আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
43 views
in সালাত(Prayer) by (52 points)
আসসালামুয়ালাইকুম,
১। অনেক সময় দেখা যায় কাতারের মাঝে ছোট ছোট নাবালেগ বাচ্চা দাঁড়িয়ে থাকে। হতে পারে সেটা ৩/৪ বছর বয়সি অথবা ৭/৮ বছর বয়সি। প্রশ্ন হচ্ছে এরকম নাবালেগ বিভিন্ন বয়সের বাচ্চা যদি কাতারে দাঁড়ায় তাহলে কি কাতার সম্পুর্ন হবে?
২। আমি যদি একদম কর্নারে দাঁড়াই এবং আমার এক পাশে দেয়াল আরেকপাশে ছোট কোন বাচ্চা। এমতাবস্থায় আমার জামাতের নামাযে কোন সমস্যা হবে?
৩। অনেক সময় সামনের কাতার পরিপুর্ন থাকে। পিছনের কাতারে আমি একা। এমন সময় নামাযে দাঁড়িয়ে পুরো নামায শেষ করলাম কিন্তু আর কেউ আমার সাথে আসেনি। আমার কি নামায হবে?
৪। অনেক সময় জামাতের তাকবির বলার পর সামনের জায়গা ফাকা হয়ে যায়। এমন অবস্থায় কি আমি হাত বাধা অবস্থায় সামনের কাতারে হেটে যেতে পারব? আমি শুনেছিলাম ইমামের আগ পর্যন্ত মুক্তাদি হেটে যেতে পারবে। সামনে যাওয়া গেলে কাতারের ডানে বামে যদি ফাকা জায়গা থাকে তাহলে কি ডানে বামেও যাওয়া যাবে?
৫। অনেক সময় কাতারের বাম পাশ থেকে অনেকে নামায পড়া শুরু করেন। সেখানে ৪/৫ জন আছেন এবং আমি মাঝ থেকে দাঁড়ালে আমার নামায শুদ্ধ হবে? আমার কি তাদের সাথে একটা কর্নারে গিয়ে দাঁড়ানো উচিত নাকি মাঝেই দাঁড়ানো উচিত?
৬। আজকে ইফতারের আগ মুহুর্তে কয়েকজন ফ্রিতে পানির বোতল দিচ্ছিল। নেয়ার পর জানলাম এটা একটা সাধারন ব্যাংকের ইসলামিক ডিপার্টমেন্ট থেকে দেয়া হয়েছে। এখন এই ব্যাংকের বিতরন করা পানি খাওয়া কি জায়েজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (604,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো,জামাতের সাথে নামাজ আদায় কালে কাতারের স্তরবিন্যাস বিন্যাস হলোঃ
প্রথমে পুরুষেরা দাড়াবে,(এখানে গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের কোনো অগ্রাধিকার নেই,সকল পুরুষই এক্ষেত্রে সমান অধিকার রাখে।)
পুরুষদের কাতারের পর শিশুদের কাতার হবে,(তবে শিশুদের সংখ্যা যদি কম হয়,তাহলে তাদেরকে পুরুষদের কাতারের মাঝে মাঝে দাড় করাবে।)
তারপর হিজরাদের কাতার হবে,তারপর মহিলাদের কাতার হবে।
(ফাতাওয়ায়ে হিকমত ১/১২৮)

হাদীস শরীফে এসেছে  
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا.

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেছেন, পুরুষ লোকের কাতারসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম কাতার হল প্রথম কাতার এবং সর্বনিকৃষ্ট কাতার হল শেষ কাতার, আর স্ত্রীলোকের কাতারসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম কাতার হল শেষ কাতার এবং নিকৃষ্ট কাতার হল প্রথম কাতার (মুসলিম, মিশকাত হা/১০৯২)।

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে এরকম নাবালেগ বিভিন্ন বয়সের বাচ্চা যদি কাতারে দাঁড়ায় তাহলেও কাতার সম্পুর্ন হবে।

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে নিয়ম হলো,পুরুষদের কাতারের পর শিশুদের কাতার হবে। তবে শিশুদের সংখ্যা কম হলে এভাবে বড়দের কাতারের মাঝে মাঝে দাড় করিয়ে দেয়া যাবে।

(০২)
এমতাবস্থায় আপনার জামাতের নামাযে কোন সমস্যা হবেনা।

(০৩)
আপনার নামাজ হয়ে যাবে।

(০৪)
আপনি হাত বাধা অবস্থায় সামনের কাতারে হেটে গিয়ে ফাঁকা জায়গা পূরন করবেন।
সামনের কাতারের সামান্য ডানে/বামে ফাঁকা জায়গা থাকলে হাত বেধে সেই জায়গাতেও যেতে পারবেন।

তবে এক্ষেত্রে কোনোক্রমেই চেহারা ও সীনা যেনো কেবলার দিক হতে না ফিরে যায়।

সামনের কাতার ফাঁকা রেখে পিছনে নামাজ পড়বেননা।

کرہ کقیامہ في صف خلف صف فیہ فرجة، قلت: وبالکراہة أیضا صرّح الشافعیة ․․․․․ ولو وجد فرجة في الأوّل لا الثاني لہ خرق الثاني لتقصیرہم وقال ابن عابدین تحتہ: أن الکلام فیما إذا شرعوا، وفي القنیة: قام في آخر صف وبین الصّفوف مواضع خالیہ فللدّاخل أن یمرّ بین یدیہ لیصل الصّفوف۔ (الدر مع الرد، کتاب الصلاة، باب الإمامة، ۲/۳۱۲، زکریا دیوبند)

সারমর্মঃ-
কোন ব্যক্তি যদি কাতারের শেষের দিকে দাঁড়ায় এবং কাতারের মাঝে যদি ফাঁকা জায়গা থাকে তাহলে কাতারের মাঝে প্রবেশকারী তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে কাতার পূর্ণ করতে পারবে।

(০৫)
আপনি নিয়ম মেনে সরাসরি ইমাম সাহেবের বরাবর দাঁড়িয়ে যাবেন।

(০৬)
প্রশ্নের বিবরণ মতে ব্যাংকের বিতরন করা পানি পান করা জায়েজ হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...