ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
জবাব,
بسم الله الرحمن الرحيم
https://ifatwa.info/73726/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। (সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২)
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি। হাদীস শরীফে এসেছেঃ
حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْخُذُ مِنْ كُلِّ عِشْرِينَ دِينَارًا فَصَاعِدًا نِصْفَ دِينَارٍ وَمِنْ الْأَرْبَعِينَ دِينَارًا دِينَارًا
ইবনু ‘উমার ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বিশ দিনার বা তার চেয়ে কিছু বেশি হলে অর্ধ দিনার এবং চল্লিশ দিনারে এক দিনার (যাকাত) গ্রহণ করতেন। (ইবনে মাজাহ ১৭৯১ ইরওয়াহ ৮১৩,দারাকুতনী ১৮৭৯, ১৮৯২)
সাড়ে ৫২ ভরি রুপা হলে তার উপর যাকাত ফরজ।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
عن أبي سعيد الْخُدْرِي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «ليس فيما دون خمس أَوَاقٍ صدقة، ولا فيما دون خمس ذَوْدٍ صدقة، ولا فيما دُونَ خمسة أَوْسُقٍ صدقة».
[صحيح] - [متفق عليه]
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ উকিয়ার কম রৌপ্যমুদ্রায় যাকাত নেই এবং পাঁচটি উটের কমের ওপর যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাক এর কম শষ্যের ওপর যাকাত নেই।” (বুখারী,মুসলিম)
শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে পূর্ণ নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩)
আরো জানুনঃ
https://www.ifatwa.info/17417/
https://ifatwa.info/5680/
যাকাতের নেসাব-
সোনা, রূপা,টাকা,এবং ব্যবসায়িক মালে যাকাত আসে, যদি তা নেসাব পরিমাণ হয়।
স্বর্ণের নেসাবঃ ৭. ৫ ভরি।
রূপার নেসাবঃ ৫২. ৫ ভরি।
এখানে একটি জিনিষ লক্ষণীয় যে,কারো কাছে শুধুমাত্র স্বর্ণ বা শুধুমাত্র রূপা থাকলে সেটার নেসাব পূর্ণ হলেই যাকাত আসবে। অন্যথায় যাকাত আসবে না। তবে হ্যা যদি কারো নিকট স্বর্ণ এবং রূপা এভাবে থাকে যে, কোনো একটির নেসাব পূর্ণ হওয়ার জন্য সামান্য বাকী। তাহলে এক্ষেত্রে যেটা বেশী সেটারই নেসাব পূর্ণ করা হবে। যেমন কারো কাছে স্বর্ণ ৭. ৫ ভড়ির চেয়ে সামান্য কম, তাহলে এমতাবস্থায় রূপা দ্বারা স্বর্ণের নেসাবকে পূর্ণ করা হবে।
টাকা এবং মালের নেসাবঃ
টাকা এবং মালকে রূপার সাথে সংযুক্ত করে রূপার নেসাব হিসেবেই ধরা হবে। তথা কারো কাছে ৫২. ৫ ভড়ি সমমূল্যের টাকা বা ব্যবসায়িক পণ্য থাকলে তার উপর যাকাত আসবে। এক্ষেত্রে স্বর্ণকে মানদন্ড হিসেবে ধরা হবে না। সোনা রূপার বিক্রয়মূল্যর উপরই যাকাত আসে।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/121
সুতরাং যাকাতযোগ্য নয়,বরং অন্য ধরনের সম্পদ যাতে যাকাত আসে না, সেগুলো যদি উল্লেখিত দৈনন্দিন প্রয়োজন এর থেকে অতিরিক্ত হয়,তাহলে তার জন্য যাকাত গ্রহন জায়েজ হবেনা।
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
১. প্রশ্নেল্লিখিত ছুরতে যাকাত নিজের নেসাব পরিমাণ সম্পদ তথা স্বর্ণ রূপার মালিকানার উপর এসে থাকে। চায় ঐ স্বর্ণ ব্যবহার করা হোক বা না হোক। যদি আপনার মায়ের মালিকানায় নেসাব পরিমাণ স্বর্ণ বা রূপা থাকে, তাহলে অবশ্যই তখন যাকাত ওয়াজিব হবে। চায় সেটাকে ব্যবহার করা হোক বা না হোক, তাতে অবশ্যই যাকাত ওয়াজিব হবে।
মেয়েদের জন্য বানানো গহনা যদি মেয়েদের কে মালিক বানিয়ে বা হস্তান্তর না করে দেয় তাহলে উক্ত গহনার মালিক আপনার মা। বিধায় আপনার মায়ের উপর উক্ত গহনার যাকাত প্রদাণ করা আবশ্যক।
২. দৈনন্দিন প্রয়োজন বলতে নিজের ও নিজ পরিবারের খরচ চালানোর মত সামর্থ্য থাকা যেমন- সকলের খাওয়া দাওয়া, বাসা ভাড়া, বেতন বা ব্যবসা ইত্যাদি ঠিক থাকা। শরঈ আইনানুগ খরচ হচ্ছে- ইসলামি শরিয়া কর্তৃক অনুমোদিত খরচাদি। যেমন ইসরাফ (সাধারণ অপচয়) ও তাবযির (হারাম কাজে ব্যয়) ব্যতীত নিজের খরচাদি, নিজ পরিবারের খরচাদি।
টাকা খরচ করে ফেলার আগ পর্যন্ত জমানো টাকার উপর যাকাত আবশ্যক হবে যদি তা নেসাব পরিমাণ হয়। সুতরাং প্রশ্নেল্লিখিত ছুরতে চার ভরি স্বর্ণের মূল্য ও ৮/১০ হাজার টাকা মিলিয়ে নেসাব পরিমাণ হওয়াই যাকাত ফরজ হবে।