0 votes
12 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
পিতামাতাকে ইসলামে সম্মান ও শ্রদ্ধা ও পিতা-মাতার সামনে উচু স্বরে ও কথা বলতে নিষেধ করেছেন,আমার প্রশ্ন হলো,যখন পিতা বা মাতা ইসলাম বিরুধী কাজ না তখন সেটা যদি তার সন্তান বুঝিয়ে বলে কিন্তু জন্মদাতা বুঝতে নারাজ,সেক্ষেত্রে কি সন্তানের গুনা হবে পিতামাতার যদি কষ্ট লাগে সন্তানের কথায়।যেমন একটি উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট করে দিচ্ছি,ধরুন কারো বাবা বা মা মিথ্যা বললো বা ইসলামিক শরিয়তে যার অনুমুতি দেয় নাহ সেই কাজ করলো যেমন কারো থেকে টাকা ধার নিলো সন্তানের কথা বলে কিন্তু সন্তান সমস্যায় আছে টাকা দিতে অপারক কিন্তু জুলুম করে টাকা নিলো,আপনারা জানেন যে,সত্য নিজের বিরুদ্ধে বললে তিতা হয়,এখন সেই কারনে কষ্ট পেলো,অভিশম্পাত করলো সেক্ষেত্রে কি সন্তান তার ইসলামিক বিরুধী কাজ কে নিষেধ করভে না?

আরো একটা উদাহরন দিচ্ছি বিষয়টা ক্লিয়ার বুঝার জন্যঃ

ধরেন,বাবা বললো তার ভাইকে আমার সন্তান তো নেশাকরে।কিন্তু সন্তান নেশা করে নাহ।কেন বললো শুধু শুধু?সন্তান কে ভাই এর কাছে ছোট করার জন্য বা নিজের সার্থ্য উদ্ধারের জন্য।সন্তান যদি প্রতিবাদ করলো আমি তো খাই নাহ মিথ্যা কেন বললেন আমার ব্যাপারে,আপনি মিথ্যাবাদী,জঘন্য প্রতারক এভাবে বললেন যা শুনে পিতামাতা কষ্ট পেলো কিন্তু দোষটা পিতামাতার ই।সেক্ষেত্রে কি সেই ভুল গুলো পিতামাতার মেনে নিতে হবে?বুঝিয়ে বলেও যখন কাজ হচ্ছে নাহ।

সমাজে তো ভাল বাবা-মা ও যেমন আছে,পাপী বাবা-মা ও আছে।বিবেকবান মানুষ হিসেবে ইসলামের বাহিরে বাবা-মা গেলে সন্তানের কি করনীয়?

বিঃদ্রঃ (আমার ঘটনাগুলো কাল্পনিক বুঝানোর সুবিধার্তে উদাহরন দেয়া তাই এটাকে ব্যক্তিগত কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে বা তাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করি নি,শুধু জানার উদ্দেশ্য করেছি,কারন এই সমস্যায় ইসলাম কি সমাধান দেয় তা আমার একটা কৌতুহলী বিষয়।আমাদের বাবা-মা সবার ই আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক ভাল।)

1 Answer

0 votes
by (79,200 points)
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 

,
পিতা মাতার অন্যায় কাজ ধরিয়ে দেওয়া,তাদেরকে বুঝানো যাবে।
তবে এহেন পরিস্থিতিতেও তাদের সাথে উত্তম আচরণ চালিয়ে যেতে হবে।
তারা কষ্ট পায়,এমন কোনো আচরন করা যাবেনা।
প্রশ্নে উল্লেখিত গালি গালাজ করা যাবেনা।
উত্তম ভাবে বুঝাতে হবে,বড় কাহারো মাধ্যমেও বুঝানো যেতে পারে। 
তাদের জন্য হেদায়াতের দোয়া করতে হবে।   

আরো জানুনঃ 
,
তাদের অন্যায় কাজের আদেশ মানা যাবেনা।
তাদের অন্যায় কাজও মানা যাবেনা।
,
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
   
