আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
40 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আমি ভার্সিটির হলে থাকি।গত একমাস ধরে আমার রুমে সমস্যা হচ্ছে। আমার রুমমেট জুনিয়রদের সাথে সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে।তারা‌ কেউ আমার সাথে কথা বলে না। রুমে আমার কোন বান্ধবী আসলেই তারা তখন পড়তে বসে। আবার বলে তাদের ডিস্টার্ব হচ্ছে। আমার শুধু একজন বান্ধবী ই আসে।আর আসলেও আমরা খুব আস্তে কথা বলি। রুমে অন্য কেউ আসলেই তারা এমন করে। কিন্তু ঐ মানুষ চলে গেলে ঠিকই আর বই পড়েনা। অন্যান্য কাজ করে।ফোন চালায়।
আমি যথাসম্ভব সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করি।  মাঝে মধ্যে ভুল ত্রুটি হয়ে যায়। কয়েকদিন পর হল ছেড়ে দিব। আমরা দুজন আছি ব্যাচমেট। আমাদের দুজনকেই তারা সহ্য করতে পারে না।

আমরা নাকি ডমিনেট করি এটা একদম সরাসরি ই বলেছে একদিন।ঐ সময় বিষয়টা মজা হিসেবে নিয়েছি। কিন্তু আসলেই হয়তো তারা এমন মনে করে। আমি একটু রুমে মোছার ব্যাপারে সচেতন। কিন্তু রুমের কেউই রুম মুছতে চায়না। খুব অনীহা রুম মুছতে। মুছে দায়সারা ভাবে যেন আমি তাদেরকে জোর করছি।আমি ই মুছি। কাউকে কিছু বলিনা। কষ্ট হয় তাও মুছি।

আমি ওদেরকে আগেই বলেছি তোমরা তোমাদের যেদিন সেদিন একটু ১২/১ টার মধ্যে রুম মুছে দিও।যোহর নামাজের আগেই যেন মুছে।তারা মুছলেও দেরী করে মুছে। আমি ১২ টার আগেই গোসলের চেষ্টা করি।আমি রুম না মোছা থাকলে নিজেই মুছে তারপর গোসলে‌ যাই যে এসে নামাজ পড়ব। সবসময় ই তাদের যেদিন তারা ভুলে যায়।শুয়ে থাকে।ফোন চালায় তাও মুছে না। রুমে বলা আছে কারো যেদিন অসুবিধা হবে সে যেন জানিয়ে দেয় অন্যজন মুছবে।

সেদিন কি হয়েছে আমি দেখতেছি আমার এক জুনিয়র তার সেদিন রুম মোছা।সে সকাল থেকে শুয়ে আছে। তারপর উঠে দুপুরে খাবার খেতে বসল।আমার খুব রাগ হয়েছে।যে আজকেও মুছবে না! আমি রাগের মাথায় শুধু আমার জায়গাটুকুতে মুছে গোসল করতে যাই। এসে দেখি সে আমি যেখানে মুছেছি সেখানে আবার ঝাড়ু দিয়ে ময়লা আনতেছে।তো আমার মুখ থেকে বের হয়ে গেল," তুমি দেখলে না! আমি মূছেছি ,আবার ওখানে ময়লা কেন নিচ্ছ. শুধু এটুকু ই বলেছি।

আমি যখন বালতি নিয়ে রুম মুছতে এসেছি।তখন ও তো বলতে পারত,আমি মুছে দিব।! !! যাই হোক।পরে সে এইসব কথা আরেক জুনিয়রকে বলতে ছিল।এভাবে যে আমি নাকি ছোটলোক এর মতো। আমি আমার জায়গা মুছেছি এজন্য নাকি আমি ছোটলোক। সে নাকি অসুস্থ।
আচ্ছা সে তো আমাকে একবার ও বলেনি সে অসুস্থ। আর আমি কিভাবে বুঝব?! প্রত্যেক বার যেদিন ই তার মোছার ডেট সে এভাবে করে।

মুখে মুখে যাতে তর্ক না হয় এজন্য যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। আমি নিজে করি তাও বলিনা। শুধু ঐদিন আমি আমার নিজের টুকু মুছেছি। এমনিতেই সব দিন কিন্তু আমি পুরো রুম মুছি।

হল ছেড়ে যাওয়ার আগে রুমমেট দের খাওয়ানোর নিয়ম অনেক আগে থেকেই।সেই হিসেবে আমরা দুজন ও ওদেরকে খাওয়ানোর কথা বলেছি। তাদের এমন ভাব যে তারা খাবে না।তাও বলে বলে জিজ্ঞেস করা লাগছে।
আমি রুমে কিছু রান্না করলে সবসময় দিয়ে খাই।একা খুব কমই খাই। সেদিন আমার স্কলারশিপ এর রেজাল্ট দিছে।তো আমি বিরিয়ানি এনেছি।খেতে বলেছি পর বলে "আমি খাব না।" আমার খুব কষ্ট লেগেছে। এমনিতে কিন্তু এই মেয়েই আমি আগে রান্না করলে সবসময় বলতো আপু আমি খাব। ওদেরকে দিতে দিতে আমার ও এমন অভ্যাস হয়েছে যে ওদেরকে না দিয়ে খেতে পারিনা। আর এখন এমন কী হয়েছে যেজন্য ওরা এমন ব্যবহার করে?

