আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
83 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (12 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আমি ২য় বারের মত মা হব।আমার ১৯ মাসের একটা মেয়ে বাবু আছে।আমার স্বামী একজন মেরিম ইঞ্জিনিয়ার। সে জাহাজে যাওয়ার পর থেকে আমার সাথে বা আমার মেয়ের সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ রাখে না।সে আমাকে কোনো খরচ ও দেয় না,আমাকে বলে ইন্টারনেট সমস্যার জন্য টাকা পাঠাতে পারছে না।এরই মধ্যে কোরবানি ঈদ আসলে আমি জানতে পারি সে একা লাখ টাকা দামের পশু কোরবানি করছে ও বাবা মা কে প্রতি মাসেই খরচ দিয়ে যাচ্ছে।যেখানে আমার ডাক্তার খরচ সহ আমার সন্তানের কাপড় চোপড়ের কোনো খরচ সে দেয় না।এ বিষয়ে আমি আমার শ্বশুর শ্বাশুড়িকে জানালে তারা ১৫ হাজার টাকা দেয়।এরই মধ্যে আমার খালুকে সে জানায় যে আমার শ্বাশুড়ি নাকি আমাকে সিজারের খরচ দিয়ে দিয়েছে।এমন মিথ্যা শুনে আমি খুবই কষ্ট পায়।আমার শ্বাশুড়িকে উক্ত বিষয় জানালে সে হেসে উড়িয়ে দেয়। আমি একটা বিষয়ে জানতে চাই যে, আমার আর আমার সন্তানের হক দেয়া ফরজ নাকি তার বাবা মা ও কোরবানি করাটা ফরজ? আর এই কোরবানি কি জায়েজ হবে।? উল্লেখ্য যে সে আমার মোহরানা ও পরিশোধ করেনি।সে ২ বছরের সময় নিয়েছিল।কিন্তু এখন চার বছর হচ্ছে।আমি মোহরানার কথা বললে সে আমাকে ছোট আর অপমানের স্বরে কথা বলে এবং আমাকে কাপড় দিচ্ছে ও খাওয়াচ্ছে এ বিষয়ে খোটা দিয়ে থাকে।এগুলা ইসলামের দৃষ্টিতে কি বলে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/6603/ ফতোয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে,  
পরিবারের জন্য খরচ করা,মা বাবার ভরনপোণের জন্য খরচ করা উত্তম কাজ।
মা বাবা নিজেদের ভরনপোষণের ক্ষেত্রে অসমর্থ হলে সন্তানদের জন্য তাদের ভরনপোষণের খরচ দেওয়া শুধু শরীয়তেই নয়  এটা মানবতার দিক লক্ষ্য করেও জরুরি।

হাদিস শরিফে এসেছে, 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘খরচের ব্যাপারে তুমি আগে নিজের প্রয়োজনীয় খরচের দায়িত্বশীল, তারপর তোমার স্ত্রীর, তারপর সামর্থ্য হলে তোমার নিকটাত্মীয়ের খরচ তোমার ওপর বর্তাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৯৭)

মা-বাবা  ভরণ-পোষণের অধিকারী হওয়ার জন্য শর্ত হলো দুটি।
★এক. তাঁরা এমন দরিদ্র হতে হবে যে তাঁরা নিজের মালিকানার সম্পদে চলতে অক্ষম। এখন কথা হলো, যদি তাঁরা উপার্জনের শক্তি রাখে, তাহলেও তাঁদের সন্তানদের ভরণ-পোষণ দিতে হবে কি না? এ ক্ষেত্রে বিধান হলো, তাঁদের উপার্জনের শক্তি থাকলেও যদি তাঁদের কাছে চলার মতো নগদ টাকাকড়ি না থাকে, তাঁদের সন্তানদের ভরণ-পোষণ দিতে হবে। তাদের সন্তানরা এ কথা বলতে পারবে না যে আপনি তো উপার্জনে সক্ষম, আপনি নিজে উপার্জন করে চলুন। তবে যদি তাঁরা ধনী হন, তথা তাঁদের মালিকানায় নগদ এমন সম্পত্তি থাকে, যা দ্বারা তাঁরা শান্তিতে কালাতিপাত করতে পারেন, তাহলে সন্তানদের ওপর তাঁদের ভরণ-পোষণ দেওয়া ওয়াজিব নয়।

★দুই. সন্তান-সন্ততি সামর্থ্যবান ও উপার্জনে সক্ষম হতে হবে। তাদের সামর্থ্যবান হওয়ার পরিমাণ হলো, তাদের মালিকানার সম্পত্তি বা উপার্জনকৃত আয়ের দ্বারা নিজের ও নিজের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির স্বাভাবিক ভরণ-পোষণের পর অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে হবে। অন্যথায় তাদের উপার্জনকৃত আয়ের মধ্য থেকে যদি তার নিজের ও স্ত্রী বা সন্তান-সন্ততির ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্পদ না থাকে, তাহলে মা-বাবা ও ঊর্ধ্বতন আত্মীয়ের ভরণ-পোষণ দেওয়া ওয়াজিব নয়। যদিও এ ক্ষেত্রে উত্তম হলো, কষ্ট হলেও যথাসাধ্য মা-বাবারও ভরণ-পোষণের খরচ চালিয়ে যাবে। (তাবঈনুল হাকায়েক : ৩/৬৪, রদ্দুল মুহতার : ২/৬৭৮)

মা-বাবার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব উপরোক্ত দুই শর্তে সব ছেলে-মেয়ের ওপর ওয়াজিব। এ দায়িত্ব সব সাবালক সামর্থ্যবান ছেলে-মেয়ের ওপর সমভাবে বর্তাবে। এ ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তাই কোনো মেয়ে যদি সামর্থ্যবান ও বিত্তবান হয়, তাহলে ছেলেদের মতো সমভাবে তার ওপরও মা-বাবার খরচের দায়িত্ব বর্তাবে। কেননা মা-বাবার জীবিত অবস্থায় সন্তানের জন্য খরচ ও উপহারে মেয়েরাও তাদের ভাইদের মতো সমঅধিকারী, তাই মা-বাবার খরচ বহনে তারাও সামর্থ্যের শর্তে তাদের ভাইদের সমদায়িত্বশীল হবে। ছেলে-মেয়ে না থাকলে তারপর সিরিয়াল আসবে নাতি-নাতনিদের। অতএব, তাদের ওপর সমভাবে এ দায়িত্ব বর্তাবে। (ফাতহুল কাদির : ৪/৪১৭)
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার ও আপনার সন্তানের দেখাশোনা ভরণপোষণের দায়িত্ব আপনার স্বামীর উপর ওয়াজিব।

প্রথমে এটি তাকে অবশ্যই আদায় করতে হবে।

আপনাদের ভরণপোষণ দেওয়ার পর যদি তার টাকা অতিরিক্ত থেকে যায় এবং এক্ষেত্রে যদি তার বাবা-মা এত দরিদ্র হয় যে তাদের কাছে থাকা টাকা পয়সা, সম্পত্তি দিয়ে তারা কোনোভাবে চলতে পারতেছেন না, সেক্ষেত্রে আপনাদের খরচ দেওয়ার পর সে তার বাবা-মাকে বাবা মার ভরণপোষণ বাবদ খরচ দিতে পারবে।

কিন্তু আপনাদের খরচ না দিয়ে বাবা-মার খরচ দোয়া এটা কোনভাবেই শরীয়ত সমর্থন করে না এবং তিনি যে আপনার মোহরানা পরিশোধ করেননি, এটাও চরম অন্যায় কাজ করেছেন।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...