আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
77 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (9 points)
আসসালামু আলাইকুম৷ প্রশ্নটি একটু ভালো করে পড়ে উত্তর দিলে ভালো হয়। অনেক অশান্তিতে আছি।
আমার চুল একটা শ্যাম্পু অনেকদিন দিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন প্রোডাক্ট খুঁজছিলাম, সাথে ফেসওয়াশও লাগত৷ তো অনেকগুলো প্রোডাক্টের মাঝে কোনটা নেব একদমই বুঝতে না পেরে অনেকবার ইস্তিগফার করি আর দুয়া করতে থাকি, যে আমাকে যাতে আল্লাহ ভালোকিছু প্রোডাক্ট মিলিয়ে দেন। তখন হঠাৎ মনের মধ্যে দুটা প্রোডাক্টের নাম চলে আসে, যে এদুটা নিলে সবচেয়ে ভালো হবে। আমার সাথে এমন আগে হয়নি, তাই সন্দেহে পড়ে যাই। এরপরে ওই দুটো প্রোডাক্টের মাঝে একটা নেই। আরেকটার বদলে অন্য প্রোডাক্ট নেই৷ পরে যেটা বদলে নিয়েছিলাম সেটা একদমই স্যুট করেনা। যেটা ইস্তেখারা থেকে পেয়ে নিয়োছিলাম সে শ্যাম্পুটা মোটামুটি স্যুট করে, মা বলে চুল আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে গেছে। কিন্তু চুল পড়া শুরু করে, আগে এত পড়তনা। তখন আমি ভাবি যে আসলেই আল্লাহ আমাকে নামগুলো দিয়েছেন। এরপরে আরেকদিন মায়ের সাথে কথা কাটাকাটি হয়, মা বলে যে আমার বিয়ের জন্য যে বায়োডাটাগুলো দিয়োছি সেগুলো এডিট করতে৷ কারণ কোনো পাত্র যোগাযোগ করছেনা। তখন কষ্ট পেয়ে আবার ইস্তিগফার আর দরুদ পড়তে পড়তে বিয়ে নিয়ে দুয়া করছিলাম, আল্লাহকে জিজ্ঞেস করছিলাম যে এখনো কোনো পাত্র আসছেনা, আদৌ কি আমার জন্য কেউ আছে? অনেক খারাপ লাগছিল, তখন হঠাৎ আগের মত একটা কন্ঠ বলে- "আছে"। তখন আমি সাথেসাথে আবার জিজ্ঞেস করি তাহলে কি বায়োডাটা যাদের দিয়েছি সেগুলো এডিট করব? তখন সাথেসাথে উত্তর আসে-
" অর্ধেকদীনে দিতে হবে"। এটা আমি ঘুনাক্ষরেও চিন্তা করিনি৷ এই ওয়েবসাইটে বায়ো দেয়ার কথা ভাবিওনি। এরপরেও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইস্তেখারা করি, আল্লাহকে বারবার বলি যে দুয়ার উত্তর যদি ভুলও হয় তাও মেনে নেব। কিন্তু তখনও বারবার একই কথা মাথায় আসতে থাকে, যে অর্ধেকদীনেই দিতে হবে৷ একবারও অন্যকিছু আসেনি।
তাই আমি সেখানে দেয়ার জন্য বায়ো জমা দেই। কিন্তু প্রশ্ন হল-
১. এই দুয়ার রেজাল্ট কি আসলেই ঠিক? আমার চুলপড়া একদমই বন্ধ হচ্ছেনা। মনে হচ্ছে সব চুল শেষ হয়ে যাবে। তাহলে এটা কীভাবে ঠিক প্রোডাক্ট হল? আর এটা যদি ভুল হয় তাহলে তো পরের দুয়ার ফলাফলটাও ঠিক না। তাহলে কি ইস্তিখারাটাও ভুল? এপর্যন্ত কখনোই আমার ইস্তেখারা থেকে পাওয়া সিদ্ধান্ত থেকে আফসোস হয়নি, সব ঠিক এসেছে। কিন্তু গত কিছুদিন আগে আমি একজনের সাথে শেয়ার করি যে কীভাবে আমার ইস্তেখারার রেজাল্ট সবসময় দ্রুত আসে। সে বলছিল যে তার নাকী কিছুই আসেনা। এমন কি হতে পারে যে আমার নজর লেগে ইস্তেখারার নিয়ামত চলে গেছে? তাহলে কি অর্ধেকদীনে বায়োডাটা দিয়েও আরো জায়গায়ও পাত্র খুঁজতে থাকব?
২. ইস্তেখারা করে যদি একটা বিয়ে হয়, তাহলে সেটা তালাক হওয়ার কারণ কী?
ইস্তেখারার রেজাল্টের ভূমিকা এখানে কী? এটা কি শুধু তুলনামূলক একজন আমার জন্য ভালো, এটাই বোঝায়? নাকী ইস্তেখারার পরেও ভাগ্য আমার হাতেই নির্ভর করে? অর্থাৎ ঠিকঠাক দুয়া বা চেষ্টা না করলে তালাক হয়ে যেতে পারে? অথবা এই বিয়ের উদ্দেশ্য শুধু চরিত্রগঠন ছিল?
৩. অনেক প্রশ্ন আপনাদের কাছে আসে যে- মেয়ের ইস্তেখারা পজিটিভ আসলেও ছেলে রিজেক্ট করেছে। তখন উত্তর দেন যে এই ছেলের সাথে বিয়ে হলে ভালো হত তাই পজিটিভ এসেছে। কিন্তু তাকদীরে নেই৷
আল্লাহ তো তাকদীর জানেন, ছেলে যে না করবে সেটাও জানেন। তাহলে আল্লাহর তো ওই অনুযায়ীই মেয়েকেও নেগেটিভ রেজাল্ট দেয়ার কথা না!
তাহলে ইস্তেখারা করার কোনো দামই রইলনা!
নাকী মেয়ে যথেষ্ট সিনসিয়ার ছিলনা?

