আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in ওয়াসওয়াসা by (4 points)
edited by
আসসালামুয়ালাইকুম হুজুর আমার এই তিনটি পশ্নের উত্তর দিন প্লিজ (১) হুজুর আমাকে একটু সাহায্য করুন প্লিজ আমি খুব চিন্তিত হুজুর আমি মোবাইলে shorts video ডেকছিলাম মানে instragram reels তো সেখানে ভিডিওর সাথে সাথে টাইটেলে কিছু লেখা থাকে তো আমার অন্তরে তখন এমন ভাবনা আসে যে আমি যদি ঠিক করে ওই লেখাটা না পড়তে পারি তাহলে আমার বউ তালাক এমন চিন্তা আমার আসে তো সেই জন্য আমি ভিডিও দেখতে দেখতে বলতে থাকি যে আমার কোনো শর্ত নেই আমার স্ত্রীর উপর কোনো শর্ত নেই আমার কোনো তালাকের শর্ত নেই এমন অনেক ক্ষণ ধরে আমি ভিডিও দেখতে দেখতে আমার নিজের কাছে নিজে বলতে ছিলাম তখন হঠাৎ অসাবধনতা বসত আমার মুখ থেকে একটা শব্ধ বের হয়ে যাই যে আমার শর্ত আছে। তো হুজুর আমি এমন বলিনি যে আমি যদি এই লেখাটা না পড়তে পারি তাহলে আমার বউ তালাক এটা পুরোপুরি উচ্চারণ শুধু মুখ থেকে অসাবধনতা বের হয়ে গেছে যে আমার শর্ত আছে। তো হুজুর তাহলে কি আমি যতো ভিডিও দেখবো আর সেই ভিডিওর টাইটেলে যত লেখা থাকবে আমি যদি ঠিক মত না পড়তে পারি তাহলে কি আমার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হবে। নাকি এটা কোনো তালাকের শর্ত হিসাবে গণ্য হবে না আমাকে দোয়া করে সাহায্য করুন আমার স্ত্রীকে তালাক দেবার কোনো নিয়ত আমার নেই। মুখ থেকে অসাবধনতা বসত বের হয়ে গেছে আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো আছে দোয়া করে জানাবেন প্লিজ।                                                          (২) তারপর একদিন একা বসেছিলাম আমি মুখে উচ্চারণ করিনি আমার মণের মধ্যে উদিত হলো একটি শর্ত তালাক আর আমি যেনো মাথা নেড়ে সেই শর্ত তালাকের ক্ষেত্রে হ্যাঁ বলি কিন্ত মুখে উচ্চারণ করিনি তো এটা কি শর্ত তালাক হিসাবে গণ্য হবে আমি কিন্ত উচ্চারণ করিনি ভুল করে মাতা নেড়ে হ্যাঁ পক্ষে সমর্থন যাইনেছি তো হুজুর প্লিজ একটু তাড়াতাড়ি উত্তর দেবেন।    (৩) হুজুর একদিন কিছু করছিলাম মোবাইলে তো আমার এমন মনে হলো যে আমি কোনো শর্ত তালাক দিয়েছি কিন্ত হুজুর আমি নিশ্চিৎ হতে পারছি না যে আমি শর্ত তালাক রেখেছি কি আমার মনে হল যে আমি মুখে কিছু উচ্চারণ করিনি তো হুজুর নিশ্চিৎ হতে না পারলে কি করবো খালি সন্দেহ হচ্ছে যে আমি কি উচ্চারণ করে শর্ত তালাক রেখেছি কোনো দিক থেকে নিশ্চিৎ হতে পারছি না তাহলে সমাধান কি হবে হুজুর।

1 Answer

0 votes
by (72,810 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://ifatwa.info/103624/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,

ওয়াসওয়াসা হল এমন এক মানসিক রোগ যা একজন মুসলিমকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তানের পক্ষ থেকে মনে আসা কুমন্ত্রনার ফাঁদ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন কম নয়।  কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে ধারনা বা ইলমে জ্ঞান না থাকার ফলে একজন সাধারন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে। কারণ শুরুতেই যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি বাড়তে থাকে।

