আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
24 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (19 points)
১. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,,আমি আল্লাহ রাস্তায় কিছু স্বর্ণ দিতে চাচ্ছি। এটা আমি আমার পরিবারের কারোকে জানাইনি। আম্মুকে বললে, আম্মু রাজি হবেন নাহ। এই ক্ষেত্রে আম্মুকে না জানালে গুনাহ হবে?

২. As salamualaikum
Amar khub kaser relative etotai kharap j joto kharap kaj ase tar moddhe onk kharap kaj e addicted..tar kasakasi thaka kono vabei nirapod na...tar kharap kaje kew badha dile se take fasanor jonno sob korte pare...
Emon obosthai tar sathe ki relation break kora jabe?

৩. গর্ভবতী মহিলাদের রক্ত গেলে পাট পড়া দেওয়া হয়।যাতে বাচ্ছা নষ্ট না হয়।এটা পাঠ পড়া কি দেওয়া যাবে? নাকি পাট পড়া দিলে শিরক হবে?

৪.নারীদের জন্য যদি স্বর্ণ এবং রূপার অলংকার ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকার ব্যবহার করা জায়েজ না হয়।তাহলে নারীরা যে সিটিগোল্ড,তারপর স্টিলের,কাচের আবার পুতির তৈরি বিভিন্ন অলংকার পড়ে থাকে অগুলো পড়া কি জায়েজ?

৫. বিয়ে শরীয়ত মোতাবেক সম্পন্ন হলে। পাত্র যখন মসজিদ থেকে পাত্রীকে নিতে আসবে তখন যদি পাত্রীর ভাবী-বোন যারা আছে তারা দুষ্টামি করে বরকে আটকায় এবং টাকা চায় তা কি জায়েজ হবে? যদিও একদম বোরকা পরেই এই কাজটা করবে বলছে।
আসলে এভাবে বর আটকিয়ে কনে নেয়ার সময় টাকা চাওয়ার পদ্ধতিটা মৌলিক ভাবে কি জায়েজ নাকি না জায়েজ?
পাত্র-পাত্রী উভয়েই যেহেতু একদম শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ করতে চায়,তাই ভাবী এমন প্রস্তাব দিলে পাত্রী তা না করে,এই বলে যে এমন কিছুতো শরীয়ত মোতাবেক বিয়েতে নেই।এতে যদি ভাবীরা রাগ করে বা কষ্ট পায় এতে কি পাত্রির গুনাহ হবে??

1 Answer

0 votes
by (663,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
যেহেতু সেই স্বর্ণের মালিক আপনি, তাই তাহা হতে কিছু দান করলে আপনার কোন গুনাহ হবে না। এক্ষেত্রে আপনার আম্মুকে না জানালেও কোন গুনাহ হবে না।

তবে এক-তৃতীয়াংশ থেকে বেশি দান না করার পরামর্শ থাকবে।

(০২)
তিনি আপনার আত্মীয় নন,তাই তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে কোন সমস্যা নেই।

কিন্তু যেহেতু তিনি মুসলিম নারী,তাই দেখা-সাক্ষাৎ হলে দু একদিন পরপর করে হলেও কমপক্ষে সালাম বিনিময় করতে পারেন।

(০৩)
তাবিজে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দুআয়ে মাসুরা বা শিরকমুক্ত অর্থবোধক থাকলে তা  জায়িজ।  কেননা এসব তাবিজের ক্ষেত্রে মুয়াসসার বিজজাত তথা আরোগ্যের ক্ষমতা আল্লাহ তাআলাকেই মনে করা হয়। 
.
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْفَزَعِ كَلِمَاتٍ: «أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ» وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يُعَلِّمُهُنَّ مَنْ عَقَلَ مِنْ بَنِيهِ، وَمَنْ لَمْ يَعْقِلْ كَتَبَهُ فَأَعْلَقَهُ عَلَيْهِ

আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে,রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন,তোমাদের কেউ যখন ঘুম অবস্থায় ঘাবড়িয়ে উঠে,সে যেন  أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ দো’আটি পাঠ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত সন্তানদের তা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদের গলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৯৫}

এ হাদীস স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাঃ তাঁর অবুঝ সন্তানদের জন্য তাবীজ লিখে তা লটকিয়ে দিতেন।

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ كُنَّا نَرْقِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَى فِي ذَلِكَ فَقَالَ " اعْرِضُوا عَلَىَّ رُقَاكُمْ لاَ بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ " .

আবূ তাহির (রহঃ) ..... আওফ ইবনু মালিক আশজা'ঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাহিলী (মূর্খতার) যুগে (বিভিন্ন) মন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতাম। এজন্যে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আবেদন করলাম- হে আল্লাহর রসূল! এক্ষেত্রে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, তোমাদের মন্ত্রগুলো আমার নিকট উপস্থাপন করো, ঝাড়ফুঁকে কোন দোষ নেই- যদি তাতে কোন শিরক (জাতীয় কথা) না থাকে। (মুসলিম ৫৬২৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৫৪৪, ইসলামিক সেন্টার ৫৫৬৯)

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ উল্লেখ করেন-

إنما تكره العوذة إذا كانت بغير لسان العرب ، ولا يدرى ما هو ولعله يدخله سحر أو كفر أو غير ذلك ، وأما ما كان من القرآن أو شيء من الدعوات فلا بأس به

নিশ্চয় নিষিদ্ধ তাবীজ হল যা আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় লিখা হয়, বুঝা যায় না তাতে কি আছে? অথবা যাতে জাদু, কুফরী ইত্যাদি কথা থাকে। আর যেসব তাবীজে কুরআন বা দুআ সম্বলিত হয় তা ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই। {ফাতওয়ায়ে শামী- এইচ এম সায়ীদ ৬/৩৬৩}

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
সেই পাট-এ কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দুআয়ে মাসুরা বা শিরকমুক্ত অর্থবোধক দিয়ে ফুক দিয়ে থাকলে তা জায়েজ।

তবে সর্বক্ষেত্রে আকীদা বিশুদ্ধ রাখতে হবে, অর্থাৎ মুয়াসসার বিজজাত তথা আরোগ্যের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই মনে করতে হবে।

অন্যথায় তাহা জায়েজ হবেনা।

(০৪)
নারীদের জন্য স্বর্ণ এবং রূপার অলংকার ছাড়া অন্য ধাতুর অলংকার ব্যবহার করা জায়েজ।

সুতরাং সিটিগোল্ড,তারপর স্টিলের,কাচের আবার পুতির তৈরি বিভিন্ন অলংকার পরিধান করাও জায়েজ।

তবে সবই মতবিরোধ পূর্ণ বিষয়। 
কেউ কেউ মাকরুহ বলেছেন।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০৫)
প্রশ্নে উল্লেখিত সব গুলো কর্মকান্ড নাজায়েজ।

বিস্তারিত জানুনঃ- 
   
পাত্র-পাত্রী উভয়েই যদি একদম শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ করতে চায়,পরবর্তীতে ভাবী এমন প্রস্তাব দিলে পাত্রী যদি তা না করে,এই বলে যে এমন কিছুতো শরীয়ত মোতাবেক বিয়েতে নেই।এতে যদি ভাবীরা রাগ করে বা কষ্ট পায়, এতে পাত্রির গুনাহ হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...