0 votes
13 views
in Halal & Haram by
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ শায়খ,
মেয়েদের পুরুষ টিচারের কাছে ব্যাচে প্রাইভেট পড়ার বৈধতা সম্পর্কে

আমার প্রশ্ন হলো-

১. নির্দিষ্ট একটা ক্লাস পর্যন্ত জেনারেলে পড়তে হচ্ছে এমন মেয়ের জন্য কোনো সাবজেক্টে ভালো মার্ক পেয়ে পাশ করার জন্য যদি প্রাইভেট পড়তে হয়, (শারঈ পর্দা করে)

তাহলে টিচারকে বাসায় এনে একাকী পড়লে তা কি জায়েজ হবে?

২. নাকি ব্যাচে দুই বা ততোধিক মেয়েদের সাথে পড়লে তা জায়েজ হবে?

৩. ব্যাচে যদি দু তিনজন ছেলে থাকে (তাদের বসার সিট একই ক্লাসরুমে হলেও অনেক দূরে, কথা বা পাশাপাশি বসা হচ্ছেনা) তাহলে তা জায়েজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (8.8k points)
বিসমিহি তা'আলা

সহশিক্ষা ও ইসলাম।(১)

ﺑﺴْﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮّﺣْﻤﻦ ﺍﻟﺮّﺣﻴْﻢ

ﺣﺎﻣﺪﺍ ﻭ ﻣﺼﻠﻴﺎ ﻭﻣﺴﻠﻤﺎ

ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﻻَ ﻋِﻠْﻢَ ﻟَﻨَﺎ ﺇِﻻَّ ﻣَﺎ ﻋَﻠَّﻤْﺘَﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ ﺍﻟْﺤَﻜِﻴﻢُ

আপনিই পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে আপনি আমাদিগকে যা কিছু শিখিয়েছেন (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় আপনিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।

সহশিক্ষা তথা নারী-পুরুষের যৌথ শিক্ষা ব্যবস্থা ইসলাম সমর্থিত নয়।বরং তা বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ।এক সময় কলেজ ভার্সিটিতে এমনি পশ্চিমা দেশেও আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল।কিন্তু পরবর্তীতে ফ্রি মাইন্ডের অজুহাত দেখিয়ে পশ্চিমা দেশে সহশিক্ষা চালু হয়,এবং তাদের অন্ধ অনুকরণে পরবর্তীতে আমাদের দেশেও সহশিক্ষা চালু হয়।

শরীয়তের দৃষ্টিতে এ শিক্ষা পদ্ধতি সম্পূর্ণ নাজায়েয এবং ইসলামের মূলনীতি পরিপন্থী।

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-

ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﺄَﻟْﺘُﻤُﻮﻫُﻦَّ ﻣَﺘَﺎﻋًﺎ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﻫُﻦَّ ﻣِﻦْ ﻭَﺭَﺍﺀِ ﺣِﺠَﺎﺏٍ ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﺃَﻃْﻬَﺮُ ﻟِﻘُﻠُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻭَﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻦَّ
অর্থ : আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ।

(সূরা আহযাব- ৫৩;)

বিখ্যাত তাফসীরবিদ ইমাম কুরতুবী রাহ. উক্ত আয়াতের আলোচনায় বলেন, উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে কোনো প্রয়োজনে পর্দার আড়াল থেকে কিছু চাওয়া বা কোনো মাসআলা জিজ্ঞাসা করার অনুমতি দিয়েছেন। সাধারণ নারীরাও উপরোক্ত হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৪৬)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ হলেন সকল মুমিনের মা। অথচ তাঁদের সাথেই লেনদেন বা কথা-বার্তা বলতে হলে পর্দার আড়াল থেকে করতে বলা হয়েছে।

তাহলে অন্যান্য সাধারণ বেগানা নারীদের ক্ষেত্রে হুকুমটি কত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত তা তো সহজেই অনুমেয়।

নবীজী সাঃ ইরশাদ করেন:-

হযরত বুরাইদা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

ﻋَﻦْ ﺍﺑْﻦِ ﺑُﺮَﻳْﺪَﺓَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ” ﻟَﺎ ﺗُﺘْﺒِﻊِ ﺍﻟﻨَّﻈْﺮَﺓَ ﺍﻟﻨَّﻈْﺮَﺓ؛َ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺄُﻭﻟَﻰ ﻭَﻟَﻴْﺴَﺖْ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓُ “

রাসূল সাঃ হযরত আলী রাঃ কে বলেন,

হে আলী! [সহসা] একবার দেখার পর পুনরায় [কোন বেগানা নারীকে] দেখো না।

কারণ, তোমার জন্য প্রথমবারে অনুমতি রয়েছে [যখন তা অনিচ্ছায় হয়ে যাবে],কিন্তু দ্বিতীয়বারের অনুমতি নেই।

{মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৯৭৪,

সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৭৫১,
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৪৯,
সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭৭৭}

হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,

ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺃُﻣَﺎﻣَﺔَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ” ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ ﻳَﻨْﻈُﺮُ

ﺇِﻟَﻰ ﻣَﺤَﺎﺳِﻦِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٍ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﺮَّﺓٍ، ﺛُﻢَّ ﻳَﻐُﺾُّ ﺑَﺼَﺮَﻩُ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟَﻪُ ﻋِﺒَﺎﺩَﺓً ﻳَﺠِﺪُ ﺣَﻠَﺎﻭَﺗَﻬَﺎ “

যদি কোন মুসলমানের কোন নারীর সৌন্দর্যের প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায়,

