আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
54 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
closed by
এক বোন স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন, তার লেখা টা হুবহু তুলে দিয়েছি। উনি বিবাহিত, বয়স সতের, স্বামী বিদেশে থাকে।

(আসসালামু আলাইকুম রহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহু    আমি বিবাহিত  ।  আমি গত পরশু দিন দেকি৷ যে স্বপনে আমার একটা হিন্দু ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে  যাবে সবকিছুটু ঠিক  তো বিয়ের আগ মুহুতে আমি বলতাছি যে ওই ছেলেটা কি মুসলিম  হইচে নয়তো আমি ওকে বিয়ে করব না  পরে আমার আম্মু বলতাচে যে  তর কথায় কি ওই ছেলে মুসলিম হবে  তো পরে আমি বলতাছি তবে ওকে বিয়ে করব না  পরে  ওই ছেলের ফ্যমেলি আমাকে দৌড় রাাই তাছে তখন আমার হাতে আমার হাসবেন্ডেট  দেওয়া ফোন  আর ভাবতাছি আমার যদি বিয়ে হয়ে যায় তখন  কি  উওর দিব ওনাকে তারপর ঘুম ভেঙে  যায় আর কিছু বলতে পারিনা
আজকের ঘটনা :
আমি দেখি যে আমার ফ্যমেলি থেকে আমার বিয়ে দিচ্ছে আর আমি রাজিও   ছেলেটা মুসলিম।  ভালোও  তো ফ্যমেলি  থেকে বিয়ে দিয়ে দেয় আমি খাতায় সািন দিছে ওই ছেলেটাও দিছে তারপর গাড়িতে উঠি তখন  আমি ওই ছেলেকে পশ্ন করি  অনেক এই বাংলা বা ইংরেজি
সম্পকে তো ভালো কি বুদ্ধিমান  সব কিছুর উওর দিয়ে দিল তারপর আমাকে জিঙ্গাসা করল যে তুমি তো মাদরাসায় পড়ো ।  তুমি বলে  হুজুরের সাথে পদা কর। আমি বললাম যে যেহেতু উনি  নন মাহারাম উনার সাথে তো পদা করতে হবে ।  আর বিয়ের দিন আমার ফুফাতো ভাইয়ের বউরা আমার পিক তুলতে চাচ্ছিলো তো আমি তাদের ছবি তুলতে দেইনি  যেহেতু আমার ফুফাতে ভাই আছে ওরে দেখবে  তো ওরা রাগ করে  অনেক।    তো গাড়ি থেকে নেমে  ওই ছেলেদের বাড়ি  যাইতে মোটামুটি অনেক টুকু জায়গা  ।  বৃষ্টি ছিল ওইদিন  তো ওই ছেলে   আমার হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছিল  একটা মাসজিদ পড়ে ওইখানে ।  আমি বলতাছি চলেন  দুইজন দৌড়  দেই  যেহেতু বৃষ্টি ভালো লাগে আমার।  আচ্ছা চলো।  পরে দেখলাম মাসজিদ    বললাম মাসজিদ আছে একটু পরে  দৌড় দেই।  মাসজিদে দেখলাম একটা  হুুজুর পড়াচ্ছেন চাএদের আর  ওইযে একটা খাট থাকেন ওইটা কেমন জানি কবরের মতো  লাগতাছিল ফাস্ট এমন খাট দেকলাম৷ তো ওিটা দেখে চলে যাই আর ভাবিনি ওইটা সম্পকে   তো ওদের বাড়িতে যাই  যাওয়ার পর দেখলাম কেমন জানি ওদের বাড়ি  একটু উচুতে বাড়ি   কাটের  সিড়ি তারপর বাড়ি   যাইহোক   ওইদিন আমার ওই ছেলের মাকে আমি দেখিনি  বললাম ওনি কোথায় বলল যে আরেকটা বাড়িতে কালকে দেখা কইর  বললাম ঠিক আছে।  তো রুমে ডুকলাম  উনি  আমাকে পিছন থেকে জড়াইয়া দরল  আমার জানি   শরীর  কেমন  লাগলো  এতটুকুই আর কিছুনা।  তারপর  পরের দিন  গোসল করব  ওদের বাড়িতে দেকলাম রুমের ভেতরে না  উঠানের  সাইডে  গোসল  খানা  তো কোন  ছেলে মানুষ নাই  হালকা বেড়া দেওয়া আছে আমি আর উই ছেলের  বোন  দুজন  গোসল করলাম  তারপর আরেক বাড়ি নিয়ে গেল ওইখানে ওই ছেলের মা বাবা থাকে ওই বাড়িটা স্বাভাবিক   লাগলো  ওইখানে  রান্না বান্না করা হচ্চে আমাদের বাড়ি থেকে লোক আসবে।  এর একটু পরে ওই ছেলের ভাবি  আমাকে হাতের  বেসলাইট   আর চেইন দেয়  ইনি বলে আনচে বিদেশ থেকে।   আমার সাথে  কানের দুল   নাক ফুল আর বেসলাইট ছিল আমার আসল হাসবেন্ট  যে দিছিল আমাকে বিয়ের টাইমে। তো আমি  বেসলাইট সরণের টা  ছিড়ে ওদের স্বর্নেরটা পরি বেসলাইট ।  তখন আমার হাসবেন্ডের কথা মনে পড়লো তার দেওয়া জিনিস আমার কাছে আছে  খারাপ লাগলো একটু       এতটুকুই  তারপর ঘুম ভেঙে  যায় আর খারাপ লাগে খুব স্বপ্নটা দেখে দুই দিন সেম স্বপ্ন)
closed

