بسم الله الرحمن الرحيم
জবাব,
https://www.ifatwa.info/782 নং
ফাতাওয়ায় আমরা উল্লেখ করেছি যে,
স্বামীর উপার্জন যদি হারাম থাকে বা স্বামীর সম্পদের
অধিকাংশ যদি হারাম থাকে, তাহলে
স্ত্রীর জন্য উচিৎ নিজ মাল থাকলে সেই মাল থেকে খোরাকি গ্রহণ করা। তবে সে চাইলে
স্বামীর মাল থেকেও খোরাকি নিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে না নেয়াই উত্তম। স্ত্রীর কোনো
প্রকার মাল না থাকলে সে স্বামীর উক্ত সম্পত্তি থেকে প্রয়োজন পর্যন্ত খোরাকি নিতে
পারবে।
রদ্দুল মুহতারে বর্ণিত রয়েছে,
وَفِي جَامِعِ الْجَوَامِعِ: اشْتَرَى
الزَّوْجُ طَعَامًا أَوْ كِسْوَةً مِنْ مَالٍ خَبِيثٍ جَازَ لِلْمَرْأَةِ أَكْلُهُ
وَلُبْسُهَا وَالْإِثْمُ عَلَى الزَّوْج ِتَتَارْخَانِيَّةٌ
যদি স্বামী সন্দেহজনক মাল দ্বারা খাদ্য বা কাপড় ক্রয়
করে,তাহলে স্ত্রীর জন্য উক্ত
খাদ্য এবং কাপড়-কে গ্রহণ করা জায়েয রয়েছে। গোনাহ অবশ্য স্বামীরই হবে।
(তাতারখানিয়া) (রদ্দুল মুহতার-৬/১৯১)
প্রশ্নকারী প্রিয় দ্বীনী ভাই/বোন!
শরীয়ত উপার্জন সক্ষম বালেগ পুরুষ এর উপর আরো অনেকের
লালন পালনের দায়িত্ব দিয়েছে। যেমন, উপার্জন অক্ষম মাতা-পিতা, নাবালিগ
ছেলে,মেয়ে,স্ত্রী সহ অনেকের ভরণপোষণের দায়িত্ব
রয়েছে একজন পুরুষের উপর।
এখন অভিবাবকের সম্পদ হারাম হলে, সেই
সম্পদ থেকে খরচ না করে নিজ মাল থেকে খরচ করাই উচিৎ,যদি নিজের সম্পদ থাকে। তবে বালেগ
ছেলের উপর ওয়াজিব যে,তার
সম্পদ না থাকলেও সে হালাল তরিক্বায় তার জীবিকা নির্বাহ করার চেষ্টা করবে। হ্যা
উপার্জন অক্ষম ব্যক্তির জন্য অভিবাবকের হারাম মাল থেকে তাওবাহ-ইস্তেগফারেরর সাথে
প্রয়োজন পর্যন্ত খোরাকি গ্রহণ করা বৈধ রয়েছে। কেননা এই উপার্জন অক্ষম ব্যক্তিগণকে
ভরণপোষণ করা ঐ উপার্জন সক্ষম ব্যক্তির একান্ত দায়িত্ব ছিলো। সুতরাং গোনাহ ঐ
অভিবাবকের-ই হবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন-(ফাতাওয়ায়ে উসমানী-৩/১২৭)
সুতরাং আপনি উপার্জন অক্ষম হলে, আপনি
প্রয়োজন পর্যন্ত আপনার পিতার মাল থেকে খরচ করতে পারবেন। বাবার কাছ থেকে প্রয়োজন
পর্যন্ত নেয়া সম্ভব হলে অন্য কারো কাছে থেকে আর কিছু নেয়ার প্রয়োজন নেই।
তিন সময়ে নামাজ পড়তে
হাদীস শরীফে নিষেধ করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ، أَنَّ
رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّمْسُ تَطْلُعُ وَمَعَهَا
قَرْنُ الشَّيْطَانِ فَإِذَا ارْتَفَعَتْ فَارَقَهَا فَإِذَا اسْتَوَتْ قَارَنَهَا
فَإِذَا زَالَتْ فَارَقَهَا فَإِذَا دَنَتْ لِلْغُرُوبِ قَارَنَهَا فَإِذَا
غَرَبَتْ فَارَقَهَا " . وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ
الصَّلاَةِ فِي تِلْكَ السَّاعَاتِ .
আবদুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুর্য শয়তানের দুই শিঙের
মধ্য দিয়ে উদিত হয়। যখন সুর্য উপরে উঠে, তখন শয়তান তা থেকে দুরে
সরে যায়। আবার যখন সুর্য মাথার উপর আসে, তখন শয়তান এসে মিলিত হয়।
আবার ঢলে পড়লে পৃথক হয়ে যায়। আবার যখন সুর্য অস্তগমনের নিকটবর্তী হয়, তখন
শয়তান মিলিত হয় এবং যখন সুর্য অস্তমিত হয়, তখন শয়তান সরে যায়। এ
জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ তিন সময় সালাত আদায় করতে
নিষেধ করেছেন ( সুনান আন-নাসায়ী ,৫৬০)
অন্য হাদীসে এসেছে-
عَنْ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ،
يَقُولُ ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا
أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ
الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ
حَتَّى تَمِيلَ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ .
উকবা ইবনু আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনটি
সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করতে ও মৃত
ব্যাক্তিকে কবরস্থ করতে নিষেধ করেছেন (১) যখন সুর্য আলোকিত হয়ে উদয় হয়, যাবৎ
না ঊর্ধাকাশে উঠে; (২) যখন
দ্বিপ্রহর হয়, যাবৎ
না সুর্য হেলে পড়ে আর (৩) যখন সুর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়, যাবৎ
না সম্পূর্ণ অস্ত যায়।( সুনান আন-নাসায়ী ,৫৬১)
তাশাহুদ পরিমান বৈঠক করার পর হুদুস অথবা নামাজ
ভাঙ্গার কোনো কারণ সংঘটিত হলে উক্ত নামাজ সহীহ হয়ে যাবে।
হাদীস শরীফে এসেছে-
عن عليِّ بن أبي طالب - رضي الله عنه - إذا
جلسَ قدرَ التشهدِ ثم أحدثَ تمَّتْ صلاتُه.
যদি তাশাহহুদ পরিমাণ বৈঠক করে অতঃপর কোন হুদুস সংঘটিত
হয় তাহলে তার নামায পূর্ণ হয়ে যাবে। (আল-খুলাসা, ১/৪৫০)
★ সু-প্রিয়
প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
১. কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যদি তাদের সাথে কৃত
ওয়াদা খেলাফ কারীকে ক্ষমা করে দেন তাহলে সে আল্লাহ তায়ালার কাছেও ক্ষমা পাবে বলে
আশা করা যায়। সর্বপরি এমন ব্যক্তির জন্য উচিত অতীতের খেলাফী থেকে তওবা করা ও
ভবিষ্যতে যেন কারো সাথে ওয়াদা করার পর তা খেলাফ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।
সুতরাং প্রশ্নেল্লিখিত ছুরতে আপনারা যেহেতু মাফ
করেছেন বিধায় সে মাফ পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তবে তারও উচিত স্বীয় কৃতকর্মের উপর
তওবা করা।
২. জ্বী উক্ত খাবার খাওয়া জায়েয আচে। তবে সেই নারীর
জন্য উচিত তার অভিভাবককে বাকি টাকা পরিশোধ করতে বলা। কারণ, বাকি টাকা পরিশোধ না করলে বান্দার হুক
নষ্ট করার কারণে কবীরা গুনাহ হবে। তা পরিশোধ না করলে বা সেই বান্দা মাফ না করলে
মাফ হবে না।
বাবা বা স্বামীর ইনকাম হারাম হলেও কোনো সমস্যা নেই, সকল
বয়সের মেয়ে সন্তানদের জন্য তার পিতা বা স্বামীর ইনকামে লালিত পালিত হওয়া জায়েয।
এক্ষেত্রে পিতা বা স্বামীর ইনকাম হারামের নিকটবর্তী হলেও তাদের গোনাহ হবেনা। এটি রুখছতের অন্তর্ভুক্ত।