আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
32 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (22 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,
ওয়াইফ রাগ করে বাসা থেকে ব্যাগ-ট্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেছে কোনো মহিলা হোস্টেলে থাকবে এই ভেবে। অনেক খুঁজাখুঁজি করেও কোনো হোস্টেলে রুম পাচ্ছিল না, তখন আমাকে ফোন করে হোস্টেল খুঁজে দিতে। আমিও ট্রাই করি হোস্টেল খুঁজে দিতে অনলাইনে। এর মধ্যে ওয়াইফ (যে কিনা আমার ফ্রেন্ড) একটা হোস্টেলে রুম পেয়ে যায়, কিন্তু ইন পারসন হোস্টেলে গিয়ে দেখে অনলাইন গ্লিচের জন্য হোটেল বুকড দেখাচ্ছিল, কিন্তু অ্যাকচুয়ালি হোস্টেল বুক হয়নি তার নামে। তখন অ্যারাউন্ড রাত ৯-১০টা বাজে, তখন সে ডিসাইড করে  অন্য কোথাও থাকবে । তখন তাকে আমি অনেক বুঝাই যাতে সে বাসায় ফিরে যায়, ঝগড়া হয়, এটা যেন সামনাসামনি বসে তারা সমাধান করে । তবু সে যাবে কি যাবে না ফিরে এই কনফিউশন নিয়ে যখন ট্রেনে উঠে, তখনই তার হাসবেন্ড কল করে এবং বলে, 'এটাই আমার শেষ কল, তুমি যদি রাত ১২টার আগে বাসায় ফিরে না আসো, তাহলে আজকেই আমাদের সম্পর্ক শেষ।' এরপর ফোন কেটে দেয়। পরে ওয়াইফ কল দিতে থাকলে কল রিসিভ না করে কেটে দেয় হাসবেন্ড। এক পর্যায়ে ফোন রিসিভ করে আর বলে, 'বলছি তো, যা বলার তা আমি এখন কেন কল দিচ্ছি? বাসায় না এলে তারপর বুঝাবো।' এবং তাদের কথা কাটাকাটি আবার শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওয়াইফ বলে, 'হ্যাঁ, তাহলে তিন তালাক দাও।' তখন হাসবেন্ড রিপ্লাই দিয়ে বলে, 'হ্যাঁ—তিন তালাক।' এই সিচুয়েশনের পর তারা ফোন রেখে দেয়। আর আমি যতটুকু জানি, ওয়াইফ বাসায় ফিরতে ফিরতে ১২টার বেশি বেজে গিয়েছিলো (অনেকদিন আগের ঘটনা এক্সাক্ট নাও হতে পারে)। এরপর সে আমাকে কল দেয় এবং সব কিছু বলে কি হয়েছে তারপরের সিচুয়েশন। আমি তাকে একাধিকবার উপদেশ দিয়েছি যেন একজন যোগ্য আলিমের সাথে পরামর্শ করেন, কারণ তালাকের বিষয়গুলো সাধারণত ঘটনা অনুযায়ী বিবেচনা করতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ নেননি এবং দম্পতি এখনো স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্রে বসবাস করছেন। আমি আমার জায়গা থেকে যে সাজেশন দিয়েছি, কিন্তু এটাও ভয় হচ্ছে, যদি তালাক সত্যিই কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে তারাতো এখন অজান্তেই যিনা করছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে,  আমি এই বিষয়ে চুপ থাকার কথা দিয়েছি, কিন্তু নীরব থাকা কি ইসলামের দৃষ্টিতে আমার জন্য সঠিক হচ্ছে? আমার এখন কি করণীয়? এই বেপার নিয়ে আমি খুবই মানসিক ভাবে চিন্তিত। যদি ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের তালাক হয়ে থাকে, নীরব থেকে কি আমিও পাপের ভাগিদার হচ্ছি কিনা?  এক্ষেত্রে, আমি যেহেতু ওয়াদা করেছি কারো সাথে শেয়ার করবো না এই বিষয় জানার বেপারে, এখন আমি যদি কারো সাথে শেয়ারও করি, এরজন্য কি  আল্লাহর কাছে  আমাকে ওয়াদা ভঙ্গকারী হিসেবে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে কিনা ?

1 Answer

0 votes
ago by (634,590 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
"(قَوْلُهُ: وَهِيَ حَالَةُ مُذَاكَرَةِ الطَّلَاقِ) أَشَارَ بِهِ إلَى مَا فِي النَّهْرِ مِنْ أَنَّ دَلَالَةَ الْحَالِ تَعُمُّ دَلَالَةَ الْمَقَالِ قَالَ: وَعَلَى هَذَا فَتُفَسَّرُ الْمُذَاكَرَةُ بِسُؤَالِ الطَّلَاقِ أَوْ تَقْدِيمِ الْإِيقَاعِ كَمَا فِي اعْتَدِّي ثَلَاثًا وَقَالَ قَبْلَهُ الْمُذَاكَرَةُ أَنْ تَسْأَلَهُ هِيَ أَوْ أَجْنَبِيٌّ الطَّلَاقَ".
( كتاب الطلاق، بَابُ الْكِنَايَاتِ، ٣ / ٢٩٧)
মুযাকারায়ে তালাকের অর্থ হল, স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর নিকট তালাকের আবেদন করা ,অথবা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্বামীর নিকট তালাকের আবেদন এবং তামান্না করা। এই উভয় প্রকারকে 'মুতালাবায়ে তালাক' নামে অভিহিত করা হয়।তাছাড়া স্বামী যদি ইতিপূর্বে স্ত্রীকে এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকে,তাহলে এদ্বারাও মুযাকারায়ে তালাক প্রমাণিত হবে।এই তৃতীয় প্রকারকে  তাকদীমূল ঈ'কা বলা হয়ে থাকে।(রদ্দুল মুহতার-৩/২৯৭) 
(দারুল ইফতা বিন্নুরী, পাকিস্তান,ফাতাওয়া নং- 144106200277)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/1049

শর্তযুক্ত তালাক সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/1237

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
'তুমি যদি রাত ১২টার আগে বাসায় ফিরে না আসো, তাহলে আজকেই আমাদের সম্পর্ক শেষ।'............ এবং তাদের কথা কাটাকাটি আবার শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওয়াইফ বলে, 'হ্যাঁ, তাহলে তিন তালাক দাও।' তখন হাসবেন্ড রিপ্লাই দিয়ে বলে, 'হ্যাঁ,তিন তালাক।'

এখানে যেহেতু স্ত্রীর তালাক আবেদনের পরিপেক্ষিতে স্বামী বলেছে, হ্যা, তিন তালাক, তাই তিন তালাক হয়ে গেছে। তাছাড়া ১২ টার পূর্বে বাসায় না আসার দরুণও তালাক হতে পারতো। তাই এখন তাদের উচিত, তারা একত্রিত না থেকে বরং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। স্ত্রী ইদ্দত পালন করে নিজ আবাসস্থলে চলে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...