আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,
ওয়াইফ রাগ করে বাসা থেকে ব্যাগ-ট্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেছে কোনো মহিলা হোস্টেলে থাকবে এই ভেবে। অনেক খুঁজাখুঁজি করেও কোনো হোস্টেলে রুম পাচ্ছিল না, তখন আমাকে ফোন করে হোস্টেল খুঁজে দিতে। আমিও ট্রাই করি হোস্টেল খুঁজে দিতে অনলাইনে। এর মধ্যে ওয়াইফ (যে কিনা আমার ফ্রেন্ড) একটা হোস্টেলে রুম পেয়ে যায়, কিন্তু ইন পারসন হোস্টেলে গিয়ে দেখে অনলাইন গ্লিচের জন্য হোটেল বুকড দেখাচ্ছিল, কিন্তু অ্যাকচুয়ালি হোস্টেল বুক হয়নি তার নামে। তখন অ্যারাউন্ড রাত ৯-১০টা বাজে, তখন সে ডিসাইড করে অন্য কোথাও থাকবে । তখন তাকে আমি অনেক বুঝাই যাতে সে বাসায় ফিরে যায়, ঝগড়া হয়, এটা যেন সামনাসামনি বসে তারা সমাধান করে । তবু সে যাবে কি যাবে না ফিরে এই কনফিউশন নিয়ে যখন ট্রেনে উঠে, তখনই তার হাসবেন্ড কল করে এবং বলে, 'এটাই আমার শেষ কল, তুমি যদি রাত ১২টার আগে বাসায় ফিরে না আসো, তাহলে আজকেই আমাদের সম্পর্ক শেষ।' এরপর ফোন কেটে দেয়। পরে ওয়াইফ কল দিতে থাকলে কল রিসিভ না করে কেটে দেয় হাসবেন্ড। এক পর্যায়ে ফোন রিসিভ করে আর বলে, 'বলছি তো, যা বলার তা আমি এখন কেন কল দিচ্ছি? বাসায় না এলে তারপর বুঝাবো।' এবং তাদের কথা কাটাকাটি আবার শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওয়াইফ বলে, 'হ্যাঁ, তাহলে তিন তালাক দাও।' তখন হাসবেন্ড রিপ্লাই দিয়ে বলে, 'হ্যাঁ—তিন তালাক।' এই সিচুয়েশনের পর তারা ফোন রেখে দেয়। আর আমি যতটুকু জানি, ওয়াইফ বাসায় ফিরতে ফিরতে ১২টার বেশি বেজে গিয়েছিলো (অনেকদিন আগের ঘটনা এক্সাক্ট নাও হতে পারে)। এরপর সে আমাকে কল দেয় এবং সব কিছু বলে কি হয়েছে তারপরের সিচুয়েশন। আমি তাকে একাধিকবার উপদেশ দিয়েছি যেন একজন যোগ্য আলিমের সাথে পরামর্শ করেন, কারণ তালাকের বিষয়গুলো সাধারণত ঘটনা অনুযায়ী বিবেচনা করতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ নেননি এবং দম্পতি এখনো স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্রে বসবাস করছেন। আমি আমার জায়গা থেকে যে সাজেশন দিয়েছি, কিন্তু এটাও ভয় হচ্ছে, যদি তালাক সত্যিই কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে তারাতো এখন অজান্তেই যিনা করছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমি এই বিষয়ে চুপ থাকার কথা দিয়েছি, কিন্তু নীরব থাকা কি ইসলামের দৃষ্টিতে আমার জন্য সঠিক হচ্ছে? আমার এখন কি করণীয়? এই বেপার নিয়ে আমি খুবই মানসিক ভাবে চিন্তিত। যদি ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের তালাক হয়ে থাকে, নীরব থেকে কি আমিও পাপের ভাগিদার হচ্ছি কিনা? এক্ষেত্রে, আমি যেহেতু ওয়াদা করেছি কারো সাথে শেয়ার করবো না এই বিষয় জানার বেপারে, এখন আমি যদি কারো সাথে শেয়ারও করি, এরজন্য কি আল্লাহর কাছে আমাকে ওয়াদা ভঙ্গকারী হিসেবে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে কিনা ?