আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
98 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম
আমার স্বামী একজন পুরুষবাদী,বদমেজাজী, গালিবাজ।সে আমার গায়ে অনেকবার হাত তুলেছে।আমার ফ্যামিলিকে সে দেখতেই পারেনা।আর তার মাঝে দ্বীনদারিতাও নেই যদিও সে আলিম।বেশ কিছুদিন হয়েছে আমি তার কাছ থেকে চলে এসেছি।এখন আমার ফ্যামিলি আমাকে ওইখানে দিতে রাজিনা।অপরদিকে তিনি ও তার ফ্যামিলি আমাকে নিতে চায়।এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।আমি খুব সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি।

আমি তার ওইসব আচরণে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি তাই তার ওমন আচরণে এখন আর তেমন খারাপও লাগেনা।সব সময় তো আর খারাপ আচরণ করেনা।ভালো খারাপ মিলিয়েই।মানে আমি ওইখানে ব্যাক করলেও আমার খুব একটা সমস্যা হবে না।মানিয়ে নিতে পারবো ইন শা আল্লাহ।আবার এইখানে অর্থাৎ ডিভোর্স নিয়ে আমার ফ্যামিলির সাথে থাকতেও তেমন অসুবিধা নেই।উনাদের থেকে সাপোর্ট পাবো ইন শা আল্লাহ।বলতে গেলে দুই দিকই আমার জন্য ইতিবাচক


এইবার আসি মূল বিষয়ে।এইখানে আসার পর আমি আল্লাহর সাথে নিজেকে খুব কানেক্টেড অনুভব করছি।খুব বেশিই।আমার জীবন যেনো ১৮০ডিগ্রি এংগেলে ঘুরে গিয়েছে।আমি আমার দ্বীন নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করছি,দাওয়াতি কাজে কিভাবে কী করবো তা নিয়ে ফিকির করছি।তবে আমার ভয় হয় যদি আমার স্বামীর কাছে ব্যাক করলে আমার এই জজবা কমে যায়!ওইখানে যে দ্বীন পালনে বাধা অনুভব করি এমন না ।তবে আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছে আমি আবারো আস্তে আস্তে দূরে সরে যাবো ওইখানে গেলে।এটা সম্পূর্ণ আমার অনুমান।বিপরীতও হতে পারে।আমার দ্বীনের ব্যাপারে আমি কোনো রিস্ক নিতে চাচ্ছি না।


শাইখ,আমাকে পরামর্শ দিন কোনটা করা আমার জন্য উপযুক্ত হবে।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

দাম্পত্য জীবন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনেক বড় ও বিশেষ একটি নেয়ামত। স্বামী-স্ত্রী সকলের কর্তব্য, এই নেয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং একে অপরের সকল অধিকার আদায় করা। স্ত্রীর জন্য উচিত নয়, কথায় কথায় স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া। আবার স্বামীর জন্যও জায়েয নয় আল্লাহ তাআলার দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করা।

কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
তাই আপনি আর কোনো সময়েই স্বামী থেকে তালাক চাইবেননা।

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا فِيْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ ؛ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْـجَنَّةِ.

‘‘যে কোন মহিলা কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া নিজ স্বামীর নিকট তালাক চাইলো তার উপর জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে’’। (আবূ দাউদ ২২২৬; তিরমিযী ১১৮৭; ইব্নু মাজাহ্ ২০৫৫)

সাওবান (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

الْـمُخْتَلِعَاتُ ؛ هُنَّ الـمُنَافِقَاتُ.

‘‘(কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া) কোন কিছুর বিনিময়ে তালাক গ্রহণকারিণী মহিলারা মুনাফিক’’। (তিরমিযী ১১৮৬)

তবে কোন মারাত্মক সমস্যা দেখা দিলে কোন কিছুর বিনিময়ে স্বামীর কাছ থেকে তালাক গ্রহণ করা যেতে পারে।

‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা হাবীবা বিন্তে সাহ্লকে তার স্বামী সাবিত বিন্ ক্বাইস বিন্ শাম্মাস মেরে তার একটি হাড় ভেঙ্গে ফেলে। ভোর বেলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ব্যাপারে জানানো হলে তিনি সাবিতকে ডেকে পাঠালেন। অতঃপর বললেন: তুমি তার (তার স্ত্রী) কাছ থেকে কিছু সম্পদ নিয়ে তাকে ছেড়ে দাও। সাবিত বললেন: এমনকি চলে হে আল্লাহ্’র রাসূল! তিনি বললেন: হ্যাঁ, চলে। তখন সাবিত বললেন: আমি তাকে দু’টি খেজুরের বাগান দিয়েছি। এখনো তা তারই দখলে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: বাগান দু’টি নিয়ে তাকে ছেড়ে দাও। অতঃপর সাবিত তাই করলেন। (আবূ দাউদ ২২২৮)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামী যদি আপনাকে ওয়াদা দেয় যা আপনাকে আর কোন মারধর করবে না, আপনার সাথে অন্যায় ভাবে কোন খারাপ আচরণ করবে না এবং পাশাপাশি তার পরিবার আপনাকে সাপোর্ট দিতে চায়, সেক্ষেত্রে পরামর্শ থাকবে স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার।

এবং আপনি যে দাওয়াতি কাজে ফিকির নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করতেছেন আশা করি এটি সমস্যা করা হবে না।

আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরী স্বামীর সাথে ঘর সংসার করা।

পারিবারিক কার্যক্রম আদায়ের পর ঘরোয়া ভাবে দাওয়াহ বিষয়ে কাজ করার পরামর্শ থাকবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...