অতঃপর সে নিজ চক্ষু নিচু করে নেয়, তবে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য এমন এক ইবাদতের সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন, যাতে সে তার স্বাদ অনুভব করতে পারবে।
{মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২২৭৮}

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত,রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন,

ﻓَﺎﻟْﻌَﻴْﻨَﺎﻥِ ﺯِﻧَﺎﻫُﻤَﺎ ﺍﻟﻨَّﻈَﺮُ، ﻭَﺍﻟْﺄُﺫُﻧَﺎﻥِ ﺯِﻧَﺎﻫُﻤَﺎ ﺍﻟِﺎﺳْﺘِﻤَﺎﻉُ، ﻭَﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥُ ﺯِﻧَﺎﻩُ ﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡُ، ﻭَﺍﻟْﻴَﺪُ ﺯِﻧَﺎﻫَﺎ ﺍﻟْﺒَﻄْﺶ،ُ ﻭَﺍﻟﺮِّﺟْﻞُ ﺯِﻧَﺎﻫَﺎ ﺍﻟْﺨُﻄَﺎ، ﻭَﺍﻟْﻘَﻠْﺐُ ﻳَﻬْﻮَﻯ ﻭَﻳَﺘَﻤَﻨَّﻰ، ﻭَﻳُﺼَﺪِّﻕُ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻔَﺮْﺝُ ﻭَﻳُﻜَﺬِّﺑُﻪُ

চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত।

কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা।

জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন।
হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ।
পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা।
অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে]
এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]।
{সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭,
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝতে পারলাম,সহশিক্ষা নাজায়েয ও ইসলাম বহির্ভূত।

সহশিক্ষা ও ইসলাম। (২)

এ হল সহশিক্ষা সম্পর্কে ইসলামী বিধি-বিধান।

এখন সহসাই প্রশ্ন জাগে,

বিরাজমান পরিস্থিতিতে মুসলমান যুবক-যুবতীদের করণীয় কী?

তারা কি কলেজ-ভার্সিটিতে শিক্ষা গ্রহণ করবে না বাসায় বসে থাকবে?

এ সম্পর্কে পাকিস্তান শরয়ী কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি মুফতী তাক্বী উসমানী (দাঃবাঃ) এক প্রশ্নের জবাবে বলেনঃ

সহশিক্ষা নাজায়েয ও হারাম। তবে বর্তমান সময়ে জেনারেল শিক্ষায় দ্বীনদারের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।সরকারী-বেসরকারি সমস্ত পদ-পদবীতে অমুসলিম -ফাসিকদের জয়জয়কার।

(আমি বলবঃআজ এই দেখুন আমাদের বাংলাদেশ! যেখানে সব কর্তৃত্ব অমুসলিম এবং বেদ্বীনদের হাতে।তাই বললে ভূল হবে না যে,
অমুসলিমরা জনসংখ্যা অনুপাতে সংখ্যালগু হলেও তারা সরকারী পদ-পদবীতে সংখ্যাগরিষ্ঠ)

সুতরাং বর্তমানে জেনারেল শিক্ষার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে,

যেমন ইবনে আবেদীন শামী রাহ,কতটুকু জ্ঞানার্জন ফরযে কেফায়া শীর্ষক আলোচনা করতে যেয়ে এক পর্যায়ে  বলেনঃ

وَأَمَّا فَرْضُ الْكِفَايَةِ مِنْ الْعِلْمِ، فَهُوَ كُلُّ عِلْمٍ لَا يُسْتَغْنَى عَنْهُ فِي قِوَامِ أُمُورِ الدُّنْيَا كَالطِّبِّ وَالْحِسَابِ.........................إلي أن قال............................................................................... وَالْعِلْمِ بِأَعْمَارِهِمْ وَأُصُولِ الصِّنَاعَاتِ وَالْفِلَاحَةِ كَالْحِيَاكَةِ وَالسِّيَاسَةِ وَالْحِجَامَةِ.

ফরযে কেফায়া মূলক জ্ঞানার্জন হচ্ছে।

(কেফায়া মানে যা কিছুসংখ্যক মুসলমান আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হয়ে যায়)

ঐ সমস্ত জ্ঞান যা পৃথিবীতে জীবনাতিপাতের ভিত্তি যেমনঃচিকিৎসাবিজ্ঞান,হিসাববিজ্ঞান,............

এবং শিল্পবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, র্রাষ্টবিজ্ঞান,ও হেজমাত তথা তৎকালিন এক প্রকার চিকিৎসাবিজ্ঞান।

(দ্বীনের ফরয জ্ঞানার্জনের পর যা অর্জন করা কিছু সংখ্যক মুসলমানের উপর ফরয)

রদ্দুল মুহতার,১/৪২;

তাই বলা যায় মুসলিম দেশের মুসলিম সরকারের জন্য ওয়াজিব যে,অচিরেই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।

প্রয়োজনে এ জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করা সমস্ত মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কিন্তু যতদিন পর্যন্ত এই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না হচ্ছে ,ততদিন প্রয়োজনের তাগিদে নিম্নোক্ত শর্তাদির সাথে কলেজ-ভার্সিটিতে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

১/শিক্ষা অর্জন দেশ ও মুসলিম জাতীর খেদমতের উদ্দেশ্যে হতে হবে।

২/চোখকে সব সময় নিচু করে রাখতে হবে,প্রয়োজন ব্যতীত কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকার দিকে তাকানো যাবে না।মহিলা/পুরুষ তথা অন্য লিঙ্গের  সহশিক্ষার্থীদের সাথে তো কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখা যাবেই না।সর্বদা অন্য লিঙ্গর শিক্ষার্থী থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।

ফাতাওয়া উসমানী ১/১৬০-১৭১;

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...