আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
47 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (69 points)


আসসালামু আলাইকুম, 
আমার কিছু প্রশ্ন নিচে দেয়া হলো। রেফারেন্স সহ উত্তর দিলে উপকৃত হব।

জৈনক মহিলা মানত করেছিলেন যে তার যদি সন্তান হয়/ সন্তান বেচে থাকে তাহলে ওই মহিলা প্রতি চাঁদে/প্রতি মাসে একটি করে নফল রোজা রাখবেন।
মানত পূরণ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলঃ 

প্রশ্ন-১ঃ রমজান মাসে তো ফরজ রোজা রাখতে হয়, তাহলে মানতের রোজা কখন রাখবেন?
প্রশ্ন-২ঃ এখন মানতের রোজা তিনি রাখতে পারতেছেন না, তাহলে কি কাফফারা দিতে পারবেন?
প্রশ্ন-৩ঃ মানত যদি পূরণ না করেন তাহলে যেই সন্তানের জন্য মানত করেছিলেন সেই সন্তানের কি কোনো ক্ষতি হবে? নাকি ওই শুধুমাত্র মহিলার গুনাহ হবে? নাকি ওই মহিলা ইসলাম থেকে বাতিল হয়ে যাবে?
প্রশ্ন-৪ঃ কোনো ভাবেই কি এর থেকে মুক্তির উপায় আছে?

1 Answer

0 votes
by (746,320 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻄﻴﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻠﻴﻄﻌﻪ ﻭﻣﻦ ﻧﺬﺭ ﺃﻥ ﻳﻌﺼﻴﻪ ﻓﻼ ﻳﻌﺼﻪ
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর অানুগত্যশীল কোনো জিনিষ দ্বারা মান্নত করবে,সে যেন তা পূর্ণ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা মূলক কোনো জিনিষ দ্বারা মান্নত করবে, সে যেন তা পূর্ণ না করে।(সহীহ বোখারী-৬৩১৮) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/375
 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) যদি কোনো মহিলা মান্নত করে যে, "যদি সন্তান হয়/ সন্তান বেচে থাকে তাহলে সে প্রতি চাঁদে/প্রতি মাসে একটি করে নফল রোজা রাখবেন।''
অতপর যদি মান্নত পূরণ হয়, তাহলে তাকে প্রতি মাসে একটি রোযা রাখতে হবে। এটা ঐ মহিলার উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে রমজানে মান্নতের রোযা রাখতে হবে না।
(قولہ لکنہ یقضیہا متتابعة) ای موصولة بآخر السنة من غیر فاصل تحقیقاً للتتابع بقدر الامکان ح عن البحر واشار الی انہ لا یجب علیہ قضاء شہر عن رمضان کما لایجب فی المعینة لانہ لما ادرکہ لم یصح نذرہ اذ ہو مستحق علیہ بایجاب اللہ تعالی فلم یقدر علیٰ صرفہ الی غیرہ اھ ج: 2/124، (مطبوعہ نعمانیہ قبل باب الاعتکاف)۔

(২) মান্নতের রোজা রাখতেই হবে।না রাখলে গোনাহ হবে। যদি কেউ কোনো মাসে অপারগতা বশত রাখতে না পারে, তাহলে পরবর্তীতে কাযা আদায় করতে হবে। যদি কেউ বার্ধক্যর দরুণ  বা অসুস্থতার দরুণ রাখতে অক্ষম হয়, এবং পরবর্তীতে অসুস্থতার আশা প্রায় গৌণ, তাহলে এমতাবস্থায় প্রতি রোযার বিপরীতে একটি ফিদয়া তথা ফিতরা সমপরিমাণ টাকা সদকাহ করতে হবে। 
(৩) মানত যদি পূরণ না করেন তাহলে যেই সন্তানের জন্য মানত করা হয়েছে, সেই সন্তানের ক্ষতি হতেও পারে,তবে ঐ  মহিলার যে গুনাহ হবে,সেটা নিশ্চিত।তবে মহিলা ইসলাম থেকে বাহির হবে না।

(৪) হয়তো রোযা রাখতে হবে, অথবা ফিদয়া আদায় করতে হবে নতুবা ফিদয়া আদায়ের অসিয়ত করে যেতে হবে।

الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (2/ 427):
"(وللشيخ الفاني العاجز عن الصوم الفطر ويفدي) وجوباً، ولو في أول الشهر وبلا تعدد فقير، كالفطرة لو موسراً.
(قوله: وبلا تعدد فقير) أي بخلاف نحو كفارة اليمين للنص فيها على التعدد، فلو أعطى هنا مسكيناً صاعاً عن يومين جاز، لكن في البحر عن القنية: أن عن أبي يوسف فيه روايتين، وعند أبي حنيفة لايجزيه، كما في كفارة اليمين، وعن أبي يوسف: لو أعطى نصف صاع من بر عن يوم واحد لمساكين يجوز، قال الحسن: وبه نأخذ اهـ ومثله في القهستاني."

وفي الفتاویٰ الهندية:
"وقدروي عن محمد قال: إن علق النذر بشرط یرید کونه کقوله: إن شفی اﷲ مریضي أو رد غائبي لایخرج عنه بالکفارة، کذا في المبسوط. ویلزمه عین ما سمی، کذا في فتاویٰ قاضي خان." 

الدر المختار مع ردالمحتار فصل في العوارض المبیحة لعدم الصوم ج ۲ ص ۱۷۳ و ج ۲ ص ۱۷۴۔ط۔س۔ج۲ص۴۳۷:
"ولو قال مریض: ﷲ علي أن أصوم شهراً، فمات قبل أن یصح لا شيء علیه، وإن صح ولو یوماً ولم یصم لزمه الو صیة بجمیعه علی الصحیح، کا لصحیح إذا نذر ذلک ومات قبل تمام الشهر لزمه الو صیة با لجمیع بالإجماع\"


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...