আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
55 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম,

আমি শাফিয়াতুল ফেরদৌস, বয়স ৩৬। আমি বর্তমানে খুব অসুস্থ এবং আমার দুটি সন্তান রয়েছে। বড় সন্তানটি ক্লাস টেনে পড়ে এবং ছোটটি ৩ বছর বয়সী। আমি একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে আছি, প্রথমত আমি এবং আমার পুরো পরিবার(সন্তানসহ) কঠিন ভাবে যাদুগ্রস্থ। এবং যেখানে আমার স্বামীর সাথে সম্পর্ক ভালো নয়। তিনি আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য নানা পায়তারা করেসেন।এবং তার পরিবারও আমার উপর অত্যাচার করছে( এমনকি গর্ভাবস্থায় সে এবং তার পরিবার আমানুষিক নির্যাতন করে এবং হসপিটাল নিয়ে যাই এবং সেখানে পুলিশ কেস হয়। একই যের ধরে বাসা থেকে বের করে দেয়)।

আমার ছোট সন্তান জন্মের পর প্রায় এক বছর সে বা তার পরিবার আমার ও সন্তানদের কোনো খোজ নেয় নি। আমরা খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করেসি। পরবর্তীতে আমি না পেড়ে গুরুজন ও আইনের আশ্রয় নেই, এবং সে সামাজিকতা রক্ষার্থে আমার ও আমার সন্তানদের দায়িত্ব নেয়।কিন্তু স্বামী বা পিতা হিসেবে আপনজনের মতো আচরন সে করে না। আমার বড়ো ছেলেটা ওর খারাপ আচরন ও গায়ে হাত তুলার প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেটাকে সে সহ্য করতে পারে না খুব মারধর করে।এবং তার পড়া বন্ধ করে দেয়। রমজান যায়, ইদ যায়, সে আমার বাচ্চাদের কাপড়চোপড় তো দূরের কথা ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে না।এমন না তার ইনকাম খারাপ। সে আমাদের সাথে কোনো খাবার খায় না, সে তার মায়ের বাসায় ৩ বেলা খাবার খায়, সে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে রাত ১/১:৩০ এ বাসায় আসে এবং সকালে চলে যায়। আমার বা বাচ্চাদের সাথে কোনোরূপ আন্তরিকতা নাই।

আমার ছোটবেলায়, মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে আমার মা মারা যান। আমি চাই না আমার সন্তানরা বাবা ছাড়া বড়ো হোক, তাই আমি সবকিছু সত্ত্বেও স্বামীর সংসারে থাকার চেষ্টা করছি।

কিন্তু বর্তমানে আমার শারীরিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। একেতো আমি যাদুগ্রস্থ ২য় আমার শরীর খুব দূর্বল গত ৪ বছরে আমি খাবারের খুব কস্ট করেসি। এমনকি এখনো করসি। যার কারনে শরীর অপুস্টিতে ভুগসে। বিভিন্ন রোগেশোকে ডাক্তার দেখাতে পারসি না কারন আমার স্বামী চিকিৎসার কোনোরূপ খরচবহন করবে না ।এমনকি আমার শ্বশুরবাড়িতে কেউ আমার খোঁজ নেয় না এবং আমি চূড়ান্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছি।

গত একমাস যাবত সে আমার সাথে এবং আমার বাচ্চাদের সাথে গুড রিলেশন করছে। এবং এর ফলশ্রুতিতে আমি আবার সন্তান ধারণ করে ফেলি( বর্তমানে ২/২.৫ মাসের প্রেগন্যান্ট) , কিন্তু আমি এটা সিওর বুঝতে পারছি সে ইচ্ছাকৃত এটা করেছে আমাকে শাস্তি দিতে, কারন সে চায় আমি কস্ট করি।গর্ভাবস্থায় আমি অনেক অসুস্থ থাকি সে জানে এমনকি সে ঠিকমতো ভিটামিন এনেও দেয় না। সে আমাদেরই ঠিকমতো দায়িত্ব নেয় না।এমতাবস্থায় আরেকটা বাচ্চা নেওয়া নিয়ে আমি খুবই ভিত। কারন আমি জানি আমাকে শারীরিক কস্ট পেতে দেখলে সে মানসিক শান্তি পায়। আমি শারীরিকভাবে খুবই দূর্বল। এই অবস্থায় কিভাবে রোজা রাখসি, আদৌও ইফতার বানাতে পারসি কিনা সে খোজও নেয় না। সে তার মায়ের বাসায় দিব্যি আছে।
আমার যাওয়ার জায়গা নেই বাচ্চা দুটো নিয়ে, আমার মা মারা যাওয়ার পর, বাবা আবারও বিয়ে করেন। এমনকি আমার উপার্জনের কোনো উৎস নেই।
আমি জানি স্বামীহীন সমাজ কতো কঠিন, নিজের ও সন্তানদের জন্য আমি এখনও এই লোকের সংসার করসি।

