আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
49 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আসসালামুয়ালাইকুম। আমি প্রাইভেট এর জন্যে অনেক মেয়ে টিচার খুঁজছি কিন্তু কেউ তেমন ভালো পড়াতে পারতো না।আর পরীক্ষার ও মাত্র ২ মাস‌ বাকি থাকায় একটা ভাইয়ার কাছে ফিজিক্স প্রাইভেট পড়া শুরু করি।এমনিতে আমি গায়রে মাহরাম মেনে চলি ।তবে এই প্রাইভেট গুলোর ক্ষেত্রে বাবা মায়ের চাপ এ পরেই পুরুষ টিচার এর কাছে পরতে হয় ।তারা এগুলো মেইনটেইন করে না।বলে নিজে ঠিক থাকলে সব ঠিক।তো আমি ২ মাস এর মতো ঐ ভাইয়ার কাছে পড়ছি।ঐ ভাইয়ার কাছে পড়া অবস্থায় একদিন ওনার কাছ থেকে একটা ম্যাথ এর সলভ নিতে ওনাকে হোয়াটসঅ্যাপ এ নক দেই ।তো ম্যাথ টা সলভ করে দেওয়ার পর উনি আমাকে সরাসরি কিছু বলেন নাই । তবে ওনার কথা শুনে আমার মনে হইছে যে উনি আমাকে পছন্দ করেন।তো তারপর আমি ওনার সাথে আর সেভাবে কোনো কথা বলি নাই।তারপর আমাদের কিছু সমস্যা থাকায় আমার বান্ধবী রা মিলে ওনার প্রাইভেট টা বাদ দেই। কিন্তু সবাই ঠিক করে যে অনলাইন এ পরীক্ষা দিবে। পরীক্ষা দিয়ে ঐ উত্তর গুলো ওনার ইনবক্স এ পাঠাতে হয়।তো তখন উনি আবার আমাকে বলছেন যে "তুমি বোরকা পড়ো , পর্দা করো এটাকে আমি অনেক সম্মান করি।" এগুলা বলার পর বলেছেন যে আমাকে দেখার ওনার খুব ইচ্ছা। শুধু উনি আমার মাহরাম নয় জন্য উনি নিজেকে আটকায় রাখছে।আর এছাড়াও আমাকে বলছেন উনি নাকি আমার মাহরাম হতে চান।আমি আমার তরফ থেকে ওনাকে কিছু বলি নি।আর আমি ওনার সাথে এমন কোনো আচরণ ও করি নি যাতে উনি আমাকে পছন্দ করে বসবেন। আমি ওনার সাথে কথা বলতে চাই না । কিন্তু আমার ছোট বোন ওনার কাছে পড়ে এই জন্য মাঝে মাঝে মা ওর পড়াশোনার খবর নিতে বলে। এছাড়া খুব একটা কথা বলি না ঐ ঘটনার পর।আর ওনাকে বোঝানোর পর উনিও এই বিষয়ে আর কোনো কথা বারান নি।তবে আমি ঝামেলায় পরে গেছি। ওনার ঐ মেসেজ গুলো ডিলিট করে দেওয়ার পরও বারবার মনে পরতেছে্। তাও আবার সবসময়। ওনাকে নিয়ে ভাবতেছি।নামাজে ,এমনকি কোনো ইবাদত এই মনোযোগ আসতেছে না।অথচ আমি ওনাকে প্রত্যেক বারই না বলছি। আমি এই উটকো ঝামেলার কারণে আমার রমাদান কে বরবাদ করতে চাই না। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমি কি কি আমল করতে পারি ?

1 Answer

0 votes
by (607,050 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী পর্দা করা ফরজ।
সুতরাং কোনো মহিলা কোনো বালেগ পুরুষকে  প্রাইভেট পড়াতে পারবেনা।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ        
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ [٢٤:٣٠] 

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٢٤:٣١] 

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। {সূরা নূর-৩০-৩১}

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও [ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে আকর্ষণধর্মী ভঙ্গিতে কথা বলনা, যাতে যাদের মাঝে যৌনলিপ্সা আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল। এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে, জাহেলী যুগের মেয়েদের মত নিজেদের প্রকাশ করো না। {সূরা আহযাব-৩২}

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ

অর্থ : আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। {সূরা আহযাব-৫৩}
,
★মহিলারা শুধু মহিলাদেরকেই পড়াবে।অন্যথায় গুনাহগার হবে।  
কিতাবুন নাওয়াজেল ১৪/২৫৬.কিফায়াতুল মুফতি ২/৩৪-৩৬)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
   
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُوَرِّقٍ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ "

আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলারা হচ্ছে আওরাত (আবরণীয় বস্তু)। সে বাইরে বের হলে শাইতান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়। — সহীহ, তিরমিজি১১৭৩ মিশকাত (৩১০৯), ইরওয়া (২৭৩), তা’লীক আলা ইবনি খুযাইমা (১৬৮৫)
,

وفي روایۃ: المرأۃ عورۃ مستورۃ۔ (نصب الرایۃ لأحادیث الہدایۃ ۱؍۲۹۸ المکتبۃ المکیۃ جدۃ، وکذا في الفتاویٰ الحدیثیۃ / مطلب یکرہ تعلیم النساء الکتابۃ ۱۱۹)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলারা হচ্ছে আওরাত (আবরণীয় বস্তু)। 
,
وفي الأشباہ: الخلوۃ بالأجنبیۃ حرام۔ (الدر المختار، کتاب الحظر والإباحۃ / باب الاستبراء ۹؍۵۲۹ زکریا، ۶؍۳۶۸ کراچی) 
অনুবাদঃ গায়রে মাহরামের সাথে একাকিত্ব হারাম । 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে কোনোভাবেই তার কাছে প্রাইভেট করা আপনার জন্য বৈধ নয়।
তার সাথে দেখা সাক্ষাৎ, যোগাযোগ সব বন্ধ করতে হবে।
তাত সাথে যোগাযোগ করার সমস্ত পথ বন্ধ করতে হবে।

খালেস দিলে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।

আরো করনীয় জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...