আমি ভার্সিটির হলে থাকি।গত একমাস ধরে আমার রুমে সমস্যা হচ্ছে। আমার রুমমেট জুনিয়রদের সাথে সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে।তারা‌ কেউ আমার সাথে কথা বলে না। রুমে আমার কোন বান্ধবী আসলেই তারা তখন পড়তে বসে। আবার বলে তাদের ডিস্টার্ব হচ্ছে। আমার শুধু একজন বান্ধবী ই আসে।আর আসলেও আমরা খুব আস্তে কথা বলি। রুমে অন্য কেউ আসলেই তারা এমন করে। কিন্তু ঐ মানুষ চলে গেলে ঠিকই আর বই পড়েনা। অন্যান্য কাজ করে।ফোন চালায়।
আমি যথাসম্ভব সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করি। মাঝে মধ্যে ভুল ত্রুটি হয়ে যায়। কয়েকদিন পর হল ছেড়ে দিব। আমরা দুজন আছি ব্যাচমেট। আমাদের দুজনকেই তারা সহ্য করতে পারে না।
আমরা নাকি ডমিনেট করি এটা একদম সরাসরি ই বলেছে একদিন।ঐ সময় বিষয়টা মজা হিসেবে নিয়েছি। কিন্তু আসলেই হয়তো তারা এমন মনে করে। আমি একটু রুমে মোছার ব্যাপারে সচেতন। কিন্তু রুমের কেউই রুম মুছতে চায়না। খুব অনীহা রুম মুছতে। মুছে দায়সারা ভাবে যেন আমি তাদেরকে জোর করছি।আমি ই মুছি। কাউকে কিছু বলিনা। কষ্ট হয় তাও মুছি।
আমি ওদেরকে আগেই বলেছি তোমরা তোমাদের যেদিন সেদিন একটু ১২/১ টার মধ্যে রুম মুছে দিও।যোহর নামাজের আগেই যেন মুছে।তারা মুছলেও দেরী করে মুছে। আমি ১২ টার আগেই গোসলের চেষ্টা করি।আমি রুম না মোছা থাকলে নিজেই মুছে তারপর গোসলে‌ যাই যে এসে নামাজ পড়ব। সবসময় ই তাদের যেদিন তারা ভুলে যায়।শুয়ে থাকে।ফোন চালায় তাও মুছে না। রুমে বলা আছে কারো যেদিন অসুবিধা হবে সে যেন জানিয়ে দেয় অন্যজন মুছবে।
সেদিন কি হয়েছে আমি দেখতেছি আমার এক জুনিয়র তার সেদিন রুম মোছা।সে সকাল থেকে শুয়ে আছে। তারপর উঠে দুপুরে খাবার খেতে বসল।আমার খুব রাগ হয়েছে।যে আজকেও মুছবে না! আমি রাগের মাথায় শুধু আমার জায়গাটুকুতে মুছে গোসল করতে যাই। এসে দেখি সে আমি যেখানে মুছেছি সেখানে আবার ঝাড়ু দিয়ে ময়লা আনতেছে।তো আমার মুখ থেকে বের হয়ে গেল," তুমি দেখলে না! আমি মূছেছি ,আবার ওখানে ময়লা কেন নিচ্ছ. শুধু এটুকু ই বলেছি।
আমি যখন বালতি নিয়ে রুম মুছতে এসেছি।তখন ও তো বলতে পারত,আমি মুছে দিব।! !! যাই হোক।পরে সে এইসব কথা আরেক জুনিয়রকে বলতে ছিল।এভাবে যে আমি নাকি ছোটলোক এর মতো। আমি আমার জায়গা মুছেছি এজন্য নাকি আমি ছোটলোক। সে নাকি অসুস্থ।
আচ্ছা সে তো আমাকে একবার ও বলেনি সে অসুস্থ। আর আমি কিভাবে বুঝব?! প্রত্যেক বার যেদিন ই তার মোছার ডেট সে এভাবে করে।
মুখে মুখে যাতে তর্ক না হয় এজন্য যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। আমি নিজে করি তাও বলিনা। শুধু ঐদিন আমি আমার নিজের টুকু মুছেছি। এমনিতেই সব দিন কিন্তু আমি পুরো রুম মুছি।
হল ছেড়ে যাওয়ার আগে রুমমেট দের খাওয়ানোর নিয়ম অনেক আগে থেকেই।সেই হিসেবে আমরা দুজন ও ওদেরকে খাওয়ানোর কথা বলেছি। তাদের এমন ভাব যে তারা খাবে না।তাও বলে বলে জিজ্ঞেস করা লাগছে।
আমি রুমে কিছু রান্না করলে সবসময় দিয়ে খাই।একা খুব কমই খাই। সেদিন আমার স্কলারশিপ এর রেজাল্ট দিছে।তো আমি বিরিয়ানি এনেছি।খেতে বলেছি পর বলে "আমি খাব না।" আমার খুব কষ্ট লেগেছে। এমনিতে কিন্তু এই মেয়েই আমি আগে রান্না করলে সবসময় বলতো আপু আমি খাব। ওদেরকে দিতে দিতে আমার ও এমন অভ্যাস হয়েছে যে ওদেরকে না দিয়ে খেতে পারিনা। আর এখন এমন কী হয়েছে যেজন্য ওরা এমন ব্যবহার করে?
আমার একদম ওদেরকে আর ভালো লাগে না।খুব কষ্ট হয়। আমি কখনো তো এমন কিছু করিনাই। চেষ্টা করেছি সব ঠিক করতে। তাও এমন কেন হলো সব। ওরা আমার সাথে কথা বলে না।আমিও বলি না।কি বলব! যাই বলি তাতেই দোষ হয়। এর চেয়ে চুপ থাকি না হয়। কিন্তু আমি কেন যেন ভুলতে পারছি না,আমি এত আদর করলাম তাও আমি এখন ছোটলোক!! আমার বারবার কথাটা যেন কানে বাজে।
রমাদান মাস। আমি এভাবে আর নিতে পারছি না। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি এদের থেকে। ইসলাম মেনে চলতে যথেষ্ট চেষ্টা করি। তাও ভুল হয়।এইযে ওরা কথা বলেনা বা আমার ওদের উপর কোন অভিযোগ নেই। আমার পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমি চলে যাব। কিন্তু ওরা যে কথা বলে না;আমিও বলি না।এতে কী আমার গুনাহ হচ্ছে?? আমার কি আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে? আমি যদি ওদেরকে বলি কি হয়েছে তৌমরা এমন করো কেন; তখন বলবে কই কী করি; আবার এমন কিছু বলবে যে আমি আবার কষ্ট পাব। এজন্য এই ভয়ে কিছু বলিনা। কিন্তু আমি কেন যেন অন্যদিকে ফোকাস দিতে পারিনা। সারাদিন বাইরে থেকে এসে এদের গোমরাহ মুখ দেখা লাগে।আমার কী করা উচিত ? যেভাবে আছে চলতে থাক? নাকি আমি ই মাফ চাব? যেখানে আমি কিছু করিনি