আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
74 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ


১. ধরুন, “ক” আমার কাছে “খ”-এর করা আচরণ (যা “খ” তার সাথে করেছে) নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে কান্নাকাটি করে। আমি সেগুলো শুধু শুনে নিজের মধ্যেই রেখে দিই, “ক”-কে শান্তনা দিই, বলি “আহারে, খ কেন এমন করল”— এর বেশি কিছু না। এটা কি গীবত বা চোগলখোরির (নামিমা) মধ্যে পড়ে?


২. কেউ যদি আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অন্যায় আচরণ করে, এমনকি আমার বা আমার পরিবারের ক্ষতি করে— এখন যদি আমি কেবল মনের দুঃখ হালকা করার জন্য কাউকে বলি, “ওমুক আমার সঙ্গে এমন আচরণ করেছে”— তাহলে কি এটি গুনাহ হবে? এটি কি গীবত বা বাকিবাদের অন্তর্ভুক্ত হবে?

৩. কেউ আমার সঙ্গে অনেক অন্যায় করেছে— আমার আপন মানুষদের অপমান করেছে, তাদের কারণে আমার সংসারে অশান্তি ও সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে, এমনকি আমার অনেক ক্ষতিও হয়েছে। এখন আমি কি তাদের থেকে দূরে থাকতে পারি? মানে, শুধু সাধারণভাবে “কেমন আছেন, ভালো আছি” এই ধরনের সৌজন্য কথা বলা ছাড়া আর কোনো সম্পর্ক না রাখা— এটা কি ইসলামের দৃষ্টিতে ঠিক হবে? যদি সে আমার আত্মীয় ও হয়

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

গীবত করা কবীরা গোনাহ। এটি হারাম। তাই এটি শোনাও হারাম। কারণ যে কাজ করা হারাম। সে কাজ করতে সহযোগিতা করাও হারাম।

কারণ যে শুনছে, সে যদি না শুনতো, তাহলে গীবতকারী গীবত করতে পারে না। যদি যে শ্রোতা সে যদি বাঁধা দেয়, তাহলে গীবতকারী গীবত করতে পারে না। তাহলে শ্রোতা শোনার দ্বারা গীবতকারীকে গীবতের মত কবীরা গোনাহ করতে সহযোগিতা করছে। আর গোনাহের সহযোগিতা করাও নিষিদ্ধ। তাই উভয় কাজই নিষিদ্ধ ও হারাম।

وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [٤٩:١٢] 

তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী,পরম দয়ালু। [সূরা হুজুরাত-১২}

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ [٥:٢] 

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। [সূরা মায়িদা-২] 

وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ [٦:٦٨] 

যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না হয়,যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন করবেন না। [সূরা আল আনআম-৬৮] 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এটি গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে। এটি কবিরা গুনাহ। 

হ্যাঁ, এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর এমন লোকের নিকট উক্ত দোষের কথা বলা,যে সেই দোষকারী ব্যাক্তিকে সংশোধন করতে পারে,তাহলে এর অনুমোদন রয়েছে।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন 

(০২)
এটিও গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে। 

হ্যাঁ, এক্ষেত্রে এমন লোকের নিকট উক্ত দোষের কথা বলা,যে সেই দোষকারী ব্যাক্তিকে সংশোধন করতে পারে,তাহলে এর অনুমোদন রয়েছে।

অথবা কাউকে সেই জালেমের অন্যায় আচরণ থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে সেই ব্যাক্তিকে বললে নাজায়েজ হবেনা।

(০৩)
হ্যাঁ, প্রশ্নের বিবরন মতে আপনি এভাবে তাদের থেকে দূরে থাকতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

...