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ۖ وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ۚ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ [٣١:١٥]

পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো। [সূরা লুকমান-১৫]

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
مُصْعَبُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ نَزَلَتْ فِيهِ آيَاتٌ مِنَ الْقُرْآنِ قَالَ: حَلَفَتْ أُمُّ سَعْدٍ أَنْ لَا تُكَلِّمَهُ أَبَدًا حَتَّى يَكْفُرَ بِدِينِهِ، وَلَا تَأْكُلَ وَلَا تَشْرَبَ، قَالَتْ: زَعَمْتَ أَنَّ اللهَ وَصَّاكَ بِوَالِدَيْكَ، وَأَنَا أُمُّكَ، وَأَنَا آمُرُكَ بِهَذَا. قَالَ: مَكَثَتْ ثَلَاثًا حَتَّى غُشِيَ عَلَيْهَا مِنَ الْجَهْدِ، فَقَامَ ابْنٌ لَهَا يُقَالُ لَهُ عُمَارَةُ، فَسَقَاهَا، فَجَعَلَتْ تَدْعُو عَلَى سَعْدٍ، فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْقُرْآنِ هَذِهِ الْآيَةَ: {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلَى أَنْ تُشْرِكَ بِي}

মুসআব ইবনু সা’দ (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত যে, তাঁর সম্পর্কে কুরআনের কিছু আয়াত অবতীর্ণ হলো। তিনি বলেন, তাঁর মা শপথ করে ফেলেছে যে, যতক্ষন তিনি ইসলামকে অস্বীকার না করবেন ততক্ষন তার সাথে কথা বলবে না খাবেও না, পানও করবে না। সে বললো, আল্লাহ তায়ালা তোকে আদেশ করেছেন, পিতামাতার কথা মানতে। আর আমি তোর মা। আমি তোকে এ আদেশ করছি। মা তিন দিন পর্যন্ত কিছু খেলেন না। কষ্টে সে বেহুশ হয়ে গেলে উমারাহ নামক তার এক ছেলে তাকে পানি পান করালো। মা সা’দর উপর বদদু’আ করতে লাগলো। তখন আল্লাহ তা’আলা কুরআন শরীফে এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যব্যাবহার করতে। তবে ওরা যদি তোমার উপর বল প্রয়োগ করে, আমার সাথে এমন কিছু শরীক করতে যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তুমি তাদের মেনো না।” (২৯ঃ ৮) আর পৃথিবীতে তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে।” (৩১ঃ ১৫) [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭৪৮]

عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَتْ: قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَفْتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قُلْتُ: وَهِيَ رَاغِبَةٌ، أَفَأَصِلُ أُمِّي؟ قَالَ: «نَعَمْ صِلِي أُمَّكِ

আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে আমার আম্মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফাতওয়া চেয়ে বললাম, তিনি আমার প্রতি খুবই আকৃষ্ট, এমতাবস্থায় আমি কি তার সঙ্গে সদাচরণ করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে সদাচরণ কর। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৬২০]
,
★এহেন পরিস্থিতিতে সন্তানের জন্য উচিত পিতা মাতা কে বুঝানো। সাধ্যের সবটুকু দিয়ে বুঝানো। কিন্তু পিতা মাতার সাথে বিআদবী করা যাবে না। কটুকথা বলা যাবে না। দরদের সাথে, মোহাব্বতের সাথে বুঝানো। নিজের চেষ্টা অব্যাহত রাখা। আল্লাহর কাছে হেদায়াতের জন্য দুআ করতে থাকা। খেয়াল রাখতে কিছুতেই পিতার প্রাপ্য হক থেকে পিতা মাতাকে বঞ্চিত করা যাবে না। তাকে ইজ্জত, সম্মান যথার্থই করতে হবে।
,
আরো জানুনঃ 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...