0 votes
101 views
in সালাত(Prayer) by (45 points)
edited by

আসসালামু'আলাইকুম মুহতারাম।

ঘরে নামায আদায় করা বিষয়ে আমার কিছু জানার আছে।

প্রশ্নঃ০১ - যদি এমন হয়, আমি ঘরে সালাত আদায় করছি কিন্তু বাসায় কেও নেই। কিন্তু, সালাত আদায় কালে যদি কেও দরজা নক করে, এই ক্ষেত্রে আমার করনীয় কি? সালাত কি ছেড়ে দরজা খুলবো? পরে পুনরায় আবার সালাত শুরু করবো?  ইসলাম কি বলে?

প্রশ্নঃ০২ - সালাত আদায়ের স্থানের সামনে যদি খাট থাকে, সেখানে যদি কেও শুয়ে থাকে, বা বসে থাকে, সেই সময়ে সালাত আদায় করলে কি সালাত হবে? অর্থাৎ সালাতরত অবস্থায় সামনে খাটে কেও শুয়ে থাকে, বা বসে থাকে  এতে কি (যে সালাত আদায় করছে) তার সালাত হবে? নাকি তার গুনা হবে? আর যে বসে থাকল, বা শুয়ে থাকল কি তার গুনা হবে?

প্রশ্নঃ ০৩ - আমার একটা বিড়াল আছে। ও জায়নামাজ দেখলেই ওখানে শুয়ে পরে, খেলা করে। আমি জায়নামাজ বিছানোর পর সালাত শুরু করলে মাঝে মাঝে আমার বিড়াল এসে সিজদার জায়গায় শুয়ে পরে, খেলা শুরু করে। এমতাবস্থায় আমি যদি জায়নামাজ থেকে ডানে বা বামে সরে গিয়ে সালাত আদায় করি বা সিজদা দেই কোন সমস্যা হবে? সালাতের কোন ক্ষতি হবে ওস্তাদ? (নোট- আমার বিড়াল ঘরেই থাকে। বাহিরে যায় না। নিয়মিত গোসল করাই, ভ্যাকছিন দেওয়া আছে)

প্রশ্নঃ ০৪ - ঘরে বাবা,মা,ভাইবোনদের নিয়ে জামাত করে সালাত আদায় করা যাবে? (যেহেতু, করোনা) এক্ষেত্রে, ইমামতি করার অগ্রাধিকার কাকে দিতে হবে? আর ইকামত দিবেন কে? 

প্রশ্নঃ ০৫ - ওস্তাদ, খাটের ওপর দাড়িয়ে সালাত আদায় করা কি জায়েজ?

জাজাকুমুল্লাহ

1 Answer

0 votes
by (30.9k points)

বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

(১)নামায ভাঙ্গবে না।বরং সংক্ষেপে শেষ করে তারপর দরজা খুলবে।

(২)

জ্বী এমতাবস্থায়ও নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে।যদিও উচিৎ এমন কোনো স্থানে নামাযে দাড়ানো যেখানে একাগ্রতার সাথে প্রশান্তচিত্তে নামায আদায় করা যায়।

যেমন হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন 

عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا قَالَتْ: «كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلاَيَ، فِي قِبْلَتِهِ فَإِذَا سَجَدَ غَمَزَنِي،فَقَبَضْتُ رِجْلَيَّ، فَإِذَا قَامَ بَسَطْتُهُمَا»، قَالَتْ: وَالبُيُوتُ يَوْمَئِذٍ لَيْسَ فِيهَا مَصَابِيحُ

আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সামনে ঘুমন্ত থাকতাম। আমার পা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বরাবর থাকত।যখন তিনি সেজদা দিতে চাইতেন তখন আমার পায়ে খোঁচা দিতেন আমি পা' কে ভাঁজ করে ফেলতাম। যখন তিনি আবার দাড়িয়ে যেতেন তখন আমি পা' কে লম্বা করে ফেলতাম। তখনকার দিনে আমাদের ঘরে কোনো বাতি ছিল না।(সহীহ বোখারী-৩৮২)


(৩) নামায হয়ে যাবে।তবে আগামিতে নামাযের সময় হয়তো বিড়ালকে বেঁধে রাখবেন।নতুবা নিজে এমন কোনো স্থানে/রুমে নামায আদায় করবেন যেখানে বিড়াল পৌছতে না পারে।
(৪)জ্বী। ঘরে জামাতে নামায পড়তে পারবেন।

শুধুমাত্র মাহরাম রা থাকলে যেকোনোভাবে দাড়ানো যাবে।তবে বয়স্করা ইমামের নিকটে থাকাই মুস্তাহাব।

আর মাহরামদের সাথে গায়রে মাহরামদের উপস্থিতি থাকলে প্রথম কাতারে পুরুষরা দাড়াবে।এবং দ্বিতীয় কাতারে শিশুরা দাড়াবে আর তৃতীয় কাতারে নারীরা দাড়াবে।

ইমামতি কে করবে?

যে সবচেয়ে বেশী শরীয়তের জ্ঞানের ধারণা রাখবেন, তিনিই ইমামতি করবেন।যদি দু'জন ব্যক্তি সমান সমার জ্ঞানের অধিকারী থাকেন তাহলে এই দু'জনের মধ্যে যার ক্বিরাত অন্যজনের তুলনায় একটু বেশী বিশুদ্ধ তিনিই ইমামতি করাবেন।

জাযাকুমুল্লাহ।
আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

পরামর্শ  প্রদাণে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

...