আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
162 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম।
লি আন কি? কখন হয়? একটু বিস্তারিত বলবেন দয়া করে।
১) আমার বউ চাকরি করে। এখন আমি যদি সন্দেহ করে, আমার বউ কে বলি তুমি কি বাইরে কিছু সন্দেহ জনক কিছু  করতেছো? তোমার সেই ছেলের সাথে কি? ম্যাসেজ এ কার সাথে কথা বলো এত? তুমি তো বিয়ের আগেও কত প্রেম করে আসছো। এখন করবা না তার কি গ্যারান্টি? তুমি তো মনে হয় বাইরে পরকীয়া করতেছো। হুজুর হাসবেন্ড হিসেবে এমন সন্দেহমুলক কিছু পেলে আমি কি কিছু বলবো না? চুপ করে থাকবো? এগুলা বললে কি লিআন হয়ে যাবে?
এগুলা বলার কারনে কি লিআন হবে?
২) আমার বউ আমাকে রাগের সময়  বলতেছে তুমি তো প্লে বয়। আবার রাগ উঠলে বলে কত মেয়ের সাথে মজা নিছো, এখনো নাও। পরকীয়া করে বেড়াও। এগুলা বলা তে কি লিআন হবে?
৩) হাসবেন্ড ওয়াইফ চায় না তাদের মাঝে এসব লিআন হোক। কিন্ত তারা প্রায়ই জগড়া হলে একজন আরেক জনের অতীত নিয়ে অনেক খারাপ কথা বলে। যে, তুমি এখনো তো ভুলতে পারো না তোমার এক্স কে। এক্স এর জন্য কাতরাও। এগুলা বলে দুইজনেই। এতে কি লিআন হবে?
৪) আমি যদি ভুলে আমার বউ কে মা ডেকে ফেলি, ( যেমন: হ্যারে মা, নারে মা। এবার থাম মা) এটা কি যিহার হবে?
৫) বিয়ের আগে আমার ওয়াইফ এর সাথে পরিচয় ছিল।  বিয়ের আগে কি এমন কিছু বললে, বা মা ডাকলে বিয়ের পরে লিআন বা যিহার হবে? মানে বিয়ের আগে কোনো শর্তযুক্ত লিআন বা যিহার হয় কিনা?
৬) আমরা যতই এসব বলি। সংসার যেহেতু করি এগুলা কথা হবেই। তাই আমি চাচ্ছি না বার বার আপনাদের প্রশ্ন করতে।  আমরা  নিজেরা নিজেরা এসব বলার কারনে, পরকীয়ার অভিযোগ দেয়ার কারনে  কি লিআন হয়ে যাবে? ঠিক কোন বিষয় টা থাকলে তবেই লিআন হবে?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
স্বামী যদি তার স্ত্রীর দিকে যিনা ব্যভিচারের তুহমত প্রদাণ করে,এবং স্বামীর নিকট প্রমাণ না থাকে, তাহলে সেটাকে লি'আন বলা হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ ۙ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ
এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী।
وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ
এবং পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।
وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ ۙ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ
এবং স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চার বার সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী;
وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِن كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ
এবং পঞ্চমবার বলে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে।(সূরা নূর-৬-৯)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরণমতে কোনো প্রকার লি'আন হবে না।কেননা লি'আন হওয়ার জন্য স্বামী কর্তৃক যিনা ব্যভিচারের তুহমত দিতে হবে এবং স্ত্রী সেটাকে অস্বীকার করতে হবে। যেহেতু এখানে স্বামী কর্তৃক যিনা ব্যভিচারের তুহমত দেয়া হচ্ছে না, তাই এখানে লি'আন হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...