এখন আমার করনীয় কি। আমি কি বাচ্চাটাকে দুনিয়াতে আনবো। বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ, আমার বাচ্চা দুটোর আমি ছাড়া দেখার কেউ নেই। এবং আমি সিজারের রোগী। আমি মানুষিক ভাবে খুব বিপর্যস্ত হয়ে পরেছি।
এখন আমি বুঝতে পারছি না, আমি কি সিদ্ধান্ত নেব। বাচ্চাটা দুনিয়াতে আনবো কি না। কারন আমি জানি সম্পূর্ণ গর্ভাবস্থায় আমার স্বামীর কোনো সাপোর্ট আমি পাবো না। এমনকি সে এবরশনও করতে দিবে না। আমি নিজের জীবন নিয়ে খুব শংকাগ্রস্থ।

 আমি আপনার পরামর্শ চাই, এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমি কি করতে পারি?

আপনার দোয়া ও সহায়তা কামনা করছি।

1 Answer

0 votes
by (70,170 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

জবাব,

https://ifatwa.info/53468/  নং ফাতওয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শরীয়তের বিধান হলো  যদি মহিলা অত্যাধিক দুর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয় এবং গর্ভধারণের মেয়াদ চার মাসের কম হয়। তাহলে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক গর্ভপাত বৈধ হবে। মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে কোনোভাবেই বৈধ হবেনা।

খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ইত্যাদির অভাবের কারণে সংসারকে সচ্ছল করার নিয়তে, দৈহিক সৌন্দর্য বা ফিগার ঠিক রাখার উদ্দেশ্যে ,কন্যাসন্তান জন্ম নেয়ার ভয়ে (যাতে পরবর্তীতে এদের বিয়ে শাদীর ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়),অধিক সন্তান নেয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করে গর্ভপাত বিশেষত অভাবের কারণে সংসারকে সচ্ছল করার নিয়তে গর্ভপাত করলে আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা রিজিকের মালিক আল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালা  বলেছেন,

ولا تقتلوا أولادكم خشية إملاق، نحن نرزقهم وإيّاكم إنّ قتلهم كان خطأ كبيراً.

‘’দারিদ্রতার ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানকে হত্যা কর না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই খাদ্য প্রদান করে থাকি।নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ’’(সূরা ইসরা, আয়াত-৩১)

 

অন্যত্র তিনি বলেন, الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ . “শয়তান তোমাদের অভাবের ওয়াদা দেয়।” (সূরা আল-বাক্বারা)

আধুনিক যুগে ভ্রুণহত্যা জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত সমাধিস্থ করার নামান্তর। তখন বাবা নিজ মেয়েকে গর্তে পুঁতে ফেলত; আর এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা মায়ের পেটেই শিশুকে মেরে ফেলা হয়। এ দুই হত্যার মধ্যে বাহ্যত কোনো তফাত নেই। এজন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) ভ্রুণহত্যাকে ‘গুপ্তহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘স্মরণ কর ওই দিনকে, যেদিন জীবন্ত সমাধিস্থ নিষ্পাপ বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাকে কোন অপরাধের কারণে হত্যা করা হয়েছে?’ (সূরা তাকয়ির :৮)।

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোনচার মাসের পূর্বে বিশেষ কিছু কারণে শরীয়ত গর্ভপাতকে অনুমোদন প্রদান করে থাকে।

(ক) বর্তমানে কোলে দুধের একটি শিশু রয়েছে,অপরদিকে উক্ত মহিলার গর্ভাশয়ে নতুন সন্তানও উৎপাদিত হচ্ছে। গর্ভের দরুন দুধ একেবারে শুকিয়ে গেছে।অপরদিকে উক্ত সন্তানকে অন্যকোনো উপায়ে লালনপালন করা যাচ্ছেনা। মায়ের দুধ ব্যতীত অন্যকিছুতে সে মূখই দিচ্ছে না।এমতাবস্থায় চারমাস হয়নি এমন গর্ভকে গর্ভপাত করা বৈধ রয়েছে।

(খ) কোনো মুসলমান বিজ্ঞ ডাক্তার উক্ত গর্ভবতী মহিলাকে পরিদর্শন করে বলে যে,গর্ভপাত না করলে মহিলার জান বা কোনো অঙ্গ বিনাশের আশঙ্কা রয়েছে।

আরো জানুনঃ

https://ifatwa.info/4441/

https://ifatwa.info/446/

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

প্রশ্নে উল্লিখিত ছুরতে আপনি "আপনি শারীরিক ও মানুষিক ভাবে যদি বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকেন।"" এক্ষেত্রে আপনার শারীরিক অবস্থা দেখে যদি কোনো অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তার গর্ভপাতের আদেশ করে, সেক্ষেত্রে এই কারনে ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক গর্ভপাত করা জায়েজ হবে। নতুবা প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে গর্ভপাত জায়েজ হবেনা। সুতরাং আপনি কোন ভালো অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

...