আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
47 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
আমার আগামী সপ্তাহে  ভার্সিটি এক্সাম। অনেক পড়া তাই ভাবছিলাম রমযান যেহেতু তাই তারাবি পডে রাতে তাডাতাডি ঘুমাই যাব ফযরের পর পড়তে বসবো কিন্তু আমি পারছি না ঠিকই দেরি হয় ঘুমাতে আর সেহরি করে ফযর পড়ে ঘুম আসলে আবার ঘুম চলে যাই,,,, এভাবে ট্রাই করতে করতে আমি অনেক সময় হারায় ফেলছি আর পড়াও হলো না রমযানের বেশিদিনই।  আর তাছাড়া শুনেছি তাহাজ্জুদ ঘুম থেকে উঠে পড়াই উত্তম।  তাই তাহাজ্জুদ পাওয়ার জন্য আর রাতের বাকি অংশ জেগে পড়ালেখা না করে ঘুমাই যাই।  এখন প্রশ্ন হল :

১)  আমি কি রাত জেগে পড়ালেখা করে একেবারে ফযর পডে ঘুমাবো (এক্সাম পর্যন্ত) ???
২) আমার তাহাজ্জুদ কি উত্তমটা হবে, যদি ঘুম থেকে না উঠে পড়ি???
৩) তাছাড়া রমজান উপলক্ষে রাত জেগে ইবাদত করে ফযরের পর ঘুমানো যাই??
তারপর দিনের বেশির ভাগ অংশ ঘুম হলে সমস্যা, সেটা এক্সাম /রমজানের ইবাদাতের জন্য যেটার জন্যই হোক না কেন???

1 Answer

0 votes
by (607,050 points)
জবাবঃ
بسم الله الرحمن الرحيم 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

وَعَنْهَا، رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ العَشْرُ الأَوَاخِرُ مِنْ رَمَضَانَ، أَحْيَا اللَّيْلَ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ، وَجَدَّ وَشَدَّ المِئزَرَ. متفقٌ عَلَيْهِ

উক্ত রাবী (আয়েশা) রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন রমযানের শেষ দশক প্রবেশ করত, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নিজে জাগতেন, নিজ পরিজনদেরকেও জাগাতেন, কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং কোমরে লুঙ্গি বেঁধে নিতেন।’

(বুখারী,মুসলিম ১১৭৪, তিরমিযী ৭৯৬, নাসায়ী ১৬৩৯, আবূ দাউদ ১৩৭৬, ২৩৮৬৯, ইবনু মাজাহ ১৭৬৭, ১৭৬৮, ২৩৬১১, ২৩৮৫৬, ২৪৩৯২, ২৫৬৫৬)

রোজা রেখে কেউ যদি অতিরিক্ত ঘুমায় তাহলে তার রোজা নষ্ট হবে না। তবে রমজান মুমিন জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। তাই একজন মুমিনের উচিত, রমজানের বরকতময় সময়কে কাজে লাগানো। বিশেষ করে অতিরিক্ত ঘুম যেন ফরজ ইবাদত যেমন- নামাজ থেকে দূরে না রাখে।

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَا أَتَى عَلَى الْمُسْلِمِينَ شَهْرٌ خَيْرٌ لَهُمْ مِنْ رَمَضَانَ، وَلَا أَتَى عَلَى الْمُنَافِقِينَ شَهْرٌ شَرٌّ لَهُمْ مِنْ رَمَضَانَ، وَذَلِكَ لِمَا يُعِدُّ الْمُؤْمِنُونَ فِيهِ مِنَ الْقُوَّةِ لِلْعِبَادَةِ، وَمَا يُعِد فِيهِ الْمُنَافِقُونَ مِنْ غَفَلَاتِ النَّاسِ وَعَوْرَاتِهِمْ، هُوَ غنْم الْمُؤْمِن يَغْتَنِمُهُ الْفَاجِرُ

মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসে নি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসে নি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমাদ ৮৩৬৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৮৯৬৮)
,
আরো জানুনঃ

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
হ্যাঁ, আপনি এভাবে ফজর পর ঘুমাতে পারবেন।

(০২)
আপনি যদি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তাহাজ্জুদ পড়েন, তাহলে এটি উত্তম হবে।

ঘুম থেকে উঠে পড়া আবশ্যক না।

(০৩)
এমনটি করা যাবে,এতে রোযা ভেঙ্গে যাবেনা। 
তবে সারা দিন যেনো ঘুমের মধ্যে না যায়,ফরজ সহ অন্যান্য ইবাদতে যেনো কোনো ঘাটতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (8 points)
Jazakallahu Khair.

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...