আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
40 views
in সাওম (Fasting) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম  আমি গত বছর প্রেগনেন্সির কারণে রামাদানের রোজা রাখতে পারিনি। আমার ৩০ টা রোযাই কাজা হয়েছে। তো আমার চিন্তাভাবনা ছিল ইনশাআল্লাহ আমি পরবর্তীতে ৩০ টা রোযা কাজা রাখতে পারবো। পরে বাবু কনসেপ করার ৪ /৫মাস পরে শারীরিকভাবে সুস্থ হই তখন আমি একটা রোজা রাখি। তখন আমার বাচ্চা বুকের দুধ পান করে।আমি যখন একটা রোজা রাখি তখন হঠাৎ করে অনেক দুর্বল হয়ে যাই। এবং আমার বাচ্চা বুকের দুধ পাচ্ছিনা।আমি আগে বুঝতে পারি নাই যে আমি ৩০ টা রোজা কাজা করতে পারবো না।"দয়া করে আমাকে একটু জানালে অনেক মুনাসিব হবে আমার এই ৩০টা কাজা রোজার কাফফারা কি ?  " আমি একজন থেকে জানতে পারলাম আমার একটা রোজা কাজা করার কারণে  কারণে আমাকে দুইজন মানুষ খাওয়াতে হবে এর মানে ৩০ টা রোজার জন্য ৬০ জন মানুষকে খাওয়াতে হবে। দুই বেলা খাওয়াতে হবে। আমি তো একটা রোজা রাখছি সে অনুযায়ী আমার 29 টা রোজা কাজা হয়েছে। " ২৯টা রোজা কাজের কারণে আমি দুই বেলা করে মানুষকে খাওয়ানোর তৌফিক আমার নেই। আমি কি কাফফারা  হিসেবে দুই বেলা তাদেরকে শুধু খেজুর খাওয়াতে পারব। আমার তৌফিক  অনুযায়ী আমি তাদেরকে সেই অনুযায়ী খাওয়াতে পারব? " নাকি আমাকে বাকি কাজা রোজা গুলো রাখতেই হবে। আর কাজা রোজা রাখতেই হয় তাহলে কি আমি আস্তে আস্তে সে কাজা রোজা গুলো রাখতে পারব?  এই রমজানের পরেও কি আমি এর আগের বছরের রোজা রাখতে পারব??  আমাকে একটু জানালে অনেক মুনাসিব হতো

1 Answer

0 votes
by (592,050 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তা’আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।
أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/11319

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ: هَلَكْتُ، قَالَ: «وَمَا أَهْلَكَكَ؟» قَالَ: وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَعْتِقْ رَقَبَةً» قَالَ: لَا أَجِدُ، قَالَ: «صُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ» قَالَ: لَا أُطِيقُ، قَالَ: «أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا»

অনুবাদ- হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসূল সাঃ জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কে ধ্বংস করেছে? সাহাবী বললেন, রমজানে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেছি। রাসূল সাঃ তাকে বললেন, তাহলে এর বদলে একটি গোলাম আযাদ কর। সাহাবী বললেন, আমি এতে সক্ষম নই। নবীজী সাঃ বললেন, তাহলে লাগাতার দুই মাস রোযা রাখ। সাহাবী বললেন, আমি এতেও সক্ষম নই। তখন রাসূল সাঃ বললেন, তাহলে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খানা খাওয়াও। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৭১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৯৪৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-১১০৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১৯৪৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৫২৭}

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার উপর কোনো রোযার কাফফারা আবশ্যক হয়নি।
আপনাকে কোনো কাফফারা আদায় করতে হবেনা। 

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যেহেতু একটি কাজা রোজা আদায় করেছেন সুতরাং অবশিষ্ট ২৯ রোযার কাজা আদায় করলেই হবে।

এক্ষেত্রে আপনি আস্তে আস্তে সময় সুযোগ মোতাবেক সে কাজা রোজা গুলো রাখতে পারবেন।

এই রমজানের পরেও আপনি এর আগের বছরের কাজা রোজা রাখতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 224 views
...