আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
26 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (9 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
আমার পিতা মারা যাওয়ার পর আমাদের পরিবারের সমস্ত খরচ আমার বড় ভাই ও ছোট ভাইয়া বহন করেন। আর তাদের মাসিক আয় হারাম। আর মেজ ভাইয়া হালাল ইনকাম করেন তবে তার আয়ে সাংসারিক ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। তাই বড় ভাইয়া ও ছোট ভাইয়া ওনাকে আর্থিকভাবে হেল্প করেন। আর আমি একটা বুকশপ থেকে মাসিক পাঁচশত টাকা আয় করি যেটা দিয়ে দ্বীনি ইলম অর্জনের হাদিয়া দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আমার কি করণীয়?

১. আমার যদি দৈনন্দিন ব্যবহার যোগ্য জামাকাপড় থাকে এরপরও ওনারা যদি ঈদে জামাকাপড় কেনার জন্য টাকা দেন সেই টাকা দিয়ে জামা কাপড় কিনে রাখতে পারবো কিনা? কারণ ব্যবহার যোগ্য জামাকাপড় শেষ হয়ে গেলে পূনরায় ওনাদের থেকে টাকা নিয়েই কেনা লাগবে। তবে পরবর্তীতে জামা কাপড় কেনার জন্য টাকা চাওয়া সম্ভব হবে না।

২. ওনারা যদি পূর্বে মাসিক খরচ হিসেবে টাকা দেন।আর সেই টাকা পরবর্তীতে দ্বীনি ইলম অর্জনের হাদিয়া হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে জমিয়ে রাখা যাবে? কারণ ওনারা সমস্ত খরচ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন আর ইলম অর্জনের জন্য কখনোই খরচ দিবেন না।

৩. ঈদে প্রাপ্ত সালামি থেকে শ্যাম্পু কেনার সুযোগ থাকলে কি ওনাদের  কিনে দেওয়া সাবান, শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারবো? আর সালামির টাকা শেষ হয়ে গেলে ওনাদের কিনে দেওয়া সাবান, শ্যাম্পু ব্যবহারের কিরূপ বিধান হবে?

৪. ঈদে ওনাদের হারাম আয়ে কেনা গোসতের পাশাপাশি যদি খাওয়ার জন্য অন্য সবজি বা তরকারি থাকে যেটা হারাম না হালাল এ বিষয় সন্দিহান তাহলে কি হারাম আয়ে কেনা গোসত খাওয়া যাবে নাকি যে খাবার নিয়ে সন্দিহান সেই খাবারই খেতে হবে? আর ঐ সবজি বা তরকারি যদি হালাল হয় তাহলে কি  গোসত খাওয়া যাবে। আর ঐ গোসত খাওয়ার জন্য যদি মা জোর করে তাহলে কি করবো?

৫. কারো জমি থেকে না বলে সবজি আনা হলে সেই সবজি যে জমিওয়ালাকে না বলে আনা হয়েছে এটা না জেনে খেয়ে ফেললে কি করবো? আর এক্ষেত্রে সেই জমিওয়ালাকে এ বিষয়ে জানানোর সুযোগ নেই।

৬. অনেক জমিওয়ালা তার চাষকৃত সবজি বা আবাদি ফসল সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এক্ষেত্রে ওই সবজি বা আবাদি ফসল নেওয়ার জন্য পূনরায় থাকে বলতে হবে? নাকি না বলে ব্যবহার করা যাবে?

1 Answer

0 votes
ago by (634,080 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
বাবার ইনকাম হারাম হলেও বাবার উপর শরীয়ত কর্তৃক মেয়েকে লালন পালন করা ওয়াজিব।হারাম খাওয়ানোর দরুণ বাবাকে জবাবদিহি করতে হবে।তবে মেয়ে নিরাপরাধ হিসেবেই থাকবে। নাবালক ছেলে সন্তান এবং সকল বয়সের মেয়ে সন্তানের লালনপালনের দায়িত্ব নিকটাত্মীয় মাহরাম পুরুষের উপর।পিতা,ভাই,চাচা ইত্যাদি মাহরাম পুরুষরা ধারাবাহিক মেয়ে সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এটা তাদের উপর ওয়াজিব।তারা এ দায়িত্ব পালন না করলে গোনাহগার হবে।
ونفقة البنت بالغة والابن بالغا زمنا أو أعمى على الأب خاصة به يفتى 
বালেগ মেয়ে এবং বালেগ পঙ্গু বা অন্ধ ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব পিতার উপর।এটার উপরই ফাতাওয়া।(আল-উকুদুদ-দুররিয়া-১/৮২) বিস্তারিত জানুন- https://www.ifatwa.info/2362



সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) যেহেতি পরবর্তীতে জামা কাপড় কেনার জন্য টাকা চাওয়া সম্ভব হবে না। তাই আপাতত জামা কাপড় থাকা সত্বেও তারা তাদের হারাম ইনকাম থেকে কিছু দিলে আপনি সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করতে পারবেন।

(২) তাদের প্রদত্ত টাকা পরবর্তীতে দ্বীনি ইলম অর্জনের হাদিয়া হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে জমিয়ে রাখতে পারবেন। 

(৩) ঈদে প্রাপ্ত সালামি থেকে শ্যাম্পু কেনার সুযোগ থাকলে উনাদের কিনে দেওয়া সাবান, শ্যাম্পু ব্যবহার আপাতত ব্যবহার করবেন না। হ্যা, পরবর্তীতে ব্যবহার করবেন।

(৪) পরিস্কার হারাম থেকে সন্দেহপূর্ণ হারামই গ্রহণ করা তুলনামূলক ভালো।

(৫) কারো জমি থেকে না বলে সবজি আনা হলে সেই সবজি খাবেন না। খেয়ে পেললে মালিকের কাছে অনুমতি নিতে হবে। অথবা সেই পরিমাণ টাকা সদকাহ করতে হবে।

(৬) অনেক জমিওয়ালা তার চাষকৃত সবজি বা আবাদি ফসল সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এক্ষেত্রে ওই সবজি বা আবাদি ফসল নেওয়ার জন্য পূনরায় তাকে  বলতে হবে না। বরং তখন না বলেই ব্যবহার করা যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...