আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
47 views
in খাদ্য ও পানীয় (Food & Drink) by (8 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।

আমি একজন মেয়ে। আমার বাবা পোস্টঅফিসের ব্যাংক শাখায় কাজ করেন। আমি চেষ্টা করি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু না খেতে। কিন্তু দেখা যায় তারপরও পেট ভরে খেয়ে ফেলি, আম্মু-আব্বু খাবার দিলে বেশি দিয়ে দেন। আমি খাবার কমানোর চেষ্টা করি। এখন যদি আমি ভুল করে, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় বেশি খেয়ে ফেলি তাহলে কি আমার গুনাহ হবে? সারাদিন রোজা রেখে যদি ইফতারি ভরপেট খাওয়া হয় তাহলে কি গুনাহ হবে?
১। আমার ইবাদত, দু'আ কবুলের পথে কোনো বাঁধা সৃষ্টি হবে?
২। যদি আমার গুনাহ হয়ে থাকে তাহলে কিভাবে নিজেকে সংশোধন করতে পারি?
৩।আমি আমার বাবার থেকে কতটুকু নিতে পারবো?  আমি না করা স্বত্তেও উনি যদি ঈদে জামা, মেহেদী কিনে দেন সেগুলো কী ব্যবহার করতে পারবো?

1 Answer

0 votes
by (72,690 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

শরীয়ত উপার্জন সক্ষম বালেগ পুরুষ এর উপর আরো অনেকের লালন পালনের দায়িত্ব দিয়েছে। যেমন, উপার্জন অক্ষম মাতা-পিতা, নাবালিগ ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী সহ অনেকের ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে একজন পুরুষের উপর।

,

এখন অভিবাবকের সম্পদ হারাম হলে, সেই সম্পদ থেকে খরচ না করে নিজ মাল থেকে খরচ করাই উচিৎ, যদি নিজের সম্পদ থাকে। তবে বালেগ ছেলের উপর ওয়াজিব যে,তার সম্পদ না থাকলেও সে হালাল তরিক্বায় তার জীবিকা নির্বাহ করার চেষ্টা করবে। হ্যাঁ উপার্জন অক্ষম ব্যক্তির জন্য অভিবাবকের  হারাম মাল থেকে তাওবাহ-ইস্তেগফারেরর সাথে প্রয়োজন পর্যন্ত খোরাকি গ্রহণ করা বৈধ রয়েছে। কেননা এই উপার্জন অক্ষম ব্যক্তিগণকে ভরণপোষণ করা ঐ উপার্জন সক্ষম ব্যক্তির একান্ত দায়িত্ব ছিলো। সুতরাং গোনাহ ঐ অভিবাবকের-ই হবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন-(ফাতাওয়ায়ে উসমানী-৩/১২৭)

,

সুতরাং আপনি উপার্জন অক্ষম হলে, আপনি প্রয়োজন পর্যন্ত আপনার পিতার মাল থেকে খরচ করতে পারবেন। বাবার কাছ থেকে প্রয়োজন পর্যন্ত নেয়া সম্ভব হলে অন্য কারো কাছে থেকে আর কিছু নেয়ার প্রয়োজন নেই।

হালাল-হারাম মিশ্রিত ইনকাম করে তার বাসায় দাওয়াত খাওয়া- https://ifatwa.info/22304/

,

https://www.ifatwa.info/782  নং ফাতাওয়ায় আমরা উল্লেখ করেছি যে,

স্বামীর উপার্জন যদি হারাম থাকে বা স্বামীর সম্পদের অধিকাংশ যদি হারাম থাকে, তাহলে স্ত্রীর জন্য উচিৎ নিজ মাল থাকলে সেই মাল থেকে খোরাকি গ্রহণ করা। তবে সে চাইলে স্বামীর মাল থেকেও খোরাকি নিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে না নেয়াই উত্তম। স্ত্রীর কোনো প্রকার মাল না থাকলে সে স্বামীর উক্ত সম্পত্তি থেকে প্রয়োজন পর্যন্ত খোরাকি নিতে পারবে।

রদ্দুল মুহতারে বর্ণিত রয়েছে,

وَفِي جَامِعِ الْجَوَامِعِ: اشْتَرَى الزَّوْجُ طَعَامًا أَوْ كِسْوَةً مِنْ مَالٍ خَبِيثٍ جَازَ لِلْمَرْأَةِ أَكْلُهُ وَلُبْسُهَا وَالْإِثْمُ عَلَى الزَّوْج ِتَتَارْخَانِيَّةٌ

যদি স্বামী সন্দেহজনক মাল দ্বারা খাদ্য বা কাপড় ক্রয় করে,তাহলে স্ত্রীর জন্য উক্ত খাদ্য এবং কাপড়-কে গ্রহণ করা জায়েয রয়েছে। গোনাহ অবশ্য স্বামীরই হবে। (তাতারখানিয়া) (রদ্দুল মুহতার-৬/১৯১)

,

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!

,

আপনি যেহেতু একজন মেয়ে। তাই আপনার ভরণপোষণ, যাবতীয় খরচ আপনার বাবার উপর আবশ্যক। তাই আপনি প্রয়োজনীয় সব কিছুই আপনার বাবার কাছ থেকে নিতে পারবেন। খাবার খেতে পারবেন। প্রয়োজনে পেট পুরেও খেতে পারবেন (এই নিয়তে যে, আল্লাহ তায়ালা যদি কখনো আপনাকে সামর্থ্য দিয়ে থাকেন তাহলে পরবর্তীতে এর পরিবর্তে কিছু টাকা সদকাহ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ)। আপনার বাবা যদি হারাম সম্পদ থেকে আপনার ভরণপোষণ দিয়ে থাকেন তাহলে গোনাহ তার হবে; আপনার নয়।

আরো জানুন - https://ifatwa.info/59649/

আরো জানুন - https://ifatwa.info/92271/

,

১. আপনার ইবাদত ও দু‘আ কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।

২. উত্তরে বর্ণিত হয়েছে।

৩. নিবেন ইনশাআল্লাহ। তবে কখনো আপনাকে আল্লাহ তায়ালা সামর্থ্য দিয়ে থাকলে তখন পরবর্তীতে এর পরিবর্তে কিছু টাকা সদকাহ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)
by
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته 

এখানে সাদকাহ কি সাওয়াবের নিয়্যাত ছাড়া করতে হবে? 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...