আমার একদম ওদেরকে আর ভালো লাগে না।খুব কষ্ট হয়। আমি কখনো তো এমন কিছু করিনাই। চেষ্টা করেছি সব ঠিক করতে। তাও এমন কেন হলো সব। ওরা আমার সাথে কথা বলে না।আমিও বলি না।কি বলব! যাই বলি তাতেই দোষ হয়। এর চেয়ে চুপ থাকি না হয়। কিন্তু আমি কেন যেন ভুলতে পারছি না,আমি এত আদর করলাম তাও আমি এখন ছোটলোক!! আমার বারবার কথাটা যেন কানে বাজে।
রমাদান মাস। আমি এভাবে আর নিতে পারছি না। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি এদের থেকে। ইসলাম মেনে চলতে যথেষ্ট চেষ্টা করি। তাও ভুল হয়।এইযে ওরা কথা বলেনা বা আমার ওদের উপর কোন অভিযোগ নেই। আমার পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমি চলে যাব। কিন্তু ওরা যে কথা বলে না;আমিও বলি না।এতে কী আমার গুনাহ হচ্ছে?? আমার কি আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে? আমি যদি ওদেরকে বলি কি হয়েছে তৌমরা এমন করো কেন; তখন বলবে কই কী করি; আবার এমন কিছু বলবে যে আমি আবার কষ্ট পাব। এজন্য এই ভয়ে কিছু বলিনা। কিন্তু আমি কেন যেন অন্যদিকে ফোকাস দিতে পারিনা। সারাদিন বাইরে থেকে এসে এদের গোমরাহ মুখ দেখা লাগে।আমার কী করা উচিত ? যেভাবে আছে চলতে থাক? নাকি আমি ই মাফ চাব? যেখানে আমি কিছু করিনি

1 Answer

+1 vote
by (607,050 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

কোনো মুসলিমের সাথে তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা জায়েজ নেই।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، وَأَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ السَّرْخَسِيُّ، أَنَّ أَبَا عَامِرٍ، أَخْبَرَهُم حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هِلَالٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا يَحِلُّ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَهْجُرَ مُؤْمِنًا فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَإِنْ مَرَّتْ بِهِ ثَلَاثٌ، فَلْيَلْقَهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَإِنْ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ فَقَدِ اشْتَرَكَا فِي الْأَجْرِ، وَإِنْ لَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ فَقَدْ بَاءَ بِالْإِثْمِ

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ঈমানদারের জন্য বৈধ নয়, সে কোনো ঈমানদারের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রাখবে। অতঃপর তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর উভয়ে দেখা হলে একজন সালাম দিলে এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি তার সালামের উত্তর দিলে উভয়ই সালামের সাওয়াব পাবে। আর দ্বিতীয়জন সালামের উত্তর না দিলে গুনাহগার হবে। ইমাম আহমাদ এর বর্ণনায় রয়েছেঃ সালামদাতা সম্পর্কচ্ছেদের গুনাহ থেকে মুক্ত হবে।
(আবু দাউদ ৪৯১২)


دَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ ابْنِ عَثْمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُنِيبِ يَعْنِي الْمَدَنِيَّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا يَكُونُ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلَاثَةٍ، فَإِذَا لَقِيَهُ سَلَّمَ عَلَيْهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ كُلُّ ذَلِكَ لَا يَرُدُّ عَلَيْهِ فَقَدْ بَاءَ بِإِثْمِهِ 
আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা উচিৎ নয়। অতঃপর সে তার দেখা পেয়ে তাকে তিনবার সালাম দিলে সে যদি একবারও উত্তর না দেয় তবে সে তার গুনাহসহ প্রত্যাবর্ত করলো।
(আবু দাউদ ৪৯১৩)
,
বিস্তারিত জানুনঃ

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি কথা না বললে আপনারও গুনাহ হবে। তাই তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে ২/১ দিন পর করে হলেও কমপক্ষে সালাম দিবেন।

তারা আপনার দেয়া খাবার না খেলে কোনো সমস্যা নেই। তাদেরকে আর খাবার খেতে বলতে হবেনা।
কোনো কিছু তাদেরকে দিতে হবেনা।
আপনি আপনার মতো চলবেন।

তাদের নিয়ে চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পড়াশোনা নিয়ে চিন্তা করার পরামর্শ থাকবে। 

তারা তাদের মতো চলতে থাক,আপনি আপনার মতো চলতে পারেন,কোনো সমস্যা নেই। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...