আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
30 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
Assalamu Alaikum Wa Rahmatullahi Wa Barakatuh

1. মনে মনে কিছু চাইলে সেটি কি কবুল হবে না? বেশিরভাগ সময়ে আমি খারাপ লাগছে তখন মনে মনে এমন দুআ করতে থাকি আল্লাহ সবকিছু সহজ করে দাও এটা দিও ওটা দিও। এমন দুআ কি হবে না? আবার কখোনো রাস্তায় চলতে মুখ না নাড়িয়ে আসতাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকি। এটিও কি কবুল হবে না?

2. নামাজে গাফিলতি দুর করতে করনীয় কি?

3. দুনিয়াবি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য মোনাজাতে দোয়া করা যাবে কি?

4. কেউ যদি অলসতার কারনে শুধু ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ পড়ে তাহলে তার কি শুধু তওবা করলেই যথেষ্ট হবে? তওবা করার পরও যদই এমন হয়ে যায় তাহলে কি হবে?
5. পিরিয়ডের সময়সীমা তো ৩ থেকে ১০ দিন। এখন প্রশ্ন হলো দশম দিন থেকেই নামাজ শুরু করবে নাকি এগারোতম দিন থেকে?

1 Answer

0 votes
by (612,690 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
মনে মনে কিছু চাইলে আল্লাহ তায়ালা চাইলে সেটিও কবুল হবে।
তবে এক্ষেত্রে দোয়ার আদব অবলম্বন করা হলোনা।

দোয়ার আদব সংক্রান্ত জানুনঃ- 

(০২)
এমন ভাবে নামাজ পড়তে হবে যেনো আমি আল্লাহ তায়ালার সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছি। আর আল্লাহ তায়ালা নামাজ পড়া দেখছেন। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

قَالَ مَا الإِحْسَانُ قَالَ " أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ".

‘আল্লাহর ইবাদত করো এমনভাবে যেন তাঁকে তুমি দেখতে পাচ্ছ। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখছেন। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫০; মুসলিম, হাদিস : ৮)
 
অন্য এক হাদীসে এসেছে-

ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا بِشَيْءٍ إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে সুন্দরভাবে অজু করে, অতঃপর মন ও শরীর একত্র করে একাগ্রতার সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে (অন্য বর্ণনায় এসেছে যে নামাজে ওয়াসওয়াসা স্থান পায় না) তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়)। ’ (নাসাঈ, হাদিস : ১৫১; বুখারি, হাদিস : ১৯৩৪)

আরো করনীয় জানুনঃ- 

(০৩)
দুনিয়াবি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য মুনাজাত (দোয়া) করা যাবে।
কোনো সমস্যা নেই।

(০৪)
তওবার পরেও এমনটি করলে আল্লাহ তায়ালা তো তার তওবা কবুল করবেনা।
কারন তওবা কবুলের অন্যতম শর্ত হলো তওবার উপর অটল অবিচল থাকা।

সুতরাং এক্ষেত্রে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাজ তাকে পড়তেই হবে।

(০৫)
ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
فَإِنْ لَمْ يُجَاوِزْ الْعَشَرَةَ فَالطُّهْرُ وَالدَّمُ كِلَاهُمَا حَيْضٌ سَوَاءٌ كَانَتْ مُبْتَدَأَةً أَوْ مُعْتَادَةً وَإِنْ جَاوَزَ الْعَشَرَةَ فَفِي الْمُبْتَدَأَةِ حَيْضُهَا عَشَرَةُ أَيَّامٍ وَفِي الْمُعْتَادَةِ مَعْرُوفَتُهَا فِي الْحَيْضِ حَيْضٌ وَالطُّهْرُ طُهْرٌ. هَكَذَا فِي السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ.
«الفتاوى الهندية» (1/ 37)
মাঝেমধ্যে হায়েয হওয়া আবার মাঝেমধ্যে বন্ধ হওয়া, দশ দিনের ভিতর সবকিছুই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।চায় এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন ঐ মহিলা প্রথমবার হোক বা এ ব্যাপারে অভ্যস্ত থাকুক।
যদি রক্তস্রাব দশদিন অতিক্রম করে যায়, তাহলে প্রথমবার এ পরিস্থিতির সম্মুখিন মহিলার জন্য দশদিন হায়েয। আর কোনো এক সংখ্যায় আদত ওয়ালী মহিলার জন্য তার পূর্বের আদতই হায়েয় এবং বাদবাকী সময় তুহুর। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৭,কিতাবুল-ফাতাওয়া-২/১০৮,কিতাবুন-নাওয়াযিল-৩/১৭২)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/7474

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
যদি আপনার হায়েজ ১০ দিন অতিক্রম না করে,তাহলে যেই ওয়াক্তে হায়েজ বন্ধ হবে,সেই ওয়াক্তেই ফরজ গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।

যদি ১০ দিনের পরেও ব্লিডিং চলতে থাকে,সেক্ষেত্রে পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুযায়ী আপনি হায়েজ ধরবেন।

পূর্বের মাস গুলোতে যদি আপনার হায়েজ ৭ দিন এসে থাকে,সেক্ষেত্রে এই মাসেও ৭ দিন হায়েজ ধরবেন। 

পূর্বের মাস গুলোতে যদি আপনার হায়েজ ৫ দিন এসে থাকে,সেক্ষেত্রে এই মাসেও ৫ দিন হায়েজ ধরবেন। 

পূর্বের মাস গুলোতে যদি আপনার হায়েজ ৯ দিন এসে থাকে,সেক্ষেত্রে এই মাসেও ৯ দিন হায়েজ ধরবেন। 

আর যদি এটা আপনার জীবনের প্রথম হায়েজ হয়,আর হায়েজ যদি ১০ দিন অতিক্রম করে বা প্রতি মাসে আপনার ১০ দিন করেই হায়েজ হয়,সেক্ষেত্রে ১০ দিন ১০ রাত পূর্ণ হওয়ার পর (১১ তম দিন) থেকে আপনি ফরজ গোসল করে নামাজ আদায় করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...