আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
18 views
in পবিত্রতা (Purity) by (15 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।

শাইখ,নিম্নোক্ত পরিস্থিতির ব্যাপারে আপনার সুচিন্তিত মতামত আশা করছি।

আমার হায়েজ অনিয়মিত।একবছর যাবত এটির চিকিৎসা চলেছে।তারপর থেকে হায়েজ নিয়মিত।এখন বর্তমানে চিকিৎসা অফ।দুই মাস ধরে আবার রক্ত স্রাব অফ হয়েছে।দু'মাস ধরে হায়েজের সময়গুলোতে তলপেট ব্যথা করে এবং শুধু হলুদ স্রাব বের হয়।

আমার হায়েজের সম্ভাব্য ডেট প্রতি মাসের ২৫-২৭ তারিখ।এই মাসের বুধবার(২৬ তারিখ) মাগরিবের পর গাঢ় হলুদ রঙের স্রাব দেখতে পাই এবং এটিকে হায়েজ কাউন্ট করে সালাত,সাওম অফ রাখি।শনিবার(২৯ তারিখ) রাতে আমি কোনো হলুদ স্রাব দেখতে পাই না এবং ফজরের সময় ফরয গোসল করি।রবিবার(৩০ তারিখ) সাওম রাখি এবং ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সালাত আদায় করি।মাগরিবের পর আবার অল্প হলুদ রঙের স্রাব দেখতে পাই এবং একইসাথে পেটে ব্যথা অনুভব করি।তারপর সালাত আদায় করা বন্ধ রাখি।ফজরের সময় চেক করতে গেলে দেখতে পাই,হাতে অল্প হালকা হলুদ রঙের স্রাব আসছে এবং পেট ব্যথা আছে।কিন্তু টিস্যু দিয়ে চেক করলে টিস্যু পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি।হলুদ রঙের কোনো কিছু টিস্যুতে দৃশ্যগোচর হচ্ছে না।এই অবস্থায় আমি কি সালাত,কুরআন তিলাওয়াত কন্টিনিউ করবো?

উল্লেখ্য,বাসা পরিষ্কারসহ ভারী কাজ করতে গেলে শরীরে একটু চাপ পড়ে।তখন হায়েজের তলপেটের ব্যথাটাও হয়।

1 Answer

0 votes
by (607,050 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)
,

أن النساء کن یبعثن بالکرسف إلی عائشۃ رضی اللہ تعالیٰ عنھا فکانت تقول : لا حتی ترین القصۃ البیضاء‘‘ ( المؤطأ للإمام مالک : ۱/۵۹۱ ،  : مصنف ابن عبد الرزاق، حدیث نمبر : ۱۱۵۹ )
সারমর্মঃ আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ সেই সমস্ত মহিলাদের বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা দেখিতে না পাও। 
,
আরো জানুনঃ

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
রবিবার(৩০ তারিখ) মাগরিবের পর যে অল্প হলুদ রঙের স্রাব দেখতে পেয়েছেন,আবার ফজরের সময় চেক করতে গেলে দেখতে পেয়েছেন,এগুলো যেহেতু হায়েজের ১০ দিনের মধ্যেই দেখা দিয়েছে,সুতরাং এগুলো হায়েজের অন্তর্ভুক্ত। 
এই অবস্থায় আপনি সালাত,কুরআন তিলাওয়াত কন্টিনিউ করবেননা।

এমনটি একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে বা সাফা স্রাব আসলে সেক্ষেত্রে আপনি আপনি সালাত,কুরআন তিলাওয়াত চালিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, যদি ১০ দিনের পরেও ব্লিডিং বন্ধ না হয়,সেক্ষেত্রে পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুযায়ী আপনি এই মাসেও হায়েজ ধরবেন।  বাকি দিন গুলি ইস্তেহাজা ধরবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 263 views
0 votes
1 answer 165 views
0 votes
1 answer 190 views
...