1 Answer

+1 vote
by (70,170 points)
selected by
 
Best answer

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

জবাবঃ-

https://ifatwa.info/109179/ নং ফাতওয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্ন তিন প্রকার:-

১. যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহকে দেখানো হয় যা কল্যানকর হয়।

২. শয়তানের পক্ষ হতে দেখানো হয় যাতে মানুষ খারাপ, মন্দ ভয়ংকর কিছু দেখে থাকে।

তবে শয়তান স্বপ্ন দেখানোর দ্বারা মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারেনা।

ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। শয়তান মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্যই এমন সব আজব আজব জিনিস দেখায়। এমনটা দেখলে ঘুম থেকে জেগে বাম দিকে থুথু ফেলে আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হয়।

৩. মানুষের কল্পনা। অর্থাৎ মানুষ যা কল্পনা করে স্বপ্নে তা দেখতে পায়।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ مِنَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ ".

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নেককার লোকের ভাল স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। (বুখারী শরীফ ৬৫১২)

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى ـ هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ ـ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الرُّؤْيَا مِنَ اللَّهِ، وَالْحُلْمُ مِنَ الشَّيْطَانِ ".

আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে আর অশুভ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। (৬৫১৩)

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا يُحِبُّهَا فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ اللَّهِ، فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ عَلَيْهَا، وَلْيُحَدِّثْ بِهَا، وَإِذَا رَأَى غَيْرَ ذَلِكَ مِمَّا يَكْرَهُ، فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَلْيَسْتَعِذْ مِنْ شَرِّهَا، وَلاَ يَذْكُرْهَا لأَحَدٍ، فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّهُ ".

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে, তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই সে যেন এর উপর আল্লাহর প্রশংসা করে এবং অন্যের কাছে তা বর্ণনা করে। আর যদি এর বিপরীত অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তাহলে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। তাই সে যেন এর অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়। আর কারো কাছে যেন তা বর্ণনা না করে। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি সাধন করবে না। (বুখারী শরীফ ৬৫১৪)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সেই বোনকে বলবো যে, আপনার স্বপ্নগুলো কল্পনা থেকে আসার সম্ভাবনাই বেশী। কারণ, আপনার স্বামী বিদেশ থাকেন। তাকে নিয়ে বিভিন্ন কল্পনা থেকেই উক্ত স্বপ্নগুলো আসতে পারে। তবে স্বপ্নগুলোর মধ্যে যদি কোন কল্যাণ থাকে তাহলে আল্লাহর কাছে তা প্রাপ্তির জন্য দোয়া করবেন এবং উক্ত স্বপ্নগুলিতে কোন অনিষ্টতা থাকলে তা থেকে পানাহ চাইবেন। উক্ত স্বপ্নের বিষয়ে কাউকে জানাবেন না। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে স্বামী-স্ত্রী একত্রে অবস্থান করলে শয়তানের অনেক ধোকা থেকে আল্লাহ তায়ালা হেফাজত করবেন ইনশাআল্লাহ।

 সেই সাথে আপনার নেক আমল বাড়িয়ে দিতে হবে, দ্বীনদার নারীদের সাথে উঠাবসা করতে হবে, পবিত্র হালতে থাকতে হবে, অহংকার থেকে বেঁচে থাকতে হবে। বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, যিকির আযকার, ফরজসহ নফল নামাজ পড়তে হবে। সাধ্যানুযায়ী দান ছদাকাহ করতে হবে। আরো জানুন :-  https://ifatwa.info/100414/?show=100414#q100414


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)
by (3 points)
reshown by
জাঝাকাল্লাহু খইর 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...