1 Answer

0 votes
by (751,320 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
যখন কারো সামনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসে উপস্থিত হবে।এবং সে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না যে, সে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিবে।তাহলে এমন পরিস্থিতে তার জন্য উচিৎ ইস্তেখারা করা তথা ভালো দিক কে অন্বেষণ করা।অবশ্যই ইস্তেখারা, নামাযের মাধ্যমেই করবে। ইস্তেখারার পদ্ধতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাঃ এক হাদীসে বলেন, দুই রা'কাত নামায পড়ে বিশেষ মনোযোগের সাথে (নিম্নে উল্লেখিত) দু'আ পড়বে।তাহলে হয়তো তার মন কোনো এক দিকে ধাবিত হবে,বা সে স্বপ্নযোগে কোনো এক ইশারা পাবে।  এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1472


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ইস্তেখারার অর্থ হল, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রাব্বে কারীমের মদদ আর সাহায্য কামনা করা। সেটা হয়তো স্বপ্নের মাধ্যমে কাউকে ইঙ্গিত দেয়া হতে পারে আবার কারো অন্তরে সেদিকে টান অনুভব সৃষ্টি করা হতে পারে। যতদিন না মন কোনো এক দিকে ধাবিত হচ্ছে ততদিন আপনি ইস্তেখারা করবেন। 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আমরা সর্বদা ভালোভাবে পড়েই উত্তর দেই। যার জন্য যতটুকু কল্যাণকর ততটুকুই উত্তর দেই। কাউকে সংক্ষেপে এবং কাউকে বিস্তারিত উল্লেখপূর্বক উত্তর দেই।
(১) ইস্তেখারা করে কোনো একটা দিক নির্বাচন করা আপনার দায়িত্ব। তারপর আপনি কল্যাণের আশা রাখবেন।এটাও একটা দায়িত্ব। ইস্তেখারা করার পর আপনার লাভ ক্ষতি যে কোনো একটি হতে পারে। আপনার তাকদীরে যা লিখা থাকবে সেটাই হবে। হ্যা, আপনি অর্ধেক দ্বীন ব্যতিত অন্যত্রও বায়োডাটা দিতে পারবেন।

(২) ইস্তেখারা করার পরও তাকদীর অনুযায়ী ফয়সালা হবে। 

(৩) ইস্তেখারা করা আপনার দায়িত্ব। তারপর তাকদীর অনুযায়ী ফয়সালা হবে। সুতরাং যাতে ভালো কিছু হয়, সেজন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করতে হবে।

মনোভাবকে পরিবর্তন করুন, দেখবেন বিষয়গুলো সহজেই বুঝে আসবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...