ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া
রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
বিসমিল্লাহির রহমানির
রহীম
জবাব,
https://ifatwa.info/18730/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে,
সুরা বাকারার
১৮৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
مَنۡ
کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیۡدُ
اللّٰہُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَ لَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ ۫ وَ لِتُکۡمِلُوا
الۡعِدَّۃَ وَ لِتُکَبِّرُوا اللّٰہَ عَلٰی مَا ہَدٰىکُمۡ وَ لَعَلَّکُمۡ
تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۱۸۵﴾
রমাদান মাস,
এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের
হেদায়াতের জন্য এবং হিদায়তের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই
তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ
থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান
এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে
হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
কর।
★গর্ভবতী নারী যদি নিজের স্বাস্থ্যহানি বা সন্তানের
স্বাস্থ্যহানির আশংকায় রোজা না রাখে, তাহলে এক্ষেত্রে বিধান হচ্ছে- গর্ভবতী নারীর দুইটি
অবস্থার কোন একটি হতে পারে:
১. শারীরিকভাবে
শক্তিশালী ও কর্মোদ্যমী হওয়া, রোজা রাখতে কষ্ট না হওয়া, গর্ভস্থিত সন্তানের উপর কোন প্রভাব না পড়া- এ নারীর
উপর রোজা রাখা ফরজ। যেহেতু রোজা ছেড়ে দেয়ারজন্য তার কোন ওজর নেই।
২. গর্ভবতী
নারী রোজা রাখতে সক্ষম না হওয়া: গর্ভ ধারণের কাঠিন্যের কারণে অথবা তার শারীরিক দুর্বলতার
কারণে অথবা অন্য যে কোন কারণে। এ অবস্থায় এ নারী রোজা রাখবে না। বিশেষতঃ যদি তার গর্ভস্থিত
সন্তানের ক্ষতির আশংকা করে সেক্ষেত্রে রোজা ছেড়ে দেয়া তার উপর ফরজ। যদি সে রোজা ছেড়ে
দেয় তাহলে অন্য ওজরগ্রস্ত ব্যক্তিদের যে হুকুম তার ক্ষেত্রেও একই হুকুম হবে তথা পরবর্তীতে
এ রোজাগুলো কাযা পালন করা তার উপর ফরজ।
অর্থাৎ সন্তান
প্রসব ও নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পর এ রোজাগুলো কাযা পালন করা তার উপর ফরজ। তবে কখনো
হতে পারে গর্ভধারণের ওজর থেকে সে মুক্ত হয়েছে ঠিক; কিন্তু নতুন একটি ওজরগ্রস্ত হয়ে পড়েছে,
অর্থাৎ দুগ্ধপান করানোর ওজর। দুগ্ধপানকারিনী
নারী পানাহার করার মুখাপেক্ষী হয়ে পড়তে পারে; বিশেষতঃ গ্রীষ্মের দীর্ঘতর ও উত্তপ্ত দিনগুলোতে।
এ দিনগুলোতে এমন নারী তার সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর জন্য রোজা ছেড়ে দেয়ার প্রয়োজন
হতে পারে। এমতাবস্থায় আমরা সে নারীকে বলব: আপনি রোজা ছেড়ে দিন। এ ওজর দূর হওয়ার পর
আপনি এ রোজাগুলো কাযা পালন করবেন।”(ফাতাওয়াস সিয়াম পৃষ্ঠা-১৬২)
“গর্ভবতী ও দুগ্ধপানকারিনী নারীর ব্যাপারে ইমাম আহমাদ ও সুনান
সংকলকগণের গ্রন্থে সহিহ সনদে আনাস বিন মালিক আল-কাবী এর বর্ণিত হাদিস নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি এ দুই প্রকারের নারীকে রোজা ছেড়ে দেয়ার অবকাশ
দিয়েছেন এবং এদেরকে মুসাফিরের পর্যায়ে গণ্য করেছেন। অতএব,
জানা গেল যে,
এরা মুসাফিরের মত রোজা না-রেখে পরবর্তীতে
কাযা পালন করবে। আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, রোগীর অনুরূপ কষ্ট না হলে অথবা সন্তানের স্বাস্থ্যহানির
আশংকা না থাকলে এ দুই শ্রেণীর নারীগণ রোজা ছেড়েদিবে না। (মাজমুউল ফাতাওয়া ১৫/২২৪)
আরো জানুনঃ
https://ifatwa.info/14185/
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত
ছুরতে যদি গর্ভ ধারণের কাঠিন্যের কারণে অথবা শারীরিক দুর্বলতার কারণে গর্ভবতী মায়ের
রোজা রাখায় অনেক কষ্ট হয়,আর এর দরুন দিনের বেলা রোযা ভেঙ্গে ফেলে,অথবা গর্ভস্থিত সন্তানের ক্ষতির আশংকা করে,
যার দরুন দিনের বেলা রোযা ভেঙ্গে ফেলে,
অথবা না রাখে,সেক্ষেত্রে এটি জায়েজ আছে।
এক্ষেত্রে কাজা আবশ্যক হবে,কাফফারা আবশ্যক হবেনা।
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
প্রশ্নে উল্লেখিত
মহিলার গর্ভধারনের ফলে মারাত্নক আকারে অনেক কষ্ট হলে বা বাচ্চার স্বাস্থ্যহানির আশংকা
থাকলে রোযা ছেড়ে দিতে পারবেন। তবে পরবর্তীতে রোজাগুলোর কাযা আদায় করতে হবে। আরো জানুন: https://ifatwa.info/18730/
সাধারণত আরবি উচ্চারণে
ইয়া মালিকু, ইয়া খালিকু বলা হয়। আর বাংলা ভাষায় খালিক বা মালিক বলা হয়। সুতরাং দুই
পদ্ধতিতে পড়া জায়েয। তবে আরবি বিশুদ্ধ উচ্চারণ অনুসরণ করে পড়াই শ্রেয়।