আমরা আমাদের বিগত সহস্রাধিক প্রশ্ন রিসার্চ করে দেখেছি যে, ওসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাসআলা মাসায়েল বা ফতোয়ার প্রশ্নের উত্তর ঘাটাঘাটি করে আরও বেশি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত হয়ে যায় এবং প্রশ্নের উত্তর হল একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের রোগ বৃদ্ধির খোরাক এবং একটা প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার পর একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শতাধিকবার করতে থাকেন। যেটা উনাকে বরং ক্রমাগত অধিকতরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে।

বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিচের দেওয়া বাধ্যতামূলক সুস্থ হওয়ার কোর্সটি কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে না

আমরা আশা করছি এবং আল্লাহর উপরে ভরসা রেখে বলছি যারা নিচের এই কোর্সটি করবেন ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবেন।

আর কোর্সের ভিতরে একটা অংশে আমাদের মুফতি সাহেবদের সাথে সরাসরি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তরের ব্যবস্থা থাকবে। আল্লাহ আমাদের সমস্ত শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে হেফাজত করুন - https://courses.iom.edu.bd/courses/waswasa

,

ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার আমলঃ

ইবনে হাজার আল-হাইছামি তাঁর ‘আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা’ গ্রন্থে (১/১৪৯) এসেছে, তাঁকে এর প্রতিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,

له دواء نافع وهو الإعراض عنها جملة كافية ، وإن كان في النفس من التردد ما كان – فإنه متى لم يلتفت لذلك لم يثبت بل يذهب بعد زمن قليل كما جرب ذلك الموفقون , وأما من أصغى إليها وعمل بقضيتها فإنها لا تزال تزداد به حتى تُخرجه إلى حيز المجانين بل وأقبح منهم

অর্থাৎ, এর ঔষধ একটাই সেটা হচ্ছে– ওয়াসওয়াসাকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও। কেননা কেউ যদি সেটাকে ভ্রুক্ষেপ না করে তাহলে সেটা স্থির হবে না। কিছু সময় পর চলে যাবে; যেমনটি তাওফিকপ্রাপ্ত লোকেরা যাচাই করে পেয়েছেন। আর যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসাকে পাত্তা দিবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে সে ব্যক্তির ওয়াসওয়াসা বাড়তেই থাকবে; এক পর্যায়ে তাকে পাগলের কাতারে নিয়ে পৌঁছাবে কিংবা পাগলের চেয়েও নিকৃষ্ট পর্যায়ে পৌঁছাবে।

,

এর সর্বোত্তম প্রতিকার হচ্ছে– বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা, لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ পড়া, আউযুবিল্লাহ্ পড়া তথা বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।

,

রাসূলুল্লাহ বলেছেন,

اَلْحَمْدُ لِلهِ الَّذِىْ رَدَّ اَمْرَهُ عَلَى الْوَسْوَسَة

সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর যিনি শয়তানের বিষয়টি কুমন্ত্রণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।’ (নাসাঈ)

,

ইবনে হাজার আল-হাইতামি রহ. বলেন,

له دواء نافع وهو الإعراض عنها جملة كافية ، وإن كان في النفس من التردد ما كان

ওয়াসওয়াসার কার্যকরী চিকিৎসা হল, একে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও।’ (আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা ১/১৪৯)

,

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই!

,

না, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। আপনার স্ত্রী তালাক হবে না। তবে আপনি সব রকম ওয়াসওয়াসা পরিহার করে চলবেন। কারণ, ওয়াসওয়াসার কার্যকরী চিকিৎসা হল, একে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও।’ (আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা ১/১৪৯)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)
by
হুজুর ভবিস্যততে এটা শর্ত তালাক হিসাবে গণ্য হবে না তো 
by
হুজুর জেতু আমি ওস ওসা ব্যক্তি তাহলে কি আমি যদি ভুল করে তালাক দিয়ে ফেলি বা কোনো শর্ত তালাক দিয়ে ফেলি তাহলে সেটা তালাক হবে না। কারণ আমার তালাক দেবার কোনো ইচ্ছা নেই আমার মণের অজান্তে আমি যেনো শর্ত তালাক দিয়ে ফেলছি বা এমনি তালাক বলে ফেলছি তাহলে কি তালাক হবে না 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...