بعتك على أني إذا رددت الثمن رددت المبيع، هو بيع فاسد.”
অর্থাৎ: “যে বিক্রয়ে বলা হয়, আমি বিক্রি করছি এই শর্তে যে দাম ফেরত দিলে সম্পত্তি ফেরত দেবে — এটি ফাসিদ বিক্রয়।”

ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন,

“এই ধরণের বিক্রয় ‘ঋণের নিরাপত্তা’ হিসেবে প্রচলিত, কিন্তু প্রকৃত অর্থে এটি বিক্রয় নয়। তাই এটি শরীয়তসম্মত নয়।”
(رد المحتار ٥/٧٧)

যেহেতু বিক্রয়ের মধ্যে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে (শর্ত বিক্রয় বাতিল করে),এতে সুদ বা অন্যায্য লাভের উপাদান আছে,এতে প্রতারণা ও অনিশ্চয়তা (غرر) আছে,এটি বিক্রয় নয়, বরং রাহন/ঋণের ছদ্মবেশ।

সুতরাং এটি জায়েজ নেই।

তবে যদি প্রথম থেকেই কোন চুক্তি না করা হয় বরং ক্রয় বিক্রয় সম্পাদন হওয়ার পর ও উক্ত ব্যাক্তির মালিক হয়ে যাওয়ার পর সাধারণভাবে যদি প্রথম ব্যক্তির কাছে সে জমিটি বিক্রি করে দিতে চায়, তাহলে তা জায়েজ আছে।

উল্লেখ্য, বাই বিল ওয়াফা এর উক্ত পদ্ধতি নিয়ে ফুকাহায়ে কেরামদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ সহজতার জন্য উক্ত পদ্ধতিটিকে জায়েয বলেছেন।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে ১ বিঘা জমির সঠিক মুল্য যা হবে যেমন ১ বিঘার দাম ১০ লাখ টাকা। তো ৩ বিঘার জন্য আপনারা যদি ৩০ লাখ পেমেন্ট করেন,আর এক্ষেত্রে যদি পুনরায় তার কাছে বিক্রয় করতে হবে,এমন শর্ত করা না হয়,সেক্ষেত্রে এই চুক্তি বৈধ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...