আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
46 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (8 points)
১)আমার আম্মু যেসকল গহনা পরিধান করেন সাজসজ্জার জন্য তার উপর কি যাকাত আদায় করতে হবে?
এবং কিছু গহনা (২ ভরির মতন) সে তার মেয়েদের বিয়ের জন্য গড়িয়ে রেখেছেন। এই জমা করা গহনার উপর কি যাকাত দিতে হবে?

২) প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকার উপর যাকাত ফরজ হয়? যদি এমন হয় যে, কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য কেউ টাকা জমাচ্ছে,বা যদি প্রয়োজন মেটানোর জন্য অল্প কিছু অর্থ জমা করে রাখে (৮-১০ হাজারের মতন) তাহলে কি তার যাকাত ফরজ হবে? যদি এর সাথে নিসাব পরিমাণের কম পরিমাণ স্বর্নও থাকে (৪ ভরির মতন) তাহলে এই ব্যাক্তির যাকাতের বিধান কি?

1 Answer

0 votes
by (70,170 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

জবাব,

بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/73726/   নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। (সুনানে আবু দাউদ ১/২২১মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদীস ৭০৭৭৭০৮২)

আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি। হাদীস শরীফে এসেছেঃ

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْخُذُ مِنْ كُلِّ عِشْرِينَ دِينَارًا فَصَاعِدًا نِصْفَ دِينَارٍ وَمِنْ الْأَرْبَعِينَ دِينَارًا دِينَارًا

ইবনু ‘উমার ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)  থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বিশ দিনার বা তার চেয়ে কিছু বেশি হলে অর্ধ দিনার এবং চল্লিশ দিনারে এক দিনার (যাকাত) গ্রহণ করতেন। (ইবনে মাজাহ ১৭৯১ ইরওয়াহ ৮১৩,দারাকুতনী ১৮৭৯১৮৯২)

সাড়ে ৫২ ভরি রুপা হলে তার উপর যাকাত ফরজ।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ-

عن أبي سعيد الْخُدْرِي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «ليس فيما دون خمس أَوَاقٍ صدقة، ولا فيما دون خمس ذَوْدٍ صدقة، ولا فيما دُونَ خمسة أَوْسُقٍ صدقة»

[صحيح] - [متفق عليه]

আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিততিনি বলেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ উকিয়ার কম রৌপ্যমুদ্রায় যাকাত নেই এবং পাঁচটি উটের কমের ওপর যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাক এর কম শষ্যের ওপর যাকাত নেই।” (বুখারী,মুসলিম)

শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো কাছে সোনা-রুপাটাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে পূর্ণ  নিসাব পরিমাণ না থাকেকিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছেযা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩)

আরো জানুনঃ 

https://www.ifatwa.info/17417/

https://ifatwa.info/5680/

যাকাতের নেসাব-

সোনারূপা,টাকা,এবং ব্যবসায়িক মালে যাকাত আসেযদি তা নেসাব পরিমাণ হয়।

স্বর্ণের নেসাবঃ ৭. ৫ ভরি।

রূপার নেসাবঃ ৫২. ৫ ভরি।

এখানে একটি জিনিষ লক্ষণীয় যে,কারো কাছে শুধুমাত্র স্বর্ণ বা শুধুমাত্র রূপা থাকলে সেটার নেসাব পূর্ণ হলেই যাকাত আসবে। অন্যথায় যাকাত আসবে না। তবে হ্যা যদি কারো নিকট স্বর্ণ এবং রূপা  এভাবে থাকে যেকোনো একটির নেসাব পূর্ণ হওয়ার জন্য সামান্য বাকী। তাহলে এক্ষেত্রে যেটা বেশী সেটারই নেসাব পূর্ণ করা হবে। যেমন কারো কাছে স্বর্ণ ৭. ৫ ভড়ির চেয়ে সামান্য কমতাহলে এমতাবস্থায় রূপা দ্বারা স্বর্ণের নেসাবকে পূর্ণ করা হবে।

টাকা এবং মালের নেসাবঃ

টাকা এবং মালকে রূপার সাথে সংযুক্ত করে রূপার নেসাব হিসেবেই ধরা হবে। তথা কারো কাছে ৫২. ৫ ভড়ি সমমূল্যের টাকা বা ব্যবসায়িক পণ্য থাকলে তার উপর যাকাত আসবে। এক্ষেত্রে স্বর্ণকে মানদন্ড হিসেবে ধরা হবে না। সোনা রূপার বিক্রয়মূল্যর উপরই যাকাত আসে।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/121      

সুতরাং যাকাতযোগ্য নয়,বরং অন্য ধরনের সম্পদ যাতে যাকাত আসে নাসেগুলো যদি উল্লেখিত দৈনন্দিন প্রয়োজন এর থেকে অতিরিক্ত হয়,তাহলে তার জন্য যাকাত গ্রহন জায়েজ হবেনা।

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!

১. প্রশ্নেল্লিখিত ছুরতে যাকাত নিজের নেসাব পরিমাণ সম্পদ তথা স্বর্ণ রূপার মালিকানার উপর এসে থাকে। চায় ঐ স্বর্ণ ব্যবহার করা হোক বা না হোক। যদি আপনার মায়ের মালিকানায় নেসাব পরিমাণ স্বর্ণ বা রূপা থাকেতাহলে অবশ্যই তখন যাকাত ওয়াজিব হবে। চায় সেটাকে ব্যবহার করা হোক বা না হোকতাতে অবশ্যই যাকাত ওয়াজিব হবে।

মেয়েদের জন্য বানানো গহনা যদি মেয়েদের কে মালিক বানিয়ে বা হস্তান্তর না করে দেয় তাহলে উক্ত গহনার মালিক আপনার মা। বিধায় আপনার মায়ের উপর উক্ত গহনার যাকাত প্রদাণ করা আবশ্যক।

২. দৈনন্দিন প্রয়োজন বলতে নিজের ও নিজ পরিবারের খরচ চালানোর মত সামর্থ্য থাকা যেমন- সকলের খাওয়া দাওয়াবাসা ভাড়াবেতন বা ব্যবসা ইত্যাদি ঠিক থাকা।  শরঈ আইনানুগ খরচ হচ্ছে- ইসলামি শরিয়া কর্তৃক অনুমোদিত খরচাদি। যেমন ইসরাফ (সাধারণ অপচয়) ও তাবযির (হারাম কাজে ব্যয়) ব্যতীত নিজের খরচাদিনিজ পরিবারের খরচাদি।

টাকা খরচ করে ফেলার আগ পর্যন্ত জমানো টাকার উপর যাকাত আবশ্যক হবে যদি তা নেসাব পরিমাণ হয়। সুতরাং প্রশ্নেল্লিখিত ছুরতে চার ভরি স্বর্ণের মূল্য ও ৮/১০ হাজার টাকা মিলিয়ে নেসাব পরিমাণ হওয়াই যাকাত